চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

হালদা ডলফিন শূন্য হবার পথে

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৬ ১৭:৪০:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৬ ১৭:৪০:৪০

বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক মাছ প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদী দূষণের কারণে ডলফিনশূন্য হবার পথে। সম্প্রতি হালদায় বেশ কিছু ডলফিন মারা গেছে। প্রাণিবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, হালদায় বিপন্ন প্রজাতির গাঙ্গেয় ডলফিন নিশ্চিহ্ন হবার পথে রয়েছে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে শুধু হালদা নদী ও সংলগ্ন খালগুলোতে অন্তত ১৬টি ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে উঠেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেছেন, পৃথিবীতে যত প্রাণি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তার মধ্যে ডলফিন অন্যতম। হালদাতে প্রায় ১৬৬ প্রজাতির ডলফিন আছে।

কিবরিয়া বলেন, হালদা ছিল গাঙ্গেয় ডলফিনের অন্যতম আবাসস্থল। এতদিন তারা নিরাপদেই ছিল। তাদের সংখ্যাও ভালো ছিল। কিন্তু হালদা নদী দূষিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উজানে রাবার ড্যাম দেয়ায় পানির লেভেল কমে গেছে। ড্রেজার চলাচলের সময় ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সরকারের তরফ থেকে ডলফিনগুলো টিকিয়ে রাখার কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

মৎসজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ডলফিন মারা যাওয়ার এ চিত্র ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’। ধারণা করা হচ্ছে, নদীতে চলাচলকারী বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারের আঘাতেই এসব ডলফিন মারা যাচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠে নেমেছেন। হালদা নদীতে যে ডলফিনের দেখা মেলে, তা গাঙ্গেয় ডলফিন প্রজাতির। ইংরেজিতে একে বলা হয় Ganges River Dolphin; এর বৈজ্ঞানিক নাম Platanista gangetica । স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় হুতুম বা শুশুক।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল–১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

এই প্রজাতির ডলফিন বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের নদীতে দেখা যায়। এরমধ্যে ভারতের গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র, বাংলাদেশের পদ্মা, সুন্দরবনের আশেপাশের নদী এবং চট্টগ্রামের হালদা ও কর্ণফুলী এর বিচরণ ক্ষেত্র। শনিবার সকালে হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালের কান্তর আলী চৌধুরীহাট বাজারের সেতুর নিচে একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। এটি প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের, ওজন ৭০ কেজির মতো।

হালদা পাড়ের বাসিন্দা এবং গড়দুয়ারা ড. শহীদুল্লাহ একাডেমির প্রধান শিক্ষক শিমুল মহাজন বলেন, শৈশবে নদীতে নিয়মিত ডলফিন দেখতেন তারা, এখন খুব কম দেখা যায়। ডলফিন বাঁচার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক বলেন, ড্রেজারের কারণেই ডলফিন মারা যাচ্ছে কি না, সেটা এখনই বলতে পারছি না। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নিয়ে আগামী দুই দিন নদীতে ঘুরে আমরা এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করব। তারপর বলতে পারব, কেন ডলফিন মারা পড়ছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। হালদার সাথে সংযুক্ত আছে ১৭টি খাল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র দেশে কার্প জাতীয় মাছের রেনুর প্রধান উৎস। দখল, দূষণ এবং চোরা শিকারির উৎপাতে বিপন্ন হালদার মা মাছও।