চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে পরিবহন ধর্মঘট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৩ ১৩:০৮:২৭ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৩ ১৭:৫৫:১৭

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে সকাল থেকে শুরু হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট।এক শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় হওয়ার জের ধরে চুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে অটোরিক্সা, বাস, ট্রাক ভাংচুরের প্রতিবাদে কাপ্তাই বাস মালিক সমিতি এই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।

পরিবহন ধর্মঘটের কারনে এই রুটে চলাচলকারী বিপুল সংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

জানা গেছে,চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট)’র এক ছাত্রের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার জের ধরে চুয়েট ছাত্ররা কাপ্তাই সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে ব্যাপক যানবাহন ভাংচুর চালিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কে আজ বুধবার থেকে সকল যানবাহন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে কাপ্তাই বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

মালিক সমিতির অভিযোগ গতকাল মঙ্গলবার রাতে চুয়েট ছাত্ররা প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী এই তান্ডব চালানোর পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক প্লাটুন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্ররা চুয়েটের ভিতর ১৬টি সিএনজি ট্যাক্সি এবং সড়কে ২টি বাস, মাইক্রো, ১০টি মোটরসাইকেল সহ মোট ২৬টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এসময় একটি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে।

চুয়েটের ১৪তম ব্যাচের তৌহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ছাত্র অভিযোগ করে বলেন ‘গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে চুয়েটের ইলেকট্রিকাল বিভাগের ‘১৪ তম ব্যাচের আরিফুল ইসলাম কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে চুয়েটে আসার সময় রাউজানের দমদমা এলাকায় সিএনজি ট্যাক্সি ড্রাইভারসহ আরো দুইজন গলায় ছুরি ধরে দুটি মোবাইল ফোন নগদ ২৫ হাজার টাকা, ১টি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তাকে ছুরিকাঘাত করে গলায় জখম করে। পরে আক্রান্ত আরিফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে গিয়ে বিষয়টি তাদের সহপাঠীসহ চুয়েটের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান।

স্থানীয় সূত্র জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্ররা গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা ১৬টি সিএনজি ট্যাক্সি আটক করে ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকিয়ে রাখে। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে অবস্থান নেয়। এতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দুইপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাহাড়তলী এলাকার স্থানীয় কিছু লোক, মালিক মোটরসাইকেল যোগে গিয়ে বিক্ষোভরত চুয়েট ছাত্রদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। এসময় উভয়পক্ষে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে চুয়েটে পূর্বেই ঢুকানো ১৬টি সিএনজি ট্যাক্সি ভাঙ্গচুর করে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার আরো বেশকিছু ছাত্র জড়ো হয়ে কাপ্তাই সড়কে এসে ২টি বাস, মাইক্রো, কার, মোটর সাইকেলসহ আরো দশটি যানবাহন ভাঙ্গচুর চালায়।

রাউজান থানার ওসি, নোয়াপাড়া পুলিশ, পূর্ব গুজরা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কাপ্তাই বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের গাড়ির কোন দোষ ছিল না। কিন্ত চুয়েটের ছাত্ররা আমার ব্যক্তিগত একটি বাসসহ দুটি বাস ভাঙচুর করেছে এবং অপর একটি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এছাড়া তারা সিএনজি ট্যাক্সিসহ অন্যান্য অনেক যানবাহন ভাঙ্গচুর করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা আজ বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাপ্তাই সড়কে বাস, সিএনজি চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি।

সিএনজি ট্যাক্সি চালক এবং অন্যান্য গাড়ির চালক, মালিকরা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন ‘একজন ছাত্র ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার নামে চুয়েটের ছাত্ররা অবরোধ ভাঙচুর করেছে। যে ছাত্র ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, সে এখন ক্যাম্পাসেই নেই। আন্দোলনরত ছাত্ররা তাকে আমাদের কাছে হাজির করতে পারেনি। হঠাৎ করে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।