চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

মহামায়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কায়াকিং অ্যাডভেঞ্চার

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৫ ১৬:০৩:১৩ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৫ ১৬:২৪:৫৮

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক যেন এক মায়াজাল। একবার যিনি আসবেন বার বার আসতে চাইবেন তিনি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলা ভূমি পুরো এলাকাটি। লেকের স্বচ্ছ নীলাভ জল, চার পাশের সবুজের চাদও আর শুনসানরিবতায় হারিয়ে যেতে চায় যে কেউই। এমন পরিবেশে পর্যটক টানতে নতুনভাবে যোগ হয়েছে কায়াকিং অ্যাডভেঞ্চার।

চারি দিকে সবুজের চাদরে মোড়ানো অথৈই জলে নিজেই চালাবেন নৌকা। এমন অ্যাডভেঞ্চার নিশ্চয়ই কেউ মিস করতে চাইবেন না। আর সে কারণেই মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টে বাড়ছে পর্যটকদের ভীড়। প্রতিদিন কায়কিং করছেন শতাধিক দর্শনার্থী।

মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টের পরিচালক মামুনুর রশিদ রানা জানান, বাংলাদেশে কাপ্তাইয়ের পরে এখানেই আছে কায়েক নৌকা। আর কোথাও এমন অ্যাডভেঞ্চার নেয়ার সুযোগ নেই যাত্রীদের। তিনি জানান,মহামায়ার কায়াক গুলো অন্যস্থান থেকে আরো উন্নত ও নিরাপদ। এগুলো আমদানী করা হয়েছে সুদূর ব্রাজিল থেকে ।


মামুনুর রশিদ রানা জানান প্রতিটি কায়াকিং নৌকা প্রতি ঘন্টায় ৩’শ টাকায় ভাড়া দেয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদেও জন্য ছাড় দেয়া হয় ১’শ টাকা। রয়েছে নিধারিত সীমানা রেখা। এর বাইরে গেলে পর্যটকদের গুনতে হয় ১ হাজার টাকা জরিমানা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মহামায়া প্রকল্পটি ইজারা নেয় হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তারা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রকল্পে নিরাপত্তা জোরদার ও পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের পার্টনার ছাত্রনেতা আরিফ মঈন উদ্দিন বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশের ২য় বৃহত্তম কৃত্রিম এই লেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনসারের জন্য আবেদন করেছি। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন আমাদের সব সময় সহযোগীতা করছেন। আমরা পরিবেশবান্ধব কায়াকিং এর ব্যবস্থা করেছি। দেশে কাপ্তাই লেকের পর ২য় মহামায়াতে কায়াকিং ব্যবস্থা করা করা হয়েছে। দিন দিন এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কায়াকিংয়ে আগ্রহী।

কায়াকিং করতে গিয়ে কথা হয় দর্শনার্থী এমিল, জিকু, জিসান, সৌরভ ও আফজালের সাথে। তারা জানান, নিজ হাতে নৌকা চালিয়ে পাহাড় আর সুবজের নীলাভজলের বুক চিরে ইচ্ছেমতো ঘুরত দারুন লাগে। রবিন জানান, কায়াকিং পয়েন্টের লোকরাই শিখিয়ে দেয় কিভাবে কায়াকিং করতে হয়। যার কারণে চালাতে তেমন বেগ পেতে হয়না। বিষয়টাতে দারুন অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে।

কাংাকিং পয়েন্টের পরিচালক মামুনুর রশিদ রানা জানান, সে সহ ৫ জন শামীম হোসেন, সাইদুলই সলাম, সাইফুদ্দিন শামীম ও ¯েœহাশীষ জনি মিলে এ লেকে ১৬ টি কায়েক নামিয়েছেন। ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা আগ্রহী হয়ে উঠছে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক লোক কায়কিং করছে।


মহামায় লেক
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া লেক। ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ লেকটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আঁকা বাঁকা লেকটি অপরূপ সুন্দর। ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত মহামায়া লেকের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ি ঝরনা। স্বচ্ছ পানির জলা ধারের চার পাশ সবুজ চাদরে মোড়া। পিকনিকের জন্যও মহামায়া দারুণ একটা জায়গা। এখানে এসে রান্না বান্না করে খাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

যাওয়ার পথ
ঢাকা-চট্টগ্রামের যে কেনো বাসে করে সরাসরি নামতে হবে মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী এলাকায়। সেখান থেকে রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সা যোগে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌছানো যাবে মহামায়ায়।

থাকা-খাওয়া
লেকে ঘুরতে এসে দিন শেষে ফিরে গেলেই ভাল। কারণ মিরসরাইতে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। থাকতে হবে চট্টগ্রাম শহরে। শহরের প্রবেশমুখে একেখাঁন মোড়ে রয়েছে মায়াবী রিসোর্ট ও অলংকার মোড়ে রয়েছে রোজভিউ আবাসিক হোটেল। মহামায়া প্রকল্প থেকে শহরের প্রবেশ মুখে ঢুকতে সময় লাগে ৫০ থেকে ৫৫ মিনিট মাত্র।