চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

একটি সেতু বদলে দিতে পারে ২০ হাজার মানুষের ভাগ্য

প্রকাশ: ২০১৮-০১-৩১ ১০:৪১:২২ || আপডেট: ২০১৮-০১-৩১ ২১:০১:২৬

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলের পশ্চিম মায়ানী এলাকায় একটি সেতু বদলে দিতে পারে ২০ হাজার মানুষের ভাগ্য। মায়ানী, মঘাদিয়া ও সাহেরখালী ৩ ইউনিয়নের মোহনায় একটি বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়েই সাহেরখালীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মৎস্য, কাঁকড়া, উপকূলীয় বন থেকে আহরিত জ্বালানী ও নানা খাদ্যদ্রব্য প্রতিদিন ১৩নং মায়ানী ইউনিয়ন, ১৪নং হাইতকান্দি ও ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়ন সহ মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় । সকলেই অনেক দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে পাড়ি দেয় এই সাঁকো। এলাকাবাসীর দীর্ঘকালের দাবী এই খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ করার। উপজেলার ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার সংলগ্ন সাহেরখালী স্লুইসগেইটে যাওয়ার একমাত্র খালে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সাঁকো।

নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পরে কেউ আর খবর নেন না উন্নয়ন বঞ্চিত চরাঞ্চলবাসীর। উপজেলার মায়ানী, মঘাদিয়া ও সাহেরখালী ইউনিয়নের সংযুক্ত এ খালের পাশের তিনটি ইউনিয়ন প্রায় ২০ হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। মাত্র একটি ব্রিজ বদলে দিতে পারে এই অঞ্চলের ২০হাজার মানুষের ভাগ্যের চাকা।
উপজেলার অবহেলিত চরাঞ্চলের জেলেপাড়ার মানুষ গুলো। এই একটি বাঁশের সাঁকো উপর দিয়ে তিন যুগ ধরে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে জনপ্রতিনিধিরা। নির্বাচনের সময় উনয়নের ফুল ঝুড়ি দিয়ে ভোট নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের দূর্ভোগের কথা ভুলে যায় তারা।
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা পশুরাম জলদাস জানান, এই সাঁকো দিয়ে দৈনিক ৪-৫ হাজার মানুষ চলাচল করে, জলদাসের তিন গ্রামের এই সাহেরখালী স্লুইসগেইট ঘাটে দৈনিক হাজার হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। এটি সেতু নির্মিত হলে এখানে বসবাসরত মানুষ্যের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

সাঁকো দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত কারী হুমায়ুন কবির বাবুল, আবদুল কাইয়ুম, আবদুস সালাম, নুর উদ্দিন, বাহার উদ্দিন জানান, সাঁকোটির দুই পারের মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে পারাপার হতে হয়। বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। সাঁকোটি সেতু নির্মাণ হলে চরাঞ্চলের মানুষের পড়ালেখার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

কৃষক আহসান উল্লাহ, ধনা মিয়া, জদু জলদাশ, শম্বু জলদাশ আক্ষেপ করে বলেন, দেশে এখন ডিজিটালভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এলাকা দেখলে তা মনে হয়না। আউশ ও আমন মৌসুমে জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি নিতে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া এখানে শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু একটি ব্রিজের অভাবে ৫ কিলোমিটার ঘুরে বেশি গাড়ি ভাড়া দিয়ে বাজারে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচল করতে অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে এই খালে একটি ব্রিজ করে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে ১৩নং মায়ানী ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, সাহেরখালী খালের উপর বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী দ্রুত সেতু নির্মাণে। আমরা গত অর্থ বছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের থেকে ৫৬ লক্ষ টাকার বরাদ্ধ পেয়েও দুর্ভাগ্য বশত আর্থিক সংকট দেখিয়ে ব্রিজটি বরাদ্ধ বাতিল করা হয়। তবে আমরা আশা রাখছি চলতি অর্থবছরের এই দাবী বাস্তবায়নের জন্য গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী নিজে ও ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা করছেন। আশা করছি এখানে একটি আধুনিক মানের সেতু খুব শীঘ্রই দেখতে পাবে এলাকাবাসী।