চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের স্পিন কৌশল কি বুমেরাং হতে পারে?

প্রকাশ: ২০১৮-০১-৩০ ১০:২৮:১৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-৩০ ১০:২৮:১৬

চট্টগ্রাম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে দল ঘোষণা করেছে, তাতে ডাক পেয়েছেন ছয়-ছয়জন স্পিনার। অর্থাৎ ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে ছয়জনই স্পিনার। সাকিব আল হাসানের ইনজুরির পর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডে।

প্রথমে বাহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ও লেগ স্পিনার তানবির হায়দারকে দলে নেয়া হয়। এরপর প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ডেকে পাঠানো হয় আরেক বাহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে। এর আগেই স্কোয়াডে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম এবং এখনো কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ না খেলা নাঈম হাসান।

শ্রীলঙ্কা ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ক্রিকেট দল। ঐতিহ্যগতভাবেই শ্রীলঙ্কা স্পিনে ভালো খেলে। আর এই দলে আছেন এই মূহুর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিন নির্ভর স্ট্র্যাটেজি কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক ক্রিকেট বোদ্ধার মনে।

বিশ্লেষণ
একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো না খেললেও টেস্টের জন্য শ্রীলঙ্কার দলের সাথে যোগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ রঙ্গনা হেরাথ। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তেমন ভালো না করলেও এই স্পিনারের ওপর অনেকটা নির্ভর করবেন লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল।

৮৭টি টেস্ট খেলে এরই মধ্যে ৪০৬ উইকেট নিয়েছেন হেরাথ।

বাংলাদেশের সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক মনে করেন, উইকেট যেমনই হোক সঠিক স্পটে বল ফেলাটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে সেশন বাই সেশন বল করে যেতে হয়, তাই দু’দলের জন্য হয়তো সমান খেলা হবে।

তবে তিনি যোগ করেন, যেহেতু শ্রীলঙ্কার কোচ বাংলাদেশের শক্তিমত্তা বা দুর্বলতা উভয়ই ভালো জানেন, তাই তাঁর জন্য পরিকল্পনা সাজানো সহজ হবে। কিন্তু বাংলাদেশ লঙ্কান দল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

রফিকের মতে, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা স্পিননির্ভর হবে, এটা এখন অনেকটাই প্রথাগত ব্যাপার। তাই এই প্রথার বাইরে বের হওয়া কঠিন। এর মধ্যেও লড়তে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে ভালো করতে হলে চমক থাকতে হবে।

চট্টগ্রামে ৩১শে জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রথম টেস্ট।

ঐ ম্যাচ কাভার করতে যাওয়া ক্রিকেট সাংবাদিক সাজ্জাদ খানের কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এমন স্পিন নির্ভর পরিকল্পনার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই কৌশলে টেস্ট সিরিজে জয়ের ফলে বাংলাদেশ এখন স্পিনের ওপর বেশি ঝুঁকে পড়েছে।

তার মতে, স্পিন দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে কাবু করার চিন্তা উল্টো ফলাফল যদি নাও আনে, অন্ততপক্ষে দু’দলের স্পিনারদের লড়াইটা উপভোগ্য হবে। যেমন হেরাথ আর রাজ্জাকের দ্বৈরথের ওপর নির্ভর করবে সিরিজের অনেক কিছু।

তবে বাংলাদেশের সবগুলো বড় টেস্ট জয়ে সাকিবের ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে সাকিবের অভাব দল অনুভব করবে বলে মনে করেন এই ক্রিকেট সাংবাদিক।

বিসিবি কী ভাবছে?
দল নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, অভিজ্ঞতা একটা বড় ব্যাপার – যাদের নিয়েছি তাদের মধ্যে সানজামুল বা নাঈম এখনো টেস্ট খেলেনি, তাইজুল এখন তেমন ফর্মে নেই। তাই খুব বেশি যে স্পিন-নির্ভর, এটা বলা যায় না।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার কারণেই রাজ্জাককে নেয়া হয়েছে, এমনটা জানান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর। তিনি মনে করেন রাজ্জাকের অভিজ্ঞতাটাও ভালো কাজে দেবে এখানে। তবে তার ওপর বাড়তি চাপ নেই- বাংলাদেশের যারা পুলভুক্ত ক্রিকেটার তাদের সবার কাছেই সমান প্রত্যাশা থাকবে।

তিনি আরো যোগ করেন, টেস্টে এর আগেও আমরা তিনজন স্পিনার নিয়ে খেলেছি, দলের প্রয়োজনে যেটা দরকার সেটাই করা হবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা চলতি সিরিজে দুটি টেস্ট খেলবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান মনে করেন বাংলাদেশ দলের মূল সমস্যা এখন ব্যাটিং। যদি উইকেট ভালো হয় তাহলে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পাবে বলে আশাবাদী তিনি।

বিবিসি বাংলাকে আকরাম খান বলেন, ছয়জন স্পিনার মানেই কিন্তু একাদশ স্পিন নির্ভর নয়। এখানে ম্যাচের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উইকেট স্বভাবতই স্পিন নির্ভর হয়, তবে সেখান থেকেও আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে আগে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকেও সমীহ করছেন সাবেক এই অধিনায়ক। আকরাম খানের মত, লঙ্কান দল ওয়ানডেতে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। স্পিনে দু’দলই সমান ভালো।

বাংলাদেশের জন্য ভারত বা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়াটা কঠিন, বলেন আকরাম খান।