চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

ধর্মঘটের কবল থেকে বের হতে পারছে না চট্টগ্রাম!

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৭ ১৫:০৬:০৯ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ১৯:১২:৪৪

২০ ডিসেম্বর ১২দফা দাবীতে ধর্মঘটের ডাক  দিয়েছে অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন

আখতার হোসাইন

মেট্টোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের ধর্মঘটের পর এবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম অটোরিক্সা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন।

কয়েক দিন আগেই চট্টগ্রামে প্রায় ৩দিন ধর্মঘট পালন করে মেট্টোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতি সেই সাথে ধর্মঘট পালন করে যুবদল নেতা হারুন চৌধুরী হত্যার প্রতিবাদে ট্রান্সপোর্ট দোকান মালিক ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা। আরো ধর্মঘট পালন করে ঔষুধ ব্যবসায়ীরা।

পুলিশী হয়রানী বন্ধসহ বেশ কিছু দাবীতে ধর্মঘট পালনকারী পরিবহন মালিকরা সমালোচনায়ও আসেন। পরে মেয়রের আশ্বাসের তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।

সেই ধর্মঘটের রেশ কাটতে না কাটতেই নগরীতে ২০শে ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম অটোরিক্সা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন।

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, চট্টগ্রামের জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশা পরিচালনা সংক্রান্ত আলাদা নীতিমালা বা সার্ভিস রুলস প্রণয়ন করা, ৪হাজার নতুন গাড়ী রেজিষ্ট্রেশন প্রদান, পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নো-পার্কিং মামলা বন্ধ করা, সহজ শর্তে চালকদেরকে লাইসেন্স প্রদান, মালিকের জমা ৬০০টাকা ও মান সম্মত মিটার প্রদান করার মাধ্যমে নগরীতে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ১২ দফার দাবীতে ১বছর আগে পরিবহন ফেডারেশনের সাথে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলাম প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছিলাম। দীর্ঘ ১বছর অতিবাহিত, ৬মাস আগে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছি তারপরও আমাদের দাবী বাস্তবায়ন করেনি। প্রশাসনের এ ব্যর্থতার জন্য আগামী ২০ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরী ও জেলা গুলোতে সবার্ত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। তিনি বলেন, এই ধর্মঘটের মাধ্যমে যদি দাবী আদায় না হয়, তাহলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য থাকব।

ধর্মঘটের সমর্থনে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর অক্সেজেন মোড়ে শ্রমিক সমাবেশও করে চট্টগ্রাম অটোরিক্সা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ব্যানারে।

বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা অক্সিজেন শাখার সভাপতি মো: সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল নবী লেদু।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ, আগামী ১৯ ডিসেম্বর শহীদ মিনার চত্তরে স্মরনকালে বিশাল শ্রমিক সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শ্রমিকদের সমাবেশ করা হবে।

জানতে চাইলে হারুনুর রশীদ আরো বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ২৬হাজার শ্রমিক ১৩হাজার গাড়ী সময় ভাগ করে চালিয়ে কোন মতে জীবন যাপন করছে। চট্টগ্রামের মতো একটি বাণিজ্যিক রাজধানীতে ২০০২সালে সর্বশেষ গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন দিলেও সেই গাড়ীর অনেক গুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু নগরীর পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে তারপরও সরকার চট্টগ্রামের জন্য নতুন করে গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন দিচ্ছে না। অথচ অনুমোদন দিয়ে ৪হাজার গাড়ী আন রেজিষ্ট্রেশন হিসেবে চলাচল করছিল দীর্ঘদিন বর্তমানে সেই গাড়ী গুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে নগরীরতে ৪হাজার গাড়ীর অনুমোদনসহ অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবী মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আমান বাজার শাখা সভাপতি আলী আকবর, সেক্রেটারী মো: শাহীন, টেক্সটাইল সভাপতি মো: কবীর সেক্রেটারী মো: আজম, শেরশাহ সভাপতি হানিফ, সেক্রেটারী বেলাল প্রমুখ।