চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

‘বঙ্গবন্ধু বলতেন, আমার মহিউদ্দিন কই?’

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৫ ০৯:৫০:১০ || আপডেট: ২০১৭-১২-১৬ ০৯:২৮:৪০

আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা-এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী। তিনি ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।

গুণী এই রাজনীতির বঙ্গবন্ধুর সাহচার্য পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রামে আসতেন ট্রেন থেকে নেমে প্রথমে জিজ্ঞেস করতেন, ‘আমার মহিউদ্দিন কই?’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর দুঃসময়। আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে বিপর্যস্ত বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই বিপর্যস্ত সময়ের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের একদল নেতাকর্মী। সশস্ত্র প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধের আগ থেকেই জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি চট্টগ্রামে তরুণ-যুবকদের আরও একটি রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। তারা ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির অনুসারী। এই ধারার নেতারা মিলে একাত্তরে জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে তারা চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

সেই জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন তখনকার যুব নেতা মৌলভী সৈয়দ এবং শ্রমিক নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ছিলেন তখনকার ছাত্রনেতা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, অমল মিত্র, এস এম কামাল উদ্দিন, এস এম ইউসুফ, কাজী ইনামুল হক দানু, সুলতানুল কবির চৌধুরীসহ আরও অনেকে। তাদের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরেও।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাকশাল করলেন, তখন শ্রমিক নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফ্রন্টের সদস্য করা হয়। পঁচাত্তরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়ে যান মহিউদ্দিন। সামরিক আইনে গ্রেপ্তারের প্রায় ছয় মাস পর রাজশাহী ‍কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ততদিনে তার রাজনৈতিক সহচরদের অনেকেই চলে গেছেন ভারতে। মুক্তি পেয়ে মহিউদ্দিনও যান সেখানে।

১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে আসলেন তখন সবাই বাকশাল নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি পার্টি অফিসও বেদখল, তালা মারা। ঢুকতে পারছেন না। তখন এই মহিউদ্দিনই চট্টগ্রাম থেকে দলবল লাঠিসোটা নিয়ে পার্টি অফিসের তালা ভেঙে অফিস দখল করেছিলেন এবং নেত্রীকে অফিস বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।