চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

ব্রীজ পরিদর্শনে আজ রামগড়ে আসছেন ওবায়দুল কাদের ও ভারতীয় হাইকমিশনার

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৩ ০৯:৫৯:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৩ ০৯:৫৯:১৯

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

ফেনী নদীর উপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু ১ নির্মিতব্য ব্রীজ পরিদর্শনে আজ বুধবার খাগড়াছড়ির রামগড়ে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবধন শ্রিংলা। সফরকারে তাঁরা ফেনী নদীর উপর স্থলবন্দর মৈত্রী সেতু ১ নির্মিতব্য ব্রীজ পরিদর্শন শেষে রামগড় পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে পর্যালোচনা সভায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সফর সঙ্গীদের মধ্যে ভারতীয় দূতাবেসের দুইজন উর্ধতন কর্মকর্তা, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা, সড়ক ও সেতু বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও জেলা-উপজেলার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত থাকবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে মতে, নির্মাণাধীন প্রকল্পে ইতোমধ্যে ভারত সরকার তাঁদের অর্থায়নে ভারত অংশে এপ্রোচ রোড ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে এবং ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মানে চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এখন বাকী শুধু ফেনী নদীর উপর মৈত্রী সেতু ১ নির্মান ও বাংলাদেশ অংশে স্থলবন্দর অবকাঠামো নির্মান কাজ। ফেনী নদীর উপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু ১ নির্মানে গত বছরের ১২ জানুয়ারী দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাষ্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) সংস্থাটি ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২ বছর ৫ মাসের মধ্যে ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৮ মিটার প্রস্তের সেতুটি নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে দরপত্র আহ্বান করলে আগরওয়াল কনস্ট্রাকশন নামে গুজরাটের একটি প্রতিষ্ঠানকে সেতুটি নির্মানের জন্য মনোনিত করে ভারত সরকার। আর্ন্তরজাতীক মানের সেতুটি যুক্ত হবে রামগড় বারইয়ার হাট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে অপরদিকে ভারত অংশে নবীনপাড়া ঠাকুরপল্লি হয়ে সাব্রুম আগারতলা জাতীয় সড়কের যুক্ত হবে। ভারত অংশে সাব্রুম ছোটখীল রাস্তা হতে ফেনীনদী পর্যন্ত ১ একর ৫৭ শতাংশ জায়গা অধিগ্রহম চুড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ অংশে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে গত বছররের ২ জানুয়ারী খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্থল বন্দর উন্নয়ন মূলক পরামর্শ সভায় সেতুটি দ্রুত ভারতের অর্থায়নে ও সেতু নির্মানের পাশাপাশি বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে স্থলবন্দর অবকাঠামো নির্মানের বিষয়ে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কৃর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগষ্ট রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে রামগড় স্থলবন্দরসহ আটটি প্রকল্পের জন্য ৬৯৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে ভারত-বাংলাদেশের দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে ফেনী নদীর উপর রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতু-১ এর ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন করেন।