চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে বাম নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, সমাবেশ পণ্ড

প্রকাশ: ২০১৮-০১-৩০ ২২:২৪:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-৩১ ১০:৪৫:৪১

মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর চেরাগির মোড়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ডাকা সংহতি সমাবেশ ছাত্রলীগ করেছে। হামলার পর পণ্ড হয়ে গেছে তাদের সমাবেশ। ছাত্রলীগ কর্মীরা এসময় দুই বামপন্থী নেতাকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাদের রক্ষা করতে গিয়ে আরও কয়েকজন বামপন্থী নেতাকর্মী ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা নীরব ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে পুলিশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিল ও ছাত্রজোটের সংহতি সমাবেশস্থল দখলে সহযোগিতা করেছে বলে জানা গেছে।

নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের উপস্থিতিতে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রগতিশীল ‍ছাত্রজোট একটা মিছিল এনেছিল। সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। এরপর তারা নিজেরাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। আমরা বরং ছাত্রলীগ যাতে কোন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য মিছিল-সমাবেশের সময় তাদের কর্ডন করে রেখেছিলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে চেরাগির মোড়ে পিপলস ভয়েস নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন পাহাড় কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিল। ছাত্রজোট ও বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংহতি সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছিল।

বিকেল ৪টার দিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একটি মিছিল আন্দরকিল্লার মোড় থেকে চেরাগির দিকে আসছিল। মোমিন রোডে হঠাৎ ২০-২৫ জন যুবক হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে মিছিলরতদের ধাওয়া দেয়। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এরপর এসব যুবক চেরাগির মোড়ে গলির ভেতরে ঢুকে ছাত্রলীগের নামে স্লোগান দিতে দিতে গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন নাসু এবং গণসংহতি, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি, ছাত্রফ্রন্টের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আদিলের উপর হামলা চালায়। উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের কিল-ঘুষি মারতে থাকে।

পরে চেরাগির মোড় থেকে মিছিল নিয়ে ৫০-৬০ জন যুবক প্রেস ক্লাব ঘুরে চেরাগির মোড়ে যেখানে প্রগতিশীল জোটের সংহতি সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল সেখানে সমাবেশ করে।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিক রিয়াদ বলেন, হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের হাজারী লেইনে সিপিবি অফিসে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শহীদ মিনার অভিমুখে মিছিল করে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা মৃণাল চৌধুরী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মছিউদ্দৌলা ও রাহাতউল্লাহ জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক অপু দে, গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন নাসু, গণসংহতি, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি এবং প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা মিছিলে ছিলেন।

মিছিল শহীদ মিনার পর্যন্ত যাবার পর সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।