চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০১ ১০:২৬:২১ || আপডেট: ২০১৭-১২-০১ ১০:২৬:২১

বেশ কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলছে নানা মেরুকরণ।পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই মেরুকরণে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে নিয়ে ইরান-লেবানন ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে নতুন খেলা শুরু করেছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। আর এ ক্ষেত্রে পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন মিশরের সামরিক জান্তা সিসি।সবমিলেই পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ সঙ্কটের দিকে এগুচ্ছে।

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের খেলা:
ইসরাইল যে কোনো মুহূর্তে দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ করতে পারে। সৌদি আরবও যুগপতভাবে ইয়েমেনে প্রবেশ করতে পারে। ইসরাইল আক্রমণ হানার আগেই ‘গেম-চেঞ্জিং’পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারে। সৌদি আরব ও ইসরাইলের সঙ্গে সমান্তরালের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারকে হয়রানি করতে পারে।

যখন এই সব কিছু ঘটেছে অথবা ঘটছে,তখন তেহরান সরাসরি দুবাই আক্রমণ করতে পারে এবং এর কিছু পরেই ইরাকের কুয়েত আক্রমণ আবারো আলোচনায় আসতে পারে। ইসরাইলও সিরিয়ার গোলান মালভূমি এলাকায় আক্রমণ করতে পারে।

এই যুদ্ধ লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি উপদ্বীপ অগ্নিকুণ্ডে আচ্ছন্ন হতে পারে।

একটি কৌশলী ‘গেমের ছক’ আঁকা হয়েছে
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের গেমের পরিকল্পনার পর তা মঞ্চস্থ করা হয়েছে। এতে আমরা খুবই বিপর্যস্ত, উদ্বিগ্ন। গেম ইতোমধ্যে মঞ্চস্থ হয়েছে এবং খেলোয়াড় বা অভিনেতারা এ অঞ্চলেরই। স্থানীয় ক্ষমতাধরদের কাছে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রিয়াদে ‘ক্লক সেট’ করা হয়েছে। আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা হচ্ছে দুর্নীতি বা সিংহাসন বা অর্থের জন্য লড়াই।

আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে, ‘একটি তরুণ সৌদি অভিজাত সম্প্রদায়’ গঠনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পুরানো স্টাফদের ছেঁটে ফেলার চেষ্টা করছেন। আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

আটকের তালিকা সিআইএ-মোসাদের তৈরি
যে গর্জন আমরা গত সপ্তাহে প্রত্যক্ষ করেছি এর মধ্য এটিও অন্তভুক্ত আছে। ঐতিহ্যগত সৌদি প্রশাসন, সৌদি ব্যবসায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল থেকে যারা কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, তাদের প্রত্যেককেই আটক ও বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হচ্ছে। যারা আঞ্চলিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে, একইভাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

যারা সৌদি-ইরান সংঘাতের বিরুদ্ধে, তাদেরও আটক কিংবা বরখাস্ত করা হচ্ছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নতুন করে ঢেলে সাজানো সৌদি শাসন ব্যবস্থায় যাদের আপত্তি জানানোর সক্ষমতা রয়েছে- এমন সবাইকে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা নিশ্চিত যে রিয়াদের নতুন প্রশাসনের আটক ও বরখাস্তের তালিকা সিআইএ এবং মোসাদ কর্তৃক সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সৌদির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেমনটি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কের অভ্যুত্থানের জন্য কারা থাকবে সিআইএ ও মোসাদ কর্তৃক তার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করতে যাচ্ছে
কিন্তু এই সবের পরেও অন্য আরেকটি বিষয় রয়েছে। আর এই বিষয়টি নিয়ে আসলেই বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন। পশ্চিমারা সমগ্র অঞ্চলটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। এই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনাজুড়ে নতুন গেমটি সাজানো হয়েছে। এই অঞ্চলে যুদ্ধ ও সঙ্কট এখন আর খুব বেশি দূরে নয়। নতুন এই সঙ্কট একটি ঝড় হিসাবে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হবে।

তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৌদি প্রশাসনের পুনর্বিন্যাস করছে। যারাই এই দৃশ্যকল্পের বিরুদ্ধে তাদের সবাইকে একে একে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। রিয়াদ ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে একত্রে তারা প্রথমেই লেবাননকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত-সৌদি আরব-মিশর এই ত্রয়ীকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তৈরি বর্ম এই অঞ্চলের ধ্বংস করবে। এটা এমন একটি ফ্রন্ট যা সৌদি আরবকে আত্মহত্যার জন্য টেনে নিয়ে যাবে। তারা দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করবে।

ইরানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শোডাউনের জন্যই এই ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। তবে, তাদের বাহিনী ইরানে পৌঁছানোর আগে তা লেবানন এবং ইয়েমেনকে মুছে ফেলবে। অন্যদিকে কাতারও প্রতিশোধ নিতে চাইবে।

উল্লেখ্য, ইরাক আক্রমণ, সিরিয়ার যুদ্ধ, ইয়েমেনের সংঘর্ষ নতুন এই সঙ্কট ও নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিস্থিতির বাইরে নয়। এসব একই সূত্রে গাঁথা।

লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত একাধিক ফ্রন্ট একযোগে সক্রিয় হতে যাচ্ছে। আর এই যুদ্ধ ইসলামের অন্তরে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

সুন্নি-শিয়া যুদ্ধ নয়, এটি একটি আক্রমণ প্রকল্প
এটা আমাদের যুদ্ধ নয়। এই সুন্নি বা শিয়া যুদ্ধ নয়। এটি তুর্কি, আরব বা পারস্যের যুদ্ধ নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ক্রুসেডের পর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ধবংসাত্মক হুমকিগুলোর একটি।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মুসলিম বিশ্লেষকদের মন্তব্য হচ্ছে, আমাদের জাতীয় পরিচয়, সাম্প্রদায়িক পরিচয় এবং আমাদের মধ্যে সব ধরনের বিরোধ ভুলে গিয়ে এই ঝড়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, দৃঢ় হাতে প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ এটি আমাদের যুদ্ধ নয়; আমাদের অঞ্চলে লুটপাট ও এটিকে টুকরো টুকরো করতে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি প্রকল্প এবং এই প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সৌদি আরব লেবাননে তার নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরাইল গত কয়েক দিন ধরেই হামলার জন্য মহড়া দিচ্ছে। লেবাননের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ সিরিয়াতে তার ইউনিট সম্প্রসারিত করেছে। হুতিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুদামের বাইরে নিয়ে আসছে।

এর বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়ানো প্রয়োজন
যদি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো না হয়, যদি পরিকল্পনাটি ধ্বংস না হয়, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে থামানো না যায়, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তত্ত্বগুলোকে অকার্যকর করা না যায়, তাহলে নিশ্চতভাবেই একটি আঞ্চলিক সঙ্কট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

দয়া করে মনে রাখবেন সৌদি আরব এই পরিকল্পনায় হেরে যাবে। এটি আসলেই একটি ফাঁদ; যার অন্যতম টার্গেট হচ্ছে সৌদি আরব। কিন্তু এটি পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করবে। সম্ভবত কোনো দেশ নতুন এই সঙ্কটের বাইরে থাকতে পারবে না।

আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সবাইকে একসাথে এই আঞ্চলিক যুদ্ধক্ষেত্রকে অকার্যকর করতে হবে এবং আমাদের এই অঞ্চল ও আমাদের দেশগুলোকে রক্ষা করতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

সৌদি-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ কী আসন্ন?
ইরান আর সৌদি আরব কি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে? লেবাননকে ঘিরে তাদের মধ্যে একটি সংঘাতের আশংকা কতটা? কী নিয়ে দুদেশের মধ্যে এত দ্বন্দ্ব? বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির পল এডামস।

ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে যদি যুদ্ধ বাধে, সেটা হবে একটা বিরাট বিপর্যয়।

কেউই আসলে মনে করে না, এই দুই দেশের মধ্যে এরকম যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দিনে দিনে বাড়ছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন দেশে ইরান আর সৌদি আরব কার্যত এক ‘প্রক্সি’ বা ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত।

দুদেশের মধ্যে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব?
মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা আর প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব আর ইরানের দ্বন্দ্ব চলছে গত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটি স্থান, মক্কা এবং মদিনা হচ্ছে সৌদি আরবে। কাজেই সৌদি আরব মনে করে তারা ইসলামী বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা।

কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে এক ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেন আয়াতোল্লাহ খোমেনি। এটি সৌদি আরবকে খুবই শংকিত করে তুললো। হঠাৎ তারা দেখলো, ইসলামী বিশ্বে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এক রাষ্ট্রের উত্থান ঘটছে।

গত ৪০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিরাট অংশ জুড়ে ইরানের প্রভাব-প্রতিপত্তি দিনে দিনে বেড়েছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ওমান, ইয়েমেন-এসব দেশ যেভাবে ইরানের প্রভাব বলয়ে চলে গেছে বা যাচ্ছে, তাতে সৌদিরা রীতিমত আতংকিত।

এর সঙ্গে ইসলামের বহু পুরোনো দ্বন্দ্ব শিয়া-সুন্নী বিরোধ তো আছেই। সৌদি আরব সুন্নী আর ইরান শিয়া ইসলামের পৃষ্ঠপোষক। কাজেই সৌদি-ইরান ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটা ধর্মীয় মাত্রাও আছে। ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ।

সৌদি আরব লড়ছে এক পক্ষে, ইরান হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন করছে ইরান। সেখানে তারা সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। অন্যদিকে সৌদি আরব সমর্থন যোগাচ্ছে বিদ্রোহীদের। তারা অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ সবই দিচ্ছে বিদ্রোহীদের।

ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরানের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে।

সৌদি আরবও সম্প্রতি ইরাকে তাদের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে। এখন লেবাননকে ঘিরেও শুরু হয়েছে তীব্র ইরান-সৌদি দ্বন্দ্ব। লেবানন এমনিতেই খুব জটিল রাষ্ট্র। সেখানে শিয়া, সুন্নি এবং খ্রীস্টানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

ইরান বহু বছর ধরে লেবাননের শিয়া দল হেযবোল্লাহ এবং তাদের মিলিশিয়াকে নানাভাবে সমর্থন যুগিয়ে চলেছে। হেযবোল্লাহ লেবাননের সরকারের অংশ। কিন্তু একই সঙ্গে তারা সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকে লড়াই করছে।

যেভাবে ইরান এবং হেযবোল্লার প্রভাব বলয় বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব রীতিমত আতংকিত। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, এমবিএস নামে যাকে ডাকা হয়, তিনিই কার্যত এখন দেশ চালান। সাম্প্রতিককালে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে খুবই কড়া ভাষায় কথা বলছেন। নানা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করছেন, ইরান মুসলিম বিশ্বে একক আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে।

বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাস, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই আসলে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরিকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সা’দ হারিরি সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকেই হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে।

সন্দেহ করা হচ্ছে, সৌদি আরব আসলে লেবাননের হেযবোল্লাহর সঙ্গে আগ বাড়িয়ে একটা যুদ্ধ বাধাতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য লেবাননে হেযবোল্লাহকে দুর্বল করা এবং ইরানের প্রভাব খর্ব করা।

যদি এটাই সত্যি হয়, এটি খুবই বিপদজনক এক খেলা। সৌদি আরব আর ইরানের চলমান স্নায়ু যুদ্ধে এক নতুন বিপদজনক লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে লেবাননকে ঘিরে।

যুদ্ধ ঘোষণা করেছে লেবানন, দাবি সৌদি আরবের
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লেবানন বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে দাবি করেছে রিয়াদ। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গ্রুপের আগ্রাসনের কারণেই লেবানন এমনটা করছে বলে উল্লেখ করেছে সৌদি। এমন ঘোষণার ফলে লেবাননে অস্থিরতা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এবং সৌদির মিত্র সাদ হারিরি রিয়াদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকেই লেবাননের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। পদত্যাগের আগে ইরান এবং এর মিত্র হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন সাদ হারিরি।

এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের মুখে পড়েছে লেবানন। সৌদির উপসাগরীয় বিষয়ক মন্ত্রী থামের আল সাবহান এ সম্পর্কে বলেন, লেবানন সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি হিজবুল্লাহর আগ্রাসনকে দায়ী করেছেন।

আল অ্যারাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি সাবহান বলেন, সৌদি আরবের জন্য হুমকি স্বরুপ এমন সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিজবুল্লাহ।

তিনি বলেন, লেবাননের লোকজনকে বেছে নিতে হবে যে তারা শান্তিতে থাকবে নাকি হিজবুল্লাহর সাথে থাকবে। তবে বৈরুতের বিরুদ্ধে রিয়াদ কি পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি সাবহান।

যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা এমন কঠিন ভাষাকে বিশ্লেষকরা নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন।

হারিরি একজন সুন্নি রাজনীতিবিদ এবং সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের মিত্র। তিনি রিয়াদে বসেই কেন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন এবং সৌদি থেকে প্যারিসে গেলেন সে বিষয়টি পরিস্কার নয়।

তার এমন সিদ্ধান্তে লেবাননের জোট সরকারের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কারণ সরকারে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।

রাজনীতি বিশ্লেষক খালদুন এল চারিফ আল জাজিরাকে বলেন, লেবানন দুইটি সমান দলে বিভক্ত। একটি ইরানপন্থি এবং অপরটি সৌদিপন্থি। তাই আমাদের একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

লেবাননের আইনমন্ত্রী সেলিম জ্রেইসাতি বলেন, হারির না ফেরা পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হারিরি নিজে আমাদের কাছে তার পদত্যাগের বিষয়টি না জানানো পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব না।

তবে হারিরির পরিবর্তে যোগ্য প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করাটা এখন লেবাননের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেবাননের জনগণ বেশ উদ্বিগ্ন। কী হচ্ছে সে বিষয়ে তারা চিন্তিত।

মুসলিম বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়বে সৌদি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, সৌদি আরব নিজের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মুসলিম বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়বে।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমাদ আল-খামিসের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

ড. বেলায়েতি বলেন, ‘প্রতিদিন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্য অথবা মুসলিম বিশ্বের কোথাও না কোথাও ষড়যন্ত্র করছে। এ তৎপরতার কারণে দেশটি একসময় নিজেই একঘরে হয়ে পড়বে।’

ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার পর সৌদি আরব ইরানকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। এরপর আলী আকবর বেলায়েতি সৌদি আরব সম্পর্কে এসব কথা বললেন।

বেলায়েতি আরো বলেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে নিজেকে নিয়ে ভাবলে বরং সৌদি আরবের জন্য কল্যাণ হতে পারে। এ সময় তিনি সিরিয়ার সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরো বাড়বে বলে আশা করেন।

ফিলিস্তিনি অফিস বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি পিএলওর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পিএলও-র অফিস বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। ওয়াশিংটনে পিএলও-র অফিস চালু রাখার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেনা- মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এমন মন্তব্যে দেশটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা পিএলও-র অফিস চালানোর ক্ষেত্রে বাধা এলো ১৯৮০ সালের পর প্রথমবারের মতো।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিয়াদ- আল মালকি বলছেন, প্রতি ৬ মাস পর পর ওয়াশিংটনে পিএলও-র অফিস চালানোর চুক্তি নবায়ন করে আসা হয়। এবারই তা নবায়নে অনীহা দেখিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে রিয়াদ- আল মালকি জানিয়েছেন, দুদিন আগে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি চিঠির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ সে দেশে ফিলিস্তিনি সংস্থাটির অফিস চালু রাখার বিষয়ে যথেষ্ট কারণ আর খুঁজে পাচ্ছে না।

রিয়াদ- আল মালকি বলেন, এমনটি অতীতে কখনই ঘটেনি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে এর মধ্যেই এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনে।

পিএলও-র অফিস বন্ধ করলে আরব বিশ্বে তার নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি নেতারা। পিএলও-র সেক্রেটারি জেনারেল শায়েব এরাকাত এক টুইট বার্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফিলিস্তিনি সম্পর্কের ইতি ঘটার হুমকিও দেয়া হয় পিএলও-র পক্ষ থেকে।

মার্কিন এমন সিদ্ধান্তে খুবই অবাক হয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একে মার্কিন আইনের বিষয় বলে মনে করছেন।

ইসরায়েল- ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তিতে প্রভাব তৈরি করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার হাতে কিছু রাখতে চান, আর সে জন্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

এর আগে জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাবার আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

সেজন্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে একজন মার্কিন কর্মকর্তা।

ইয়েমেনে চলতি বছর দুর্ভিক্ষে মারা গেছে ৪০ হাজার শিশু
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ এবং রোগব্যাধিতে চলতি বছর মারা গেছে ৪০ হাজার শিশু। বছরের শেষ নাগাদ শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার দাঁড়াতে পারে।

ব্রিটেনভিত্তিক এনজিও সেইভ দ্যা চিলড্রেন ফান্ড এ তথ্য দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দারিদ্রতম ইয়েমেনে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি শিশু মারা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে এবং আধুনিক ইতিহাসে ভয়াবহ কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে।

সেইভ দ্যা চিলড্রেনের ইয়েমেন চ্যাপ্টারের পরিচালক সামের কিরোলোস ইয়েমেনের শিশুদের ওপর এই হত্যাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এসব মৃত্যু ঠেকানা সম্ভব ছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেনের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। সে অবরোধের আওতায় আনা হয়েছে ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলো। এ কারণে ইয়েমেন মারাত্মক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে।

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে ইয়েমেন: জাতিসংঘ
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অবরোধের ফলে বিশ্বের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইয়েমেন। জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, গত কয়েক দশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইয়েমেন। এর ভুক্তভোগী হবে লাখ লাখ মানুষ।

আকাশ, নৌ ও স্থলপথে অবরোধের কারণে যুদ্ধবিধস্ত ইয়েমেনে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে এই সংক্রান্ত এক ব্রিফিং শেষে অবরোধ সরিয়ে নিতে সৌদি জোটের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালেদ বিমানবন্দরের কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সোমবার সৌদি জোট ইয়েমেনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয়।

ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ থাকা হুতিদের এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘বিপজ্জনক মাত্রাবৃদ্ধি’ বলেও বর্ণনা করে তারা।

তেহরান যেন আর ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠাতে না পারে সেজন্য এই অবরোধ দেয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি জোট। অন্যদিকে ইরান হুতিদের অস্ত্র দেয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে।

অবরোধের আগে এ সপ্তাহের শুরুতেও জাতিসংঘ এবং রেড ক্রস জীবন রক্ষাকারী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ ইয়েমেনির ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ নিয়ে সতর্ক করেছিল।

রেড ক্রস বলছে, তাদের ক্লোরিন ট্যাবলেটের একটি চালান অবরোধে আটকে গেছে। কলেরা মহামারির ঝুঁকিতে থাকা অন্তত ৯ লাখ ইয়েমেনির জন্য এই ট্যাবলেট সরবরাহ করা জরুরি।

অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, অবরোধের কারণে ৭ লাখ লোক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে।

লোকক বলেন, ‘কাউন্সিলকে বলেছি ওই অবরোধ না সরলে ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হবে। দেশটির লাখ লাখ নাগরিক এই বৃহত্তম দুর্ভিক্ষের শিকার হবে, যা গত কয়েক দশকেও দেখেনি বিশ্ব।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সিংহভাগ নাগরিকই বাইরের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন খাদ্য, জ্বালানি কিংবা ওষুধ কিছুই ভেতরে যেতে পারছে না।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দুই বছরে দেশটিতে প্রায় ৯ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে, যার ৬০ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক। আহতের সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজার।

সৌদি প্রিন্সের পেছনে যে ভয়ঙ্কর লোকের কলকাঠি নড়াচড়া!
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে ধরপাকড় চালাচ্ছেন তার পেছনে আছে সাবেক মিসরীয় স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদলিরের পরামর্শ।

হাবিব আল-আদলি এমন একজন ব্যক্তি যিনি হোসনি মোবারকের শাসন টিকিয়ে রাখতে নৃসংসতা, নির্যাতন ও দুর্নীতির কোনো কিছুই বাদ নেই যা তিনি করেনি। এক অনুসন্ধানে এমনটিই জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আরব বসন্তে মোবারকের পতনের পর আদলতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।

এ মাসের শুরুতে ১১ জন প্রিন্স, কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক শ’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রেপ্তার, বরখাস্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব।

তবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই তিনি এই ধরপাকড় চালাচ্ছেন। আর তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন আল-আদলি। কয়েক মাস ধরেই গুজব আছে যে, দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড হওয়ার পর আদলি সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে বৃহস্পতিবারে বলা হয়েছে, আদলির উপদেষ্টা ও সাবেক এক মিসরীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে পরামর্শ দিচ্ছেন হাবিব আল আদলি।

আদলির পরামর্শে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে এমন খবরে আশ্চর্য হওয়ার কিছু দেখছেন না মিসরীয় নাগরিকেরা, বিশেষ করে যারা তার ক্ষমতার মেয়াদ দেখেছেন। ১৪ বছরের দায়িত্বকালে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আদলি ও তার পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুম, ভিন্নমত দমনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছে। ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কয়েক শ’ বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

২০১২ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের সময় হত্যা দুর্নীতি, মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে ২০১৪ সালে বর্তমান স্বৈরশাসক সিসি সরকারের একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। ২০১৫ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। চলতি বছর আরেকটি দুর্নীতির মামলা তার সাত বছরের জেল হয়, রায়ের সময় তিনি গৃহবন্দী ছিলেন, কিন্তু এরপরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

এ মাসের শুরুতে ১১ জন প্রিন্স, কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক শ’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রেপ্তার, বরখাস্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব। তবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই তিনি এই ধরপাকড় চালাচ্ছেন।