চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

কারাবন্দী সৈষিসী ত্রিপুরাকে আইনি সহায়তা দেবে মানবাধিকার কমিশন

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৫ ১৪:২৩:৩৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৫ ১৪:২৩:৩৪

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

একজন মানুষ, মানুষের জন্যই। বিপদে-আপদে, সমস্যা-সংকটে ছুটে এসে সাহায্য করবে এমন প্রত্যাশা মানুষ মাত্রই করতে পারে। মানব জীবনের সম্পূর্ণতা আর তৃপ্তির জন্য সমাজের অসহায়-পীড়িতদের জন্য কিছু করা দরকার। কিছু মুখ সর্বস্ব হারা মানুষকে শক্তি যোগায় ট্রমা থেকে ঘুরে দাড়াতে অনুপ্রেরণা যোগায়, বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সমাজের কিছু মানুষ বিপদ সঙ্কুল পরিবেশে পতিত হয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। প্রয়োজন তাদের সহযোগিতার। একজন নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি। মানবতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতি মুহুর্ত অসহায়দের পাশে দাঁড়ান।

মিরসরাই উপজেলার ৯নং সদর ইউনিয়নের একটি নিভৃতপল্লী মধ্যম তালবাড়িয়ার ত্রিুপুরাপাড়া। ওই এলাকার রেললাইনের সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। মধ্য বয়স্ক এক ত্রিপুরা নারী হঠাৎ তাঁর সামনে এসে অজোরে কাঁদতে লাগলেন। আর্তনাদ দেখে সবার চোখের পানি ঝলমল করছিল। এসময় তিনি ও নারীর দুর্দশা উপলব্ধি করেন।

ওই নারী জানান, ২০০৮ সালে তার স্বামী সৈষিসী ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক নারী নির্যাতন মামলা হয়। আর্থিক অসচ্ছ্বলতা ও অজ্ঞতার কারণে মামলার সার্বিক বিষয়ে তেমন খোঁজ ছিল না। ৬মাস আগে মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে আটক করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করে। অর্থের অভাবে এ পর্যন্ত কোনো আইনজীবি নিয়োগ কিংবা জেল হাজতে গিয়ে স্বামীর সাথে দেখাও করতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষন দিনমজুর সৈষিসী ত্রিপুরার পরিবারে এখন হাহাকার চলছে। ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে অর্ধহারে অনহারে দিনাতিপাত করছে সৈষিসী ত্রিপুরার স্ত্রী। এক দিকে সংসারে অভাব অনটন আর অন্যদিকে স্বামী কারাকারে বন্দী-এমন অবস্থায় সবকিছু অন্ধকার দেখছেন তিনি।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, শত কর্মব্যবস্ততার ভীড়ে মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যে তৃপ্তি লাগে। অবহেলিত ত্রিুপুরাপাড়ায় তিন বছর আগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছিলাম। এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশার খোঁজ খবর নিতে প্রায়শ যাওয়া হয়। সৈষিসী ত্রিপুরার স্ত্রীর আকুতি শুনে খুবই ব্যতিত হয়েছি। তাকে আইনী সহায়তা দিতে তাৎক্ষনিক মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবীদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত করেছি। পাশাপাশি সৈষিসী ত্রিপুরাকে কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়েছি।

৯নং মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটি মিথ্যা মামলায় সৈষিসী ত্রিপুরাকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার পরিবার মানবেতার জীবনযাপন করছে। মানবাধিকার কমিশনের আইনী সহায়তার আশ^াসে তার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তিনি আরো বলেণ, যেখানে বিবেক নেই সেখানে মানবতা নেই। মানুষের বিপদে যারা এগিয়ে আসে তারাই মানবতার সেবক। মানুষের বিবেক জেগে উঠলে মানবতার জয় হবেই।