চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সালতামামি ২০১৭- প্রসংগ রোহিঙ্গা: বিশ্ব জুড়ে আলোচিত টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ২০১৭-১২-৩০ ১৪:৫৫:৩৩ || আপডেট: ২০১৭-১২-৩০ ১৪:৫৬:০৯

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তীদেশ মিয়ানমার। বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের ৫২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

সে দেশের আরকান বা রাখাইন রাজ্যটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মগ সেনা ও উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতন নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষন ও বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এমনকি জীবন্ত শিশুদের আগুনে নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে বৌদ্ধরা। ফলে প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ে আসে।

এসব রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এপারে ঢুকেন। প্রথমদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা প্রদান করেন। পরে মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ঘোষনা দিলে দলে দলে এপারে ঢুকেন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। এর ফলে বিশ্ব মিডিয়া জুড়ে টেকনাফ সীমান্ত ছিল একটি আলোচিত উপজেলা।

এসময়ে দেশ-বিদেশের বিবিসি, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন নিউজ এজেন্সির নামকরা সাংবাদিকদের পদচারনা ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিশেষ করে টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপ, শামলাপুর, উলুবনিয়া, নাইট্যংপাড়া, জাদিমুরা, উখিয়ার কান্জরপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট ছিল দিন রাত সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। থেমে ছিলনা স্থানীয় প্রশাসনসহ রাজনৈতিক ব্যক্তি।

আশ্রয়ে আসা আগত রোহিঙ্গাদের সাহায্যের হাত বাড়াতে চলে আসে দেশ-বিদেশের আনাচে কানাচে থেকে। সাধ্যমত দান করে গেছেন নির্যাতিত ও নিপীড়িত এসব রোহিঙ্গাদের।

টেকনাফের স্থানীয়রাও পিছপা হয়নি আগত রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে। স্থানীয়রা খাদ্য, পানি ও থাকার জায়গা দিয়েছে। পরে নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন যান বাহন করে পৌঁছে দিয়েছে রোহিঙ্গাদের। মানবতার খাতিরে এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে স্থানীয়রা।

এখনো প্রতিদিন শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা ঢুকছে। তবে তাদের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ জন। স্থানীয় প্রশাসন তাদেরকে মানবিক সহায়তা পূর্বক আশ্রয় ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরনার্থী শিবির হচ্ছে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরনার্থী শিবির।

আবার সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু সাগর এবং নদীতে সলিল সমাধি হয়েছে। নৌকায় অতিরিক্ত রোহিঙ্গা বোঝাই ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে গিয়ে দুইশতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে আলেম-ওলামাদেরকে দেখা গেছে প্রায় সময়। তারা অর্থ, খাদ্য, বস্ত্রের পাশাপাশি অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের মালামাল বহন ও প্রতিবন্ধিদের কাঁধে করে গাড়ীতে তুলতে দেখা গেছে। তাদের এসব কার্যক্রম স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রসংশা কুড়িয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংস্থা ও ধনাঢ়্য পরিবার রোহিঙ্গাদের পাশে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ত্রাণ নিয়ে ট্রাকের পর ট্রাকের সারি দেখা গেছে। অবশেষে শান্তি শৃংখলা রক্ষা ও সঠিকভাবে ত্রান বিতরণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।

এদিকে এসব রোহিঙ্গাদের খোঁজ খবর, নির্যাতনের কাহিনী ও তাদের দেখতে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, দূত ও সমমর্যাদা নেতৃবৃন্ধ উখিয়া-টেকনাফে বারবার সফর করেছেন। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতসব কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে উঠে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত জনপদ।