চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা, আছে বেতনধারী পিএস

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০১ ২১:২৪:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০১-০২ ১১:৩২:১৫

ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ। নিখোঁজ এক কলেজ ছাত্রীর অনুসন্ধানে নেমে সোমবার রিয়াদ বিন সেলিম (৩৫) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়; উদ্ধার করা হয়েছে ছাত্রীকে।

রিয়াদ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানের লেকচারার পরিচয়ে নিয়েছেন বাসা ভাড়া। চুয়েট থেকে প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর এবং আরবিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয়ে অভিজাত পরিবারের এক তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। ফেসবুকে ব্লাড ডোনার গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন টাকাপয়সা। কলেজের গণ্ডি পেরুতে না পারা এই ব্যক্তির আসলে দৃশ্যমান কোন পেশাই নেই।মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন ব্যক্তিগত সহকারীও (পিএস) রেখেছেন রিয়াদ।

সোমবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রিয়াদ ও তার পিএস সেলিমকে নগরীর ‍বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম) পলাশ কান্তি নাথ জানান, রিয়াদ নিজেকে কখনও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসি, এশিয়ান ইউমেন্স ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দেন।আবার কখনও ম্যাজিস্ট্রেট, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রামের সভাপতি ও ব্ল্যাড ডোনেটিং ক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক করত রিয়াদ। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করে টাকা হাতিয়ে নিত।বছর দুয়েক আগে চট্টগ্রামের এক কলেজছাত্রীর গৃহকর্মীর চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল। ফেইসবুকে রিয়াদ ব্ল্যাড ডোনেটিং ক্লাবের সদস্য পরিচয় দেওয়ায় রক্তের জন্য ওই ছাত্রী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে রিয়াদের সঙ্গে ওই ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে। গত ২৬ ডিসেম্বর ওই কলেজছাত্রী বাসা থেকে পালিয়ে রিয়াদের কাছে চলে যান। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আকবর শাহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।”

এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রিয়াদকে গ্রেপ্তার করে ওই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি।

অভিজাত পরিবারের তরুণীকে নিয়ে পালানোর পর নগরীর আকবর শাহ থানায় সম্প্রতি একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের হয়। এর ভিত্তিতে রিয়াদকে আটকের কথা জানিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, তরুণীর বাসার গৃহকর্মী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার জন্য রক্ত খুঁজতে গিয়ে ফেসবুকে রিয়াদের খোলা ব্লাড ডোনারস ক্লাবের সন্ধান পান ওই তরুণী। রিয়াদ নিজেকে চুয়েট থেকে এমএসসি পাস বলে পরিচয় দেয়। কিছুদিন ইপিজেডের একটি কারখানায় চাকুরির পর বর্তমানে আরবিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দেয়। বাবা এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এমন পরিচয়ও দেয়।

‘তরুণীকে প্রলুব্ধ করার পর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাসখানেক আগে তারা পালিয়ে যায়। তবে পরে তরুণী রিয়াদের প্রতারণা বুঝতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক পর্যায়ে আকবর শাহ থানায় একটি জিডি করা হয়।

কল্পলোক আবাসিক এলাকার বাসাটি রিয়াদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন।

রিয়াদ নিজেকে নিরাপদ সড়ক চাই, চট্টগ্রাম এবং পটিয়া থানা ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় দিত বলে জানিয়েছেন অভিযানে থাকা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিবেন বিশ্বাস।

এডিসি পলাশ কান্তি নাথ বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি রিয়াদের বাবা একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকুরি করেন। রিয়াদ ফ্ল্যাট ও গাড়ি বিক্রির মধ্যস্থতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্য, গ্যাসের ঠিকাদারি ব্যবসার নামেও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এছাড়া আরবিএস গ্রুপের নামে খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও আমরা পেয়েছি।

‘ফেসবুকে ব্লাড ডোনার গ্রুপ ছিল তার প্রতারণার মূল হাতিয়ার। রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে রোগীর চিকিৎসার কথা বলে টাকা নিত।

পলাশ কান্তি বলেণ, “উদ্ধারের পর ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসলেও ভাইয়ের মৃত্যুর কথা বলে তাকে বিয়ে করেনি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তিনি রিয়াদকে টাকাও দিয়েছেন।”

এছাড়াও রিয়াদ ওই ছাত্রীর দুই বান্ধবীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছেন।