চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

‘শুদ্ধাচারের বিজ্ঞাপন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা’

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৬ ২১:৩৪:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৭ ০০:২৯:২৬

মোহাম্মাদ রুহুল আমীন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু ১৯৮৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি।সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বর্তমান ফয়েজ লেকের ঠিক পাশেই ৬ একর জায়গার উপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ৬৭ প্রজাতির তিন শতাধিক পশু ও পাখি রয়েছে। শুরুতে চিড়িয়াখানায় প্রবেশমূল্য ছিল এক টাকা।পরবর্তীতে এই মূল্য বৃদ্ধি করে প্রথমে ২ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ৩,৪,৫,২০০৪ সালে ১০ টাকা, ২০১০ সালে ২০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারি হতে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।চিড়িয়াখানার আয়ের একমাত্র উৎস এই টিকিট বিক্রিত অর্থ এছাড়া আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি নির্বাহী কমিটি যার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তাকে সহায়তা করার জন্য কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে থাকেন। জেলা প্রশাসক সহ জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাই চিড়িয়াখানা হতে কোনো ধরনের সম্মানী গ্রহণ করেন না। মূলত সদস্য সচিবই জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের পরামর্শ এবং নির্দেশে সবকিছু দেখভাল করে থাকেন।

২.
২০১৪ সালের ৬ জুন বিকেলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন স্যার আমাকে ডেকে বললেন,তুমি দেখো ত চিড়িয়াখানার এই বেহাল দশা কেন,কারন খুজে বের করে সব ঠিকঠাক করবা, মনোযোগ দিয়া কাজ করবা, দায়িত্ব পাইয়া চিড়িয়াখানা বাদ দিয়া পাশের ফয়’স লেকে গিয়া বসে থাকবানা।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারনে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব কাংখিত মাত্রায় পালিত হয়নি বলেই হয়তো জেলা প্রশাসক মহোদয় আলাদাভাবে নির্দেশনা দিলেন। দায়িত্ব নিয়ে জানা গেল চিড়িয়াখানার একাউন্টে মোট টাকার পরিমান ১,৭৬,১২০/- মাত্র!! টাকা এত কম কেন? এই প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা জানালেন, এপ্রিল মাসে এক সাথে কয়েক মাসের বেতন দেয়া হয়েছে। মাসের বেতন মাসে দেয়া প্রায়ই সম্ভব হয় না।প্রতিমাসে প্রানীখাদ্য, স্টাফদের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ মোট খরচ প্রায় ৮/৯ লাখ টাকার মত অথচ ব্যালেন্স মাত্র পৌনে দুইলাখ!এই টাকা দিয়ে কি ঠিক করব ভাবতে লাগলাম। এই ত গেল আর্থিক অবস্থার চিত্র।এরপরে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে বের হলাম।দুর্গন্ধে ভরা জরাজীর্ণ আর বিবর্ণ চিড়িয়াখানা দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল।সর্বপ্রথম যেই খাঁচার সামনে দাঁড়ালাম সেখানে দেখা গেল তিতির নামের একধরনের মুরগী জাতীয় পাখি মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।মুরগী দিয়ে চিড়িয়াখানা দর্শন শুরু,এইটা আবার কি ধরনের চিড়িয়াখানা? জানতে চাইলে একজন জানালো এটা আসলে বাঘের খাঁচা।বাঘ না থাকাতে তিতিরপাখি রাখা হয়েছে,২০১২ সাল থেকে চিড়িয়াখানা বাঘশূন্য।সিংহের খাঁচার সামনে গিয়ে জানা গেল ২০০৬ সাল থেকেই একজোড়া সিংহী নি:সংগ অবস্থায় আছে। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখা গেল খাচার বাইরে ছোটখাটোমত একটা জটলা।কয়েকটা হনুমান আর বানর লাফালাফি করছে,তাদের ঘিরেই জটলা।জিজ্ঞেস করলাম এরা বাইরে কেন?এক কর্মচারী দাত বের করে হেসে জানালেন,খাঁচা ত বেশিরভাগই ভাঙাচোড়া। তাই ইচ্ছে হলেই এরা বের হয়ে যায়,চিন্তার কিছু নাই এরা পোষা।সন্ধ্যা হলে নিজ গরজেই খাঁচায় ঢুকে পড়বে।আমি বললাম,সিংহ বা ভাল্লুকেরও কি বের হবার সম্ভাবনা আছে? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য পাওয়া গেল না।পাহাড়ের উপরের দিকে মূল চিড়িয়াখানার অবস্থান হলেও নিচের দিকেও কয়েকটা খাঁচা রয়েছে কিন্তু নিচে নামার জন্য কোনো সিঁড়ি নাই।জিজ্ঞেস করলাম,দর্শনার্থীরা নিচে নামে কিভাবে ?উত্তর এল, একজন আরেকজন কে ধরে নামে।যারা একা আসে তাদের জন্য কি ব্যবস্থা?এই প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া গেল না।আমি কস্ট করে একজনকে ধরে নিচে নামলাম।নিচে নেমে দেখি উন্মুক্ত চিড়িয়াখানা!!কোনো সীমানা প্রাচীর নাই,যার যেমন ইচ্ছে ঢুকছে বের হচ্ছে।উত্তর দিকে গোটা পঞ্চাশেক বাচ্চা নিজেদেরমত দোলনা,নাগরদোলা ভাঙচুর করছে,খেলছে।দক্ষিন দিকে ময়লার বিরাট স্তুপ।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,এখানে কি সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন নিয়ম করে ময়লা ফেলে?এক কর্মচারী জানালেন, আশেপাশের লোকজন ময়লা ডাস্টবিনে না ফেলে এখানে ফেলে,কেউ কিছু বলে না ত তাই। তাছাড়া এদিকে আমরা আসি না।আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন আসেননা?

দর্শনার্থীরাই আসেনা কারন রিস্ক আছে,ছিনতাই হয়, খোলামেলা জায়গা। চিড়িয়াখানার প্রানীদের নিরাপত্তার জন্য হলেও অন্তত সীমানা দেয়াল থাকা দরকার ছিল-আমার এই মন্তব্যে একজন বলল,২৫ বছর ধরেই মিটিং এ আলোচনা হইতাছে,কেউ উদ্যোগ নেয় না।আরো কিছুদূর গিয়ে দেখা গেল চিড়িয়াখানা ঘেষে একটা দোকান।দোকানের পেছনে অনেকগুলো ছোটছোট খুপরিঘর, প্রতিটি ঘরে একটা ফ্যান আর একটা করে খাট পাতা।এখানে কি হয় জিজ্ঞেস করলে দোকানী জানান,কি অইব??কিছু অয় না।আবার চলে এলাম চিড়িয়াখানার মূল অংশে।রাস্তার অবস্থা পুরোটাই বেহাল,ইট বিছানো রাস্তা,জায়গায় জায়গায় ইট নাই।শীতকালে লোক সমাগম বেশি হলে চিড়িয়াখানা ধুলায় ঢেকে যায়,ধুলা দূর করতে ২০১৩ সালে নাকি চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে পানি পর্যন্ত কিনতে হয়েছিল।কয়েকজন স্টাফকে দেখলাম গোয়ালাদের মত কাধে করে পানি নিয়ে খাঁচায় যাচ্ছে।প্রশ্ন করার আগেই একজন বলল, খাঁচায় পানির লাইন নাই তাই এভাবে পানি দিতে হয়।কোন প্রানী কি খায় এই আলোচনায় জানতে পারলাম গরুর মাংস কিনতেই প্রতিমাসে একটা বড় অংকের টাকা খরচ হয়। সিংহ সহ আরো কিছু প্রানী আছে যারা গরুর মাংস খায়।

কিভাবে সংগ্রহ করা হয় গরুর মাংস? একজন জানালেন, একটা আস্ত গরু কিনে সেটা জবাই করে ফ্রিজে সংরক্ষন করে ৭/৮ দিন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয় এরপরে আবার আরেকটা গরু।দেখি ফ্রিজে কিভাবে মাংস সংরক্ষন করা হয়?এই প্রশ্ন করার সাথে সাথে জানা গেল,ফ্রিজ কয়েক মাস ধরে নস্ট।তাহলে গত কয়েক মাস কি গরুর মাংস কেনা হয় নি?উত্তর, না।এই কয়েকমাস সিংহ সহ অন্যান্য প্রানীরা কি খেয়েছে?উত্তর, মুরগী। তাহলে প্রতিমাসে গরুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে যে?এই প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া গেল না কারন কেনাকাটার সাথে জড়িতদের আগে এরকম প্রশ্ন করা হয়নি তাই তারা এর উত্তর জানেন না।টিকেট কাউন্টারে গিয়ে জানা গেল, টিকেট ছাপানো এবং বিক্রির কোন হিসেব রাখা হয় নি, প্রয়োজন পড়েনি বলেই রাখা হয় নি। টিকেটের হিসেব কেউ তাদের কাছ থেকে আগে নেয়নি।বুঝা গেল এখানে হিসেব নিকেশ এর কোনো প্রচলন নাই।খাবার ঘরে গিয়ে দেখা গেল সেটা যতটুকু অপরিষ্কার করে রাখা সম্ভব তার পুরোটাই আছে চাইলেও এর চেয়ে বেশি অপরিস্কার রাখা সম্ভব না।ক্রয়কৃত খাবারের একটা অংশ কেয়ারটেকাররা তাদের নিজ বাড়ির গরু ছাগলকেও দিতেন বলে জানা গেল।কুমির দুইটা থেকে বেড়ে ১৯ টা হলেও খাঁচার আয়তন বাড়েনি জায়গার অপচয় রোধ করতেই সম্ভবত এই অমিতব্যয়িতা।প্রানীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক থাকলেও হাসপাতাল নাই।কোয়ারেন্টাইন রুম নাই।দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট টয়লেটের অবস্থা অবর্ণনীয়।কর্মকর্তাদের নিজেদের অফিসের অবস্থাও অফিসসূলভ না।

৩.
১লা জানুয়ারি ২০১৮।দায়িত্ব গ্রহনের পর সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেছে।গত সাড়ে তিন বছর সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও শনিবার নিয়মিত একবেলা অফিস করেছি চিড়িয়াখানায়, কোনো কোনো সপ্তাহে এর চেয়েও বেশি হয়তো।সাড়ে তিন বছর পরের চিত্র-

তিতির পাখির খাঁচায় এখন একজোড়া বাঘ হেলেদুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে (৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)।তিতির পাখিকে আলাদা ঘর দেয়া হয়েছে পাখি হলেও তার ত একটা নিজস্ব প্রাইভেসী আছে সেটা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।নি:সংগ সিংহী পেয়েছে পুরুষ সিংহ যদিও সিংহীর কাছে আসা মাত্রই সিংহ থাবা খাচ্ছে।চিড়িয়াখানার চারদিক ঘিরে এখন সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর(৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে)।নিরাপত্তা নিয়ে এখন আর কাউকে চিন্তিত হতে দেখা যায় না।ময়লার স্তুপের জায়গায় এখন লোকজন বসে আড্ডা দিচ্ছি, যদিও এখান থেকে কয়েক ট্রাক ময়লা বাইরে ফেলতে হয়েছে ।মূল অংশ থেকে নিচে নামার জন্য সিঁড়ি বানানো হয়েছে, ধরাধরি করে নামার বিষয়টা এখন আর নাই।বানর-হনুমান এখন খাঁচা থেকে বের হতে পারেনা।পুরাতন খাঁচাগুলো ফেলে দিয়ে নতুন খাচা বানানো হয়েছে,খাঁচার ভিতরে দেয়া হয়েছে সুন্দর পরিবেশ।কুমিরের খাঁচা সম্প্রসারণ করে দ্বিগুণ করা হয়েছে,তাদের চলাফেরায় স্বাধীনতা বেড়েছে। ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে প্রধান ফটক।পশু পাখির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়ে ৩২১৬৪ বর্গফুট রাস্তা।এখন শীতকালেও চিড়িয়াখানায় ধুলা দেখা যায় না ।সমস্ত চিড়িয়াখানা এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়।নিচে বাচ্চাদের জন্য রয়েছে কিডস জোন।পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির জন্য নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ ড্রেইন।পাহাড় ধ্বসে প্রানীর খাচা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি না হয় তাই সুরক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ গাইড ওয়াল।দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান বানানো হয়েছে এখন আর কাউকে মাটিতে বসতে দেখা যায় না। দর্শনার্থীদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার। চিড়িয়াখানার তাপমাত্রা সঠিক রাখতে লাগানো হয়েছে এক হাজার ফলজ বৃক্ষ।অফিস ভবনটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রানীখাদ্য সংরক্ষনের জন্য নির্মান করা হয়েছে আলাদা স্টোর রুম,কোয়ারেন্টাইন রুম এবং অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক প্রানী হাসপাতাল।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।প্রতিমাসের ২৮ তারিখের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বেতন পেয়ে যাচ্ছেন।বেতন পাচ্ছেন সর্বশেষ সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী।দেয়া হয় বৈশাখী ভাতা এবং শীতের পোশাকও।আগামী মাসেই যুক্ত হচ্ছে ৬ টি জেব্রা।৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই জেব্রা সংগ্রহ করা হবে।আড়াই কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে গত সাড়ে তিন বছরে।ব্যাংকে এখন মোট ৬০ লাখ টাকা জমা আছে।এই উন্নয়ন কাজের ব্যয় আর জমা টাকা সবই টিকেট বিক্রিত আয়,কোনো অনুদান কিংবা সরকারি সাহায্য নাই।

৪.
কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর শুদ্ধাচার থাকলে ইতিবাচক পরিবর্তন কিরকম হতে পারে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা তার একটি বাস্তব উদাহরণ। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা হতে পারে শুদ্ধাচারের একটি সুন্দর বিজ্ঞাপন।

লেখকঃ সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটি। 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।