চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে র‌্যাম্প নির্মানে নিরাপত্তা অসতর্কতা, আতঙ্কে মানুষ

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৪ ২৩:৫৯:১৮ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৫ ১১:০৩:৫০

এম আই খলিল
প্রধান প্রতিবেদক,সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম মহানগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ষোলশহর ২ নম্বর গেইট মোড়ে র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ চলছে অসতর্কভাবে। ফলে এ মোড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে মৃত্যুভয় নিয়ে।

এই র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে ঘটে গেছে কয়েকটি দুর্ঘটনাও। এরমধ্যে উপর থেকে লোহার রড পড়ে প্রাইভেট কার চুরমার, লোহার রডের আঘাতে পথচারি আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছড়িয়েছে লোহার রড ঢলে পড়ে পিলার হেলে পড়ার ঘটনাটি।

ঘটনাটি ঘটেছে গত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। ভাগ্যিস, লোহার রডগুলো মধ্যরাতে ঢলে পড়ায় যানবাহন বা মানুষের তেমন বড় কোন ক্ষতি হয়নি। এমন কথাই বললেন ব্যস্ততম মোড়টির চারপাশে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

মোড়ের চয়েস টেইলার্সের মালিক আবু ইউসুফ জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু তাতে সড়কে কোন নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়নি। ফলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এসে লোহার পিলারের জন্য লোহার রড বসাতে গিয়ে হঠাৎ নিচে পড়ে সড়কে চলমান প্রাইভেট কার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।

এরপর নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে লোহার খন্ড পড়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী মারাতœকভাবে আহত হয়। চিকিৎসার পর তারা কোনরকমে বেচে যান। এ মাসের শেষ সপ্তাহে ঘটে বড় দুর্ঘটনা। লোহার পিলারের উপর বাঁধা লোহার রড ঢলে পড়ে নিচের দিকে। সেই সাথে হেলে পড়ে পুরো পিলার। মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটনায় যানবাহন বা মানুষ দুর্ঘটনায় পড়েনি। এরপরও কোনো রিকম নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াই চলছে র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্পটির পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, নির্মাণ কাজের নির্দেশনার চেয়ে বেশি লোহার রড বাঁধায় সেগুলো ঢলে পড়ে পিলারটি হেলে গেছে। কিন্ত এতে কোন ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়া কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনিতেই আমরা কাজ করছি। তবে সড়কে যানচলাচলের সুবিধার কারনে কিছু কিছু স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়নি। কিছু কিছু স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে কাজ শেষে তুলে নিয়েছি।

লোহার রড পড়ে প্রাইভেট কার চুরমার ও মোটর সাইকেল আরোহী আহত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চালকরা বেপরোয়া চলাচলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেখানে কাজ করছে সেখানে তো রোহার রড পড়বেই। যানবাহন ও মানুষের এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

আজ সোমবার সকালে সড়কের মোড়ে চলাচলকারী কয়েকজনের সাথে কথা হয় এ নিয়ে। এরমধ্যে নগরীর বায়েজীদ শিল্প এলাকার নাজনীন গার্মেন্টসের মালিক মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ব্যবসার স্বার্থে প্রতিদিন দুই তিনবার এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। যতবারই চলাচল করি ততবার মৃত্যুভয়ে থাকি। উপরের দিকে থাকালে মনে হয় এই বুঝি রোহার রড ভেঙে গায়ে পড়ছে। নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকায় আরও অনেকে মৃত্যুভয় নিয়ে এ মোড়ে চলাচল করে বলে জানান।

চউক সূত্র জানায়, ৪৬২ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ হয় চলতি বছরের আগষ্ট মাসে। ১ সেপ্টম্বর এই ফ্লাউওভার খুলে দেওয়া হয় যান চলাচলের জন্য। কিন্ত নগরীর চারটি ব্যস্ততম মোড়ে উঠানামার কোন সুযোগ নেই এই ফ্লাইওভারে।

ফ্লাইওভারটি নির্মাণ কাজের শুরুতে র‌্যাম্প নির্মাণের কোন ব্যবস্থাই ছিল না। বিষয়টি অবশ্যই পরে নজরে আসে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। শেষে চট্টগ্রামের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও গৃহায়ণ ও গণপুর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি তুলেন মন্ত্রীসভার বৈঠকে। যা পরে একনেকেও অনুমোদিত হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় আরও ২৩৭ কোটি টাকা।

চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, শুধু ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড়ে নয়, জিইসির মোড়েও র‌্যাম্প নির্মাণ হবে। ষোলশহরের র‌্যাম্প নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে সম্পন্ন হতে পারে। এটি সম্পন্ন হলে জিইসির মোড়ের র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।