চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

শিমের রাজ্য সীতাকুন্ড, ফলন নিয়ে শঙ্কায় চাষীরা

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৭ ১২:০৯:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৭ ১৯:৫০:৩৪

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড শিমের রাজ্য হিসেবে বলা হয়। কারন পাশ্ববর্তী অন্যান্য এলাকার চেয়ে সীতাকুন্ডে শিম চাষ বেশি। শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় এই মৌসুমে চাষীরা সবচেয়ে বেশি শিম চাষ করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে লাভজনক এই চাষে চাষীরা কাঙ্খিত শিম বাজারজাত করায় আগ্রহও বেশি। তাইতো শিমের রাজ্য বলা হয় সীতাকুন্ডকে। তবে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারনে কাঙ্খিত ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তাই যে পরিমান অর্থ খরচ করে শিম চাষ করেছে সে অর্থ শিম বাজারজাতের মাধমে আয় করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় চাষীরা। তবে বৃষ্টির কারনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চিন্তার কারন নেই বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা।

জানা যায়, সীতাকুন্ডে প্রতিবারের মত এবারও চাষীরা শিম চাষ করেছে প্রচুর। শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় সবাই এই চাষে আগ্রহী বলে জানান চাষীরা। তবে গত কিছুদিন আগে পর পর দুবার বৃষ্টির কবলে পড়ে সদ্য শিম গাছে আসা ফুলে পছন ধরে। এতে করে শিম গাছের ফুলগুলো ঝরে যায়। বর্তমান সময়ে যে পরিমান শিম বাজারজাত হচ্ছে তার থেকেও অনেক বেশি শিম বাজারজাত করা যেত যদি বৃষ্টি না হতো। এ অবস্থায় শিমের কাঙ্খিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চাষীরা। তবে উপজেলার কিছু কিছু স্থানে আবার উল্টো। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি শিম বাজারজাত করছে চাষীরা। তাই উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ভাল ফলন হয়েছে বলেও জানা যায়।

পৌরসভাধীন ইদিলপুরের শিম চাষী মোঃ জাহাঙ্গীর জানান, আমি প্রতি বছর এই দিনটাতে শিমের চাষ করে থাকি। লাভও ভাল হওয়ার কারনে অন্য চাষ না করে শিম চাষ করি। তবে এই বছর বৃষ্টির কারনে সব শেষ। পূজি তুলতে পারি কিনা সন্দেহ আছে। চাষ জিনিসটাই এমন কখনো ভাল আবার কখনো খারাপ তাতে মন খারাপের কিছু নেই।

অন্যদিকে শিম চাষী জাফর মিয়া জানান, এবারের বেশির ভাগ শিম গাছ বৃষ্টির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে আবার অর্ধেকেরও বেশি শিম চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আমি বাজারজাতও করেছি ৩ বার। তবে আমার কিছু শিম চাষ অন্যদের মত এখনো ফুল আসেনি। কিছু কিছু গাছে সামান্য ফুল আসলেও সেগুলোর অবস্থা নাজুক।

বৃষ্টির কারনে শিম চাষে তেমন সমস্যা হবেনা জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা জানান, আমরা আশাবাদী কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে শিম চাষে। এবার উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর শিম চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ২ হাজার হেক্টর জমির আইলের মধ্যে। চাষীদের চিন্তার কারন নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির কারনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তেমন কোন সমস্যা হবেনা। শিম গাছের ফুল আসতে একটু দেরি হলেও শিম চাষে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা করেন।