চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বছরের শুরুতে আন্দোলনে শিক্ষকরা, দুশ্চিন্তায় অভিভাবক

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১০ ১৯:৪১:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-১০ ১৯:৪১:১৯

ইমরান এমি.
সিটিজি টাইম্‌স প্রতিবেদক

বছরের শুরুতে বই হাতে পেয়ে আনন্দিত শিশুরা, সাথে অভিভাবকরাও। নতুন বছওে নতুন বই নতুন ক্লাস, অনেকের নতুন স্কুল যাত্রা নতুন পোষাকে। এ আনন্দের হঠাৎ ভাটা পড়ল শিক্ষকদের আন্দোলনে। বছরের শুরুতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় করণসহ ১১দফা দাবিতে ৯টি শিক্ষক কর্মচারী সংগঠন একত্রিত হয়ে গঠন করেছে শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি।
তাদের এগারো দফা দাবির মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদেও ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া, অনুপাত প্রথা বাতিল করে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগি অধ্যাপক, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, বেসরকারী প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের অনুরুপ বেতন স্কেল, শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্বেও ন্যায় টাইম স্কেল দেওয়া, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারিদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ পেনশন ভাতা চালু করা, ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকসহ বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারিদেও এমপিওভুক্ত করা, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জিডিপির ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% বরাদ্ধ রাখা, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো যুগোপযোগিকরন ও সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে বেসরকারী শিক্ষকদেও ৩৫% প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষে এশটি কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক কর্মচারি সংগ্রাম কমিটির নেতারা।

এ লক্ষে তারা সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বিগত ৯ জানুয়ারী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বারকলিপি পালন করেছে। আগামী ১৪ জানুয়ারী জেলা সদরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি, ২১-২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত স্ব স্ব এলাকার সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির/ পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় ও ২২ জানুয়ারী স্কুল, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবিরাম ধর্মঘট ও ২৮ জানুয়ারী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি এম ওসমান গণি বলেন, আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো, আন্দোলনের কারনে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা বিগত তিন বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের কোন ধরণের আশ্বাস না দিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির চট্টগ্রাম সৈয়দ রকিত উল্লাহ জানান, আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হচ্ছে না, কারণ ক্লাস হচ্ছে নিয়মিত, এছাড়া আমরা বিগত তিন বছর ধরে আন্দোলন করছি, বছরের শুরুতেই আন্দোলনের করার কারন কি জানতে চাইলে তিনি জানান বছরের শুরুতেই আন্দোলনের উপযোগী সময়, কারন অন্য সময়ে হলে পরীক্ষা থাকত বা ক্লাস করাতে হবে তাই শুরুতেই আন্দোলন করছি।