চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘দেশে জঙ্গি হননি আকায়েদ’

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৩ ১৯:২১:১৯ || আপডেট: ২০১৭-১২-১৩ ১৯:২১:১৯

যুক্তরাষ্ট্রে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার আকায়েদ বাংলাদেশে কোনও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল বলেন, ‘এ দেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আকায়েদের জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি।’ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপিও জানিয়েছিলেন আকায়েদের দেশে অপরাধের প্রমাণ নেই। সে যুক্তরাষ্ট্রের হোম গ্রোন সন্ত্রাসী।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন। আকায়েদ নিউইয়র্কেই জঙ্গিবাদে হোম গ্রোন হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ র‌্যাডিকালাইজড হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, আকায়েদ আসলে বিকারগ্রস্ত কি না, নাকি কোনও টেররিস্ট গ্রæপ দ্বারা ইন্সপায়ার হয়েছেন, নাকি ইন্টারনেট দ্বারা রেডিকালাইজড হয়েছেন, নাকি অন্য কোনও ব্যক্তি তাঁকে রেডিকালাইজড করেছে, ইনফ্লুয়েন্সড করেছে সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করা হয়। আকায়েদ বাংলাদেশে এসে কাদের সঙ্গে সে মিশেছে, এদেশে তার কোনও সহযোগী আছে কি না- তা আমরা জানার চেষ্টা করছি।’

যুক্তরাষ্ট্র আকায়েদের বিষয়ে তথ্য চাইলে সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। যদি তারা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে সহায়তা চায় তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আকায়েদের স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তার স্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, গত বছরের শুরুতে তাদের বিয়ে হয়। তার আগে থেকেই আকায়েদের মুখে দাড়ি ছিল এবং সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় আকায়েদ তাকে জসিমউদ্দিন রাহমানির কিছু অডিও লেকচার শুনিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, জসিমউদ্দিন রাহমানি বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা। যিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আকায়েদের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন হাজারীবাগে ভাড়া বাসায়। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরে স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে ড্রাইভিংয়ের কাজ করতেন।

গত বছর জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁইয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ বছরের ১০ জুন সন্তানের জনক হন আকায়েদ। আকায়েদ সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে এ বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছিলেন। এক মাস অবস্থানের পর ২২ অক্টোবর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আকায়েদ দেশে এসে জুঁইকে বিয়ে করেন।

আকায়েদ উল্লাহর শ্যালক হাফিজ মাহমুদ জানান, এ বছর আকায়েদ দেশে আসার পর তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে তারা টের পাননি আকায়েদ অন্য কোনওদিকে মোটিভেটেড হয়েছেন কি না। তিনি সাধারণ মুসুল্লির মতো মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন।

এদিকে, মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) কায়েদ উল্লাহর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে তাঁদের জিগাতলার বাসা থেকে মিন্টু রোডের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদেরকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।

আকায়েদের শ্যালক হাফিজ মাহমুদ জয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে সিটিটিসি। প্রয়োজনে আকায়েদের পরিবার সদস্যদের আবারও ডাকা হবে বলে জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটে। এর সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহর সংশ্লিষ্টতা পায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ। বিস্ফোরণে তার শরীর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জখম হয়েছে। এখন তিনি হাসপাতালে রয়েছেন।