চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শোকের উপর শোক, অসুস্থ হয়ে পড়লেন নওফেল!

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৮ ২২:০৫:২৪ || আপডেট: ২০১৭-১২-১৯ ১২:১১:০৯

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস

বাবার মৃত্যুর শোক কাটেনি। তার উপর বাবার আত্মার মাগফেরাতে লক্ষ্যে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আয়োজিত কুলখানিতে ঘটে গেল আরেক শোকের ঘটনা। কুলখানির মেজবান খেতে গিয়ে আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে পদদলিত হয়ে মারা গেলেন ১০ জন।

আর শোকের এই চাপ সামলাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহ দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি।

তিনি বর্তমানে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের ষোলশহর দুই নম্বর গেটের চমশা হিলস্থ নিজ বাসভবনে বিশ্রামে আছেন। এর আগে তিনি নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

দুপুরে নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে মেজবান খেতে আসা ১০জন পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। সেখানেই তিনি নিহতদের মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারি ওসমান গনি।

তিনি বলেন, আজ সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন ছাড়াও নগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানির মেজবান অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানসহ অমুসলিমদের জন্য নগরীর আসকর দিঘীর পাড়ে অবস্থিত রিমা কমিউনিটি সেন্টারের মেজবানের আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে মেজবান খেতে আসা লোকজন এই কমিউিনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে হুড়াহুড়ি করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

ঘটনাস্থলের পর হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ ও পরিস্থিতি দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর সাথে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁকে চশমা হিলের নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে আছেন বলে জানান ওসমান গনি।

রিমা কমিউনিটি সেন্টারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নগরীর খুলশি থানার এসআই আবদুর রহিম বলেন, রিমা কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথটি ছিল সরু। ফলে প্রবেশ পথে কার আগে কে ঢুকে মেজবান খাবেন তা নিয়ে হুড়াহুড়ি করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।

এ সময় পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি দেখে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার নওফেলও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সূজন বলেন, কমিউনিটি সেন্টারে প্রাণহানীর ঘটনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও বেদনাদায়ক। যা সামলাতে পারেনি ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এই প্রাণহানীর ঘটনা তার জন্য শোকের উপর শোক।

বর্তমানে তিনি কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নওফেল এখন একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। তবে বাড়িতেও মেজবান অনুষ্ঠান চলায় পরিবারের লোকজনকে তাকে দেখায় বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, রিমা কমিউনিটি সেন্টারে মৃত ১০ জনের মরদেহ চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক আহত রয়েছে। আহতদের হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জহিরুল ইসলাম বলেন, দূর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ও আহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। তাদের কেউ কেউ লাশ সনাক্ত করে কান্নাকাটি ও আহাজারী করছেন। এতে চমেক হাসপাতাল এলাকা প্রকম্পিত উঠেছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ওইদিন বিকেলে নগরীর লালদীঘি ময়দানে স্মরণকালর বৃহত্তম জানাজা শেষে চশমা হিলস্থ পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আর আজ সোমবার ছিল প্রয়াত এ নেতার কুলখানি। এ উপলক্ষে চশমা হিলের বাসভবনসহ নগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় মেজবানি। এরমধ্যে দুপুর ১টার দিকে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে ঘটে প্রাণহানীর ঘটনা।