চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০১ ১৫:২১:৫১ || আপডেট: ২০১৮-০১-০১ ১৫:২১:৫১

রাঙামাটিপ্রাক-প্রাথমিকের পর এ বছর নতুন করে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুদের জন্য প্রথম শ্রেণিতে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ২০১ ৮ সাল থেকে সরকার এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথম শ্রেণিতে এবার মাতৃভাষায় থাকবে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় পড়তে পারে মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ২০১৭ সালে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুদের জন্য সরকার নিজ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। ১ জানুয়ারি বই উৎসবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় শিক্ষক সহায়িকা ও শিখন চর্চা খাতা পাবে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা।

পাহাড়ের শিক্ষাবিদদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া শুরু করা হয়েছিল মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া এ বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের কোনও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করার ফলে সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তারা মনে করেন, যেহেতু সরকার এবার প্রথম শ্রেণি শুরু করছে সেহেতু বই বিতরণের আগেই তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করা গেলে শিক্ষকরা মাঠ পর্যায়ে ক্লাস শুরুর দিন থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারতেন।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়- এ বছর চাকমা ভাষায় ১০ হাজার ৬৫৩, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ১০৮ ও ত্রিপুরা ভাষার জন্য ৭৭০ জনকে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক বই দেওয়া হবে। আর প্রথম শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ৭ হাজার ৩৮৫, মারমা ভাষায় ৮৯৩, ত্রিপুরা ভাষার জন্য মাত্র ৬০০টি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। আর গত বছর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় চাকমা ভাষায় ১০ হাজার ৮২, মারমা ভাষায় ২ হাজার ১৬৬ ও ত্রিপুরা ভাষায় জন্য ৫৮৩ জন বই পেয়েছিল।

শিক্ষাবিদ ও রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিরূপা দেওয়ান বলেন, ‘এই কার্যক্রমটি শুরু করার আগে আরও প্রস্তুতির বিষয় ছিল বলে আমার মনে হয়। প্রস্তুতি না নিয়ে শুরু করা কতটুকু যৌক্তিক তারাই ভালো বুঝবেন। অনেক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই। তাহলে তারা কিভাবে শিক্ষার্থীদের শিখাবেন। আর যেহেতু প্রথম শ্রেণি চালু হয়েছে, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ করা গেলেই বছরের প্রথম দিন থেকেই শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় পড়তে পারতো।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, ‘শুরু করতে হবে বলেই শুরু করা এমনটাই মনে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকলে এই শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে শিশুদের পঙ্গু করে দেওয়ার মতো অবস্থা হবে। কারণ যেখানে শিক্ষকরাই ভালো করে প্রশিক্ষিত না সেখানে শিক্ষার্থীরা কিভাবে শিখবে।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে চাকমা ভাষার জন্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসন্ন চাকমা বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে জেলা পরিষদ ব্যাপকভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিতে পারবে না। তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাঙামাটি জেলা পরিষদ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী বলেন, ‘জেলা পরিষদ গত বছর ১০ উপজেলা মিলিয়ে আমরা ৩৬২ জনকে ১৪ দিন করে তাদের মাতৃভাষায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এ বছর ১০ উপজেলা মিলিয়ে ৭৬৩ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য জেলা পরিষদে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। যা আগামী জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারিতে শুরু করতে পারবো বলে আশা রাখি।’