চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মহিউদ্দিনের মুত্যু: বিজয় মেলায় ‘ভাটা’, নতুন চেয়ারম্যান নওফেল

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৯ ২২:২৩:৪৭ || আপডেট: ২০১৭-১২-৩০ ১১:৩১:৪১

আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে ভাটা পড়েছে বিজয় মেলার নানা আনুষ্ঠানিকতায়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেলায় মূখ্য কর্মসূচি হিসাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি মাসব্যাপী চলে মেলাও। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো আলোচনা সভা ছাড়াই অনেকটা ‘প্রাণহীন’ ভাবে চলছে এবারের ২৯ তম বিজয় মেলা। নানা বর্ণিল কর্মসূচিতে পড়েছে ভাটা। মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর বিজয় মেলা পরিষদ ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব কর্মসূচি স্থগিত করে। কিন্তু এরপর মেলা চলমান থাকলেও সবার প্রিয় ও মূল কর্মসূচি আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে মেলাটি। হারিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনা।

তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনিত হন মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার চৌধুরী মুহিবুল হাসান নওফেল। এর মাধ্যমে বিজয় মেলার সমাগ্রিক কর্মসূচি নতুনভাবে প্রাণ পাবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

ব্যারিস্টার চৌধুরী মুহিবুল হাসান নওফেল বলেন, আমি বাবার রেখে যাওয়া সব কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। বিজয় মেলা পরিষদ বাবার তৈরি অন্যতম স্মৃতিস্বারক। তার মৃত্যুতে মেলার কর্মসূচির কিছু ছন্দপতন হয়েছে। কিন্তু এটি আবারো প্রাণবন্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।

বিজয় মেলা পরিষদের প্রচার উপ-পরিষদের আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ বলেন, মহিউদ্দিন ভাই ১১ ডিসেম্বর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর দিনই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সবাই মহিউদ্দিন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকেন। এর পরও আলোচনা সভা পাঁচদিন চলে। পরে মহিউদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যু হলে আলোচনা সভার কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়।

বিজয় মেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২৯ বছর আগে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বীর বাঙালির অহংকার’ শীর্ষক শ্লোগানে মহিউদ্দিন চৌধুরী শুরু করেন বিজয় মেলা অনুষ্ঠান। পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর এই উদ্যোগ বিজয় দিসব অনুষ্ঠানের সারাদেশের জন্য একটি মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিবছরই মাসব্যাপী বিজয় মেলার অনুষ্ঠান মঞ্চে আয়োজন করা হতো, জাতীয় বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বর্ণিল সৃষ্টিশীল নানা অনুষ্ঠান।