চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

শেখ হাছিনার অধিনে নির্বাচন হচ্ছেনা: রামগড়ে ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৩ ১৮:৫৯:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৩ ১৮:৫৯:১৮

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আন্দোলনের প্রয়োজন হবেনা, নির্বাচন শেখ হাছিনার অধিনে হবেনা, নির্বাচন হবে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধিনে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বারবার জাতীকে বিভ্রান্ত করছে। নির্বাচনকালীন পুলিশসহ সব প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের কথা শুনবে তখন আর আমাদের কথা শুনবেনা সুতরাং এতে কারো আন্দোলনের দরকার হবেনা। যে নির্বাচন কমিশনের অধিনে কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচন হয়েছে জাতীয় নির্বাচনও সেই নির্বাচন কমিশনের অধিনেই হবে।

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার মহামুনি ও ভারতের সাবরুম মহকুমার দোলবাড়ী সীমান্ত সংযোগ ফেনী নদীতে মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনের এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার (৩ জানুয়ারী) রামগড় পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের জানান, মৈত্রী সেতু ১ নির্মানে আর কোন সমস্যা থাকবেনা, এখন থেকেই সেতুটি নির্মান শুরু হয়েছে যা আগামী ফেব্রুয়ারীতে পুরোধমে কাজ শুরু হবে। এসময় মন্ত্রী আরো জানান, সেতুর পাশাপশি রামগড়-বারইয়ার হাট ৩৮ কি.মি. সড়ক চার লেনে উন্নিত করার নীতিগত সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অতিথিরা সেতু নির্মান এলাকা পরিদর্শন করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অতুলনীয়ভাবে এগিয়েছে। ফেনী নদীর উপর প্রস্তাবিত এই ব্রীজ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ, ব্যবসা, পর্যটনসহ সু-সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করবে।

সম্প্রতি পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, বড় বড় সেতু, উড়াল সেতুর মত এসব বড়বড় মেঘা প্রকল্প নেয়ার সাহস, সদিচ্ছা ক্ষমতা আন্তরিকতা বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো বাস্তবায়ন দূরের কথা এসব মেঘা প্রকল্প নেয়ার সাহসও দেখাতে পারেনি। আর এখন পদ্মা সেতু যখন দৃশ্যমান তখন বিএনপির গাত্রদাহ বেড়ে গেছে। আর্ন্তজাতিক মানের কোয়লীতি যদি এনসিওর করা না হতো আমরা আগামী অক্টোবরের আগে পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্ত করতে পারতাম। পদ্মাসেতু এখন আর স্বপ্ন নয় এখন বাস্তব এটা দেখে বিএনপির নেত্রীর গাত্রদাহ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা খেয়াল রাখবো পদ্মা সেতু দিয়ে কে যায়।

এসময় খাগড়াছড়ির সাংসদ উপজাতীয় শরনার্থী ট্রাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক সাংসদ ও শরনার্থী ট্রাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যন্তিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খাঁন, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী, রামগড় পৌর মেয়র কাজী শাহজাহান রিপন, চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের এডিশনাল চীপ আফতাব হোসেন সহ বাংলাদেশ-ভারতের সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্চপদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে ভারত-বাংলাদেশের দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে ফেনী নদীর উপর রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতু-১ এর ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন করেন। মৈত্রী সেতু ১ নির্মানে গত ১২ জানুয়ারী দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাষ্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) সংস্থাটি ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২ বছর ৫ মাসের মধ্যে ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৮ মিটার প্রস্তের সেতুটি নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে দরপত্র আহ্বান করলে আগরওয়াল কনস্ট্রাকশন নামে গুজরাটের একটি প্রতিষ্ঠানকে সেতুটি নির্মানের জন্য মনোনিত করে ভারত সরকার। আর্ন্তরজাতীক মানের সেতুটি যুক্ত হবে রামগড় বারইয়ার হাট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে অপরদিকে ভারত অংশে নবীনপাড়া ঠাকুরপল্লি হয়ে সাব্রুম আগারতলা জাতীয় সড়কের যুক্ত হবে।