চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে বছরের শেষ সুর্যাস্তটাও দেখা হলো না পর্যটকদের

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০১ ১০:৪২:১১ || আপডেট: ২০১৮-০১-০১ ১০:৪২:১১

প্রধান প্রতিবেদক,  সিটিজি টাইমস 

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকি সমূদ্র সৈকতে বসে এবার বছরের শেষ সূর্যাস্তের দৃশ্যও দেখা হলো না বিনোদন পিয়াসীদের। সুর্যাস্তের আগেই বেঘোড়ে পর্যটকদের তাড়িয়ে দিল পুলিশ প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। তাতে মনকষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরেছে অনেকে।

রবিবার বিকেলে পুলিশের তাড়া খেয়ে মলিনমুখে বাড়ি ফেরার সময় পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকতের প্রবেশমুখে দেখা হয় চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার দক্ষিণ বাকলিয়ার সুজয় মূৎসদ্দীর। এ সময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী ও কোলে তিন বছর বয়সি বিমান মুৎসদ্দী।

সুজয় মূৎসদ্দী বলেন, চাকরি জীবনে বেড়ানোর সুযোগ পাই না। বর্ষবরণ ও বিদায়ের আনন্দে সাগরের পাড়ে একটু বেড়াতে আসলাম। ভেবেছিলাম অন্তত বছরের শেষ সুর্যান্তটা দেখব। তাও দেখতে দিল না। পুলিশ সবাইকে ৫ টার আগেই সৈকত ত্যাগের জন্য তাড়া করল।

একই কথা বলেছেন, চট্টগ্রামে হাটহাজারী থানার সদর এলাকার ব্যবসায়ী আব্বাস হোসাইন। তিনি বলেন, স্ত্রী-শ্যালিকা ও বোনকে নিয়ে একটু বেড়াতে এসেছি পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকতে। তাতেও পুলিশের হানা। এ যেন পুলিশের রাম-রাজত্ব। যা পৃথিবীর কোন দেশে নেই।

তিনি বলেন, আরব বিশে^ ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি বিনোদন জগতের সবচেয়ে খারাপ কাজটিও হয়। তাতে কে করছে তা কেউ দেখে না। বরং কারো সমস্যা হলে পুলিশ সেবা দেয়। এ দেশ দিন দিন যেন আজব দেশে পরিণত হচ্ছে।

আলাপকালে কয়েকজন পর্যটক জানান, বছরের শেষ দিনে রবিবার দুপুর থেকে বিনোদন পিয়াসী মানুষের ঢল নামে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত ও আনোয়ারা পারকি সমূদ্র সৈকতে। কিন্তু বিকেল ৪ টার পর থেকে শুরু হয় পুলিশের তাড়া।

পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি হারুনর রশিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত উম্মুক্ত থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসে। রবিবার বছরের শেষ দিন হিসেবে দুপুর থেকে প্রায় এক লাখেরও বেশি পর্যটক জমায়েত হয়।

তিনি বলেন, সমূদ্র সৈকতে সুর্যাস্ত দেখার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। বছরের শেষ সূর্যাস্তটাও এখানে বসে দেখবে এমন আসা ছিল পর্যটকদের। কিন্তু বেরসিক পুলিশ সূর্যাস্তের আগেই পর্যটকদের বেঘোড়ে তাড়াতে শুরু করে। এমনকি পুলিশের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট সৈকতের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে হানা দিতে শুরু করে। এতে অনেকে হোটেল-মোটেল ও দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। সূর্যাস্তের আগেই পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত।

আনোয়ারা পারকি সমূদ্র সৈকত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলামও জানান একই কথা। পুলিশের ভ্রাম্যমান আদালতের কারনে সৈকতে আসা ৬০-৬২ হাজার পর্যটক সূর্যাস্তের আগেই ফিরে গেছে। সূর্যান্তের সময় পুলিশ ছাড়া সৈকতে আর কেউ ছিল না বলে জানান তিনি।

শুধু সমূদ্র সৈকত নয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার ফয়েসলেক, চিড়িয়াখানা, স্বাধীনতা পার্ক, নেভাল, সিআরবি, আগ্রাবাদ ও কাজীর দেউরি শিশু পার্কসহ সকল বিনোদন কেন্দ্র থেকে সূর্যাস্তের আগে পর্যটকদের তাড়া করেছে পুলিশ। এ নিয়ে বিনোদন পিয়াসীরা না শুনে মতো পুলিশকে গালি দিতেও ছাড়ছে না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও যে কোনো অঘটন রোধে সরকার এবার বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উদযাপনে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এরমধ্যে চার দেয়ালের বাইরে কোনো রকম উম্মুক্ত স্থানে থার্টি ফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া সকল বিনোদনকেন্দ্র থেকে বছরের শেষ সূর্যাস্তের আগেই পর্যটকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আর এই নির্দেশনা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকি সমূদ্র সৈকতসহ যেসব বিনোদন কেন্দ্রে অনৈতিক ও অসামাজিক কাজের সম্ভাবনার তথ্য রয়েছে সেসব বিনোদন কেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেঁস্তোরায় পুলিশের বিশেষ নজরদারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ইংরেজি নববর্ষ বরণ ও বিদায়ে নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তরুণ-তরুণীরা উৎসবে মেতে উঠে। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমূদ্র সৈকতে এবারের মত কখনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এতে সচেতন মহল স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মোখলেছুর রহমান জানান, এবারের ইংরেজি নববর্ষ বরণ ও বিদায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজার পুলিশ নগরীর বিভিন্ন ¯পটে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৩০০ র‌্যাব সদস্য নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে।