চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

সরকারি সহায়তা নির্ভর না হয়ে কর্মক্ষমতার মাধ্যমে উপার্জন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০২ ১১:১৫:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-০২ ১১:১৫:০৬

শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কর্মক্ষমতার মাধ্যমে নিজেদের উপার্জন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার জাতীয় সমাজসেবা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের অধিকতর কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন ও প্রবীণ নীতিমালা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দেশ গড়তে এসেছি, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়টুকু সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে চাই। দুর্নীতি করতে বা নিজের ভাগ্য গড়তে ক্ষমতায় আসিনি। দেশের প্রতিটি মানুষ বা নাগরিক যাতে মাথা উচু করে চলতে পারে সে জন্য কাজ করছি।

০১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ এর মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। দেশীয় পণ্যের উপস্থান সহজ হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে বলেই বেশিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। আমরা চাই, আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলবো না। পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের ওপর যখন দুর্নীতির দোষ দেওয়া হলো। আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম এটাতে কোনও দুর্নীতি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। নতুন শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে মেশিনারিজ আমদানিতে ট্যাক্স কমিয়েছিলাম। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। যাতে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে। বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। যেখানে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস দেওয়া হয়। বাজেটের আকার বাড়ানো হয়েছে। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ও আমদানির ৭৫ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে করি। এখন আর কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল। বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে বিস্ময়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা ৩৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি করতে পেরেছি। তবে রফতানি আরও বাড়াতে আমাদের নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করতে হবে। বিশ্বের কোন দেশে কোনও পণ্যের চাহিদা আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এরপর পণ্যের মান নিশ্চিত করত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিএনপি নেতারা সংসদে বলেছিলেন, ‘দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাহলে বিদেশের সাহায্য আসবে না।’ আমাদের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। কৃষির মধ্য দিয়েই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তবে আমাদের শিল্পেও যেতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি উন্নত হবে না। সেই কথা মাথায় রেখেই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

আজ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে প্রাপ্ত বয়স্ক ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ত ২০ টাকা।

এবার ৫৮৯টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ও স্টল নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে। থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উল্লেখযোগ্য সংযোজন ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর তথ্য কেন্দ্র। রফতানির টেকসই উন্নয়ন টেকনোলজি স্লোগানকে সামনে রেখে এখানে টাচ-স্ক্রীন সম্বলিত ডিআইটিএফ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার, ই-লিস্টিং অব পার্টিসিপেন্টস, মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার, মেলার ওপর মোবাইল অ্যাপস এবং অনলাইনে ডিজিটাল প্রচারণা।

মেলায় ১০০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বৃদ্ধি করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএমপি সিসিটিভি মনিটর করবেন। প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোভার স্কাউটরা থাকবে।

এছাড়া বাণিজ্য মেলাকে পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুর-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, গুগলে দেশ-বিদেশ থেকে যে কেউ, যে কোন সময়ে অনলাইনে বসে বাণিজ্যমেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ৩৬০ ডিগ্রি ইনসাইডসহ বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি, তাঁর জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে উপভোগ করা যাবে। ডিআইটিএফ-২০১৮ এর লে-আউট প্লান এবার ডিজিটাল ব্লো-আপ বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, প্রতিবারের মতো এবারও নতুন আঙ্গিকে মেলা চত্বর সাজানো হয়েছে। পদ্মা সেতুর আদলে মূল ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন আকারে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এ প্যাভিলিয়নটি নান্দনিক করে সাজানো হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম, দেশী-বিদেশী সকলে দেশ ও বঙ্গবন্ধুর সত্যিকার ইতিহাস জানতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যের এই ইতিহাসকে ম্লান করার চেষ্টা করেছিল স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া। ৭ মার্চের ভাষণ উচ্চারণ করতে দিতে চায়নি। আমাদের মাইক কেড়ে নেয়া হতো। সেই ভাষণ আজকে বিশ্বস্বীকৃত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে গণ্য হয়েছে।’

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই এবারের নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সুতরাং আশা করবো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কারো জন্য অপেক্ষা নয়, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে।