চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

‘বড়লোকের’ বাড়ি জঙ্গিবাদের কারখানা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৭ ১৭:২২:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৭ ১৭:২২:৪৪

উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই এখন জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসায় যারা পড়ে তারা কখনও জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিতে পারে না।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের এক সমাবেশে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয়করণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সবাবেশে সকালে যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কখনও জঙ্গিবাদে জড়াতে পারে না।
শিক্ষামন্ত্রীও একই বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, মাদ্রাসায় যারা পড়েন তারা কখনই জঙ্গিবাদে দীক্ষা লাভ করতে পারেন না। জঙ্গিবাদে তারাই উদ্বুদ্ধ হয় যারা বড়লোকের ছেলে মেয়ে। তারাই জঙ্গিবাদের আসল কারখানা।’
বাংলাদেশে ১৯৯০ দশকে জঙ্গি তৎপরতা শুরুর থেকেই কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়ারাই এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলে প্রমাণ আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ধরনের জঙ্গি তৎপরতায় আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত উচ্চবিত্ত শ্রেণির ছেলেমেয়েদেরও জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারদের সিংহভাগই মাদ্রাসার ছাত্র বলে পুলিশের প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে।
১২ মার্চ রাজধানীতে ১৪ দেশের পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মেলনের প্রথম দিন পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা ‘বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান’ শীর্ষক প্রবন্ধে বাহিনীটির শীর্ষ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৯০ দশক থেকেও জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা শুরু। গত বছর পর্যন্ত জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে আটকদের বেশিরভাগই কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। যারা মুসলমানের প্রকৃত ইসলামিক শিক্ষায় দীক্ষিত হতে পারে না তারাই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।’
মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে অবশ্য কোনো ‍সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার কাজ হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট গিয়ে আপনাদের ব্যাপারে আপনাদের পক্ষে হয়ে কথা বলা। এই দাবির ব্যাপারে আমার এখানে কিছু বলে ফেলা তা আপনাদের কাছে সঠিক হবে না। আমার ক্ষমতা নাই সেই সাথে দেয়াও হয় নাই। আমি বাহবা বলার জন্য কোনো কিছু বাড়ায় বলি না।’
‘আমি হলাম আপনাদের কর্মী। আপনারা আমার সাথে কথা বলবেন, দাবি দাওয়ার ব্যাপারে বলবেন। আর আমি এই তথ্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পৌঁছাইয়া দিব। তিনি আমাদের সকল সমস্যা বিবেচনা করে আমাকে এর ফলাফল জানিয়ে দেবেন।’
বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা, কওমি শিক্ষাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি হবে ধর্মীয় শিক্ষা।’
সরকার মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর করা,  ৩৫টি মাদ্রাসাকে নিয়ে মডেল মাদ্রাসা করা, মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালুর কথাও জানান মন্ত্রী।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, ‘তারা নির্বাচনের আগে বলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশ থেকে ইসলাম চিরতরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের ইমান দুর্বল। আমি নয় বছর ধরে বাংলাদেশ ঘুরে বেড়ানোর পড়েও তাদদের সময়ের একটি মাদ্রাসা ভবন করা দেখি নাই। আমরা ক্ষমতায় আসার পর এক হাজার ৩৫০টি মাদ্রাসা ভবন তৈরি করেছি।’
আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য ৩০ একর জমি বরাদ্দের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী যেন মেডিকেল কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হতে পারেন সেই ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি।’