চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

হালদায় ৩ মাসে ১৫ ডলফিনের মৃত, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৬ ১২:৩৭:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৭ ০০:২০:৫৭

প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

মিঠা পানির আধার হালদা নদী। কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রও এ নদী। জৈববৈচিত্র সমৃদ্ধ এই হালদা নদীতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মরে ভেসে উঠছে বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারার গচ্ছাখালি খালের মাস্টার বাড়ির কালভার্টের নিচ থেকে মরে ভেসে উঠা একটি ডলফিন উদ্ধার করে উপজেলার মৎস্য কার্যালয়ের লোকজন।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি একই উপজেলার গড়দুয়ারা স্লুইসগেট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও একটি মৃত ডলফিন। গত তিন মাসে এভাবে ১৫ ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে।

যেগুলো ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত বিপন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শুক্রবার উদ্ধার করা ডলফিনটি লম্বায় প্রায় ৭ ফুট। ওজন প্রায় ১০০ কেজি। এর আগে উদ্ধার হওয়া ডলফিনটিও আকারে প্রায় সমান। ওজন প্রায় দুই মণ। ডলফিন দুটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত তিন মাসে হালদা নদীতে প্রায় ১৫টি ডলফিনের মরে ভেসে উঠেছে। ঠিক কি কারনে এই ডলফিনগুলোর মৃত্যু ঘটছে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে দখল-দূষণ, ড্রেজারে বালু উত্তোলন ও যন্ত্রচালিত বড় নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনগুলোর মৃত্যু হচ্ছে এটা সহজেই অনুমেয় বলে মত প্রকাশ করেন মৎস্য কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ডলফিনগুলো বিপন্ন প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। এগুলো মিঠা পানির ডলফিন। সারাবিশে^ এ প্রজাতীর ডলফিন ১১০০-১২০০টি আছে। আর হালদা নদীতে আছে এমন ২৫০-৩০০টি ডলফিন। যেগুলো নানা কারণে বিপদসংকুল।

হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, বালু তোলার ড্রেজার বা যন্ত্রচালিত বড় নৌযানের প্রপেলারের সঙ্গে আঘাতের কারণে ডলফিনগুলো মারা যেতে পারে। এর আগে ভেসে উঠা একটি ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

তিনি বলেন, হালদা নদী দখল ও দূষণের পাশাপাশি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালু পরিবহণে যন্ত্রচালিত বড় নৌযান চলাচল করছে। এতে ডলফিনের পাশাপাশি বড় বড় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ মাছও মারা পড়ছে। এটি আমাদের জন্য অশনি সংকেত।
তিনি বলেন, হালদার জীববৈচিত্র আমাদেরকে যে কোনো মুল্যে রক্ষা করতে হবে। বালু তোলা ও যন্ত্রচালিত নৌযান চলাচল বন্ধসহ দখল দূষণ থেকে হালদাকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ডলফিন বড় হওয়ায় সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তাই আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে মাটি চাপা দিয়ে রাখতে বলেছি। পরে কঙ্কাল তুলে সেগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণা করা যাবে।