চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রতিটি জেলায় কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৩ ১৭:৩১:২৪ || আপডেট: ২০১৭-১২-২৩ ১৭:৩১:২৪

মো.মাইনউদ্দিন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন,বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জন ও নৈতিক মুল্যবোধ সম্পন্ন দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। গতানুগতিক ধারায় সকল শিক্ষার্থী ডাক্তার হতে চায়। সকল শিক্ষার্থী যদি ডাক্তারই হয়, তাহলে রোগী হবে কারা। শিক্ষার এ ধারায় একটি দেশ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।

শনিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করার লক্ষে শিক্ষাখাতে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্য বাংলাদেশকে একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সরকার দুই কোটি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছে। যা বিশ্বের আর কোনো দেশে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে একসঙ্গে এতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয় না। নতুন প্রজন্ম মেধার দিক দিয়ে এখন আর দরিদ্র নয়। আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য আধুনিক ও যুগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যম দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা।


এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং-এমপি, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা-এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা-এনডিসি, সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো: আলী আহমেদ খান, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো: রফিকুল আলম, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সচিব শ্রীলা তালুকদারসহ প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের দেশে-বিদেশে অবস্থানরত আলোকিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘আর একটি বার আয়রে সখা, প্রানের মাঝে আয়’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিদেশ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের প্রিয় প্রাঙনের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবে যোগ দিয়েছে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন শিক্ষামন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সচিব শ্রীলা তালুকদার তাকে স্বাগত জানান। এসময় তিনি উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন ও সেলফি তোলেন।

পাহাড়ের ব্যাতিক্রমী এ যাবতকালের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসবকে ঘিরে ‘উৎসবের রঙে রঙিন খাগড়াছড়ি’। পাহাড়ের প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবের মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এ উৎসব পাহাড়ে সম্প্রীতির নতুন ডানা মেলবে বলে মন্তব্য উৎসবে অংশগ্রহণকারী আলোকিতদের।