চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

মিরসরাইয়ের সবজী চাষীরা মধ্যসত্বভোগী ও বেপারীদের কাছে জিম্মি

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৪ ১১:১২:৩২ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৪ ১২:৪৭:৫৪

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা। এখানে উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করেন তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে পাইকারী ব্যবসায়ী সাধারণ ক্রেতাদের কাছে দ্বিগুন মুল্যে বিক্রি করছে। সবজি চাষীরা মধ্যসত্বভোগী ও বেপারীদের কাছ থেকে সঠিক দাম না পাওয়ায় সবজি চাষে তেমন লাভবান হচ্ছেন না। বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজিতে ভরপুর হলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে হওয়ায় ক্রেতা ভোক্তারাও চরম ভোগান্তিতে। এক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের তদারকিও নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বড়দারোগাহাট গিয়ে দেখা যায় শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর। এসব বাজারে শিম, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, মূলা, পালং শাক, লাল শাক, বরবটি, বেগুন অন্যতম। এই বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে চাষীরা তাদের সবজির পসরা সাজিয়ে রাখে শহরের ও স্থানীয় বেপারীদের জন্য। বাজার কর্তপক্ষ চাষীদের পণ্য মাপার জন্য ( টাকার বিনিময়ে) কোন বাজারে ২টি কোনটিতে ৪টি পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবস্থাও করে রেখেছে। এসব বাজারে ভোর হতে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বেপারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতিতে চলে পণ্যের কেনা-কাটা। এইসব কেনাকাটায় বিক্রেতা তথা গ্রামীন কৃষকদের সাথে পাইকারী ক্রেতাদের হরহামেশাই পণ্যের দাম ও ওজন নিয়ে চলে ঝগড়া। অনেক সময় এই ঝগড়া হাতাহাতি থেকে মারা-মারিতেও রূপ নেয়। জায়গা থেকে দর দাম ঠিক করে বেপারীর খাঁচায় ভর্তি করে যে দামে কিনে নেয় সে দাম দেয়না, আবার দাম দিলেও পণ্যের নিদিষ্ট ওজন থেকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা লেগেই আছে।

ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে শিম নিয়ে বড়দারোগাহাট বাজারে আসা কৃষক সজিব চন্দ্র নাথ জানান, কেজি ৩৮ টাকা দরদাম করে খাঁচায় ভরে আমাকে দিচ্ছে ৩৫ টাকা অন্য দিকে মণ প্রতি ৪কেজি করে নাকি বাদ! সেখানেও ঠকাচ্ছে। চাষীরা বিক্রয়ের স্থান থেকে তাদের পণ্য বেপারীর খাঁচা পর্যন্ত পৌছে দিতে হয় এবং পৌছে দিলেই সেখানে পণ্যের দাম দেয়া হয়। আমিনুল ইসলাম নামে এক চাষী অভিযোগ করে জানান, দরদামে ৩০ টাকা করে ছোট বড় ১৩৬টি লাউ বিক্রি করেছি, যা বাজারে খুচরা কিনতে গেলে প্রতিটির দাম ৫০টাকার কম না, লাউগুলি বেপারীর জায়গায় পৌছে যখন টাকা গুনে দেখি দাম দিচ্ছে ২৪টাকা করে ১২০টির। এই বেপারীরা প্রত্যেকের সাথে এই বাটপারির কাজটি করে থাকে। হাটের ইজারাদার সবসময় তাদের পক্ষে থাকে, তাদের কাজ থেকে মোটা অংকের হাসিল আদায় করা হয় বলে।

আহসান উল্লাহ নামে স্থানীয় সাধারণ ক্রেতা জানান, যে বেপারী আমার সামনে সকাল ১০টায় প্রতিটি দেড় হতে দুই কেজি ওজনের ১৫টি মিষ্টি কুমড়া কৃষকের কাছ থেকে কিনেছে ৩শ টাকায়, তার কাছে সকাল ১১টায় গিয়ে দেখি সে প্রতি কেজি বিক্রি করছে ৩০ টাকা করে, এ ক্ষেত্রে সে দ্বিগুনের চেয়ে বেশী লাভ করছে।

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পাহাড়তলি থেকে আগত বেপারী জয়নাল আবেদীন জানান, বলে কয়ে কৃষককে নিদিষ্ট দামের চেয়ে কিছুটা কম দিয়ে মানিয়ে নিই, তাছাড়া আমরা যদি কম দামে না কিনি তা হলে গাড়ি ভাড়া, গাড়ির দালাল, ও ইজারাদারের হাসিল দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারিনা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান জানান, এটা একটা জাতীয় সমস্যা ভোক্তা যে টাকায় পণ্য ভোগ করছে সে পরিমাণ প্রান্তিক কৃষকের কাছে যাচ্ছে না। ভোক্তা ও কৃষক উভয়ই মধ্য স্বত্বভোগীদের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এর কারণ ভাউচার প্রথা চালু না থাকায়। এই সমস্যা থাকবেনা আমাদের ভোক্তা অধিকার থেকে কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রস্তাব করা আছে ভাউচার প্রথা চালু করার, আগামী মার্চ মাসে একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যায়।