চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

‘শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিলো’

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩১ ২০:০৭:০২ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ২০:০৭:০২

‘বিমান চালিয়ে সরকারি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস ভবনে হামলা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এছাড়াও বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছি জঙ্গরা।’

মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাব্বিরসহ চার জঙ্গিকে আটক করে র‌্যাব। তাদের আটকের পর রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপরোক্ত কথাগুলো জানিয়েছেন মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাব্বিরসহ চারজনকে আটক করা হয়। অন্য আটকরা হলো- সাব্বিরের মা সুলতানা পারভিন, পারভিনের আত্মীয় আসিফুর রহমান ও আলম।

আটক সাব্বির সম্প্রতি মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের ছেলে। সুলতানা পারভিন আজাদের স্ত্রী এবং বাকিরা তাদের আত্মীয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মুফতি মাহমুদ খান আরো জানান, আটক সাব্বির বিমানের ফার্স্ট অফিসার হলেও তিনি সেপ্টেম্বর মাসে দারুস সালাম এলাকায় র‍্যাবের অভিযানের সময় নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর ‘সহযোগী’।

তিনি জানান, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন। ওই বছরই তিনি বিমানের পাইলটের চাকরি নেন। বিমানের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে সাব্বির বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালাতেন।

গত ৩০ অক্টোবর সাব্বির ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন জানিয়ে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। নিহত জঙ্গি সারোয়ার জাহানের কাছ থেকে সাব্বির বায়াত গ্রহণ করেন। গুলশানে হোলি আর্টিজানে হামলার আগে ও পরে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্ব রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডের পাশে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলিতে ২/৩/বি নম্বর বাড়াটিতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধায় অভিযান চালায় র‌্যাব।’কমল প্রভা’ নামের ওই বাড়িটির স্বাত্ত্বাধিকারী হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ। দীর্ঘ পাঁচ দিনের ওই অভিযান জঙ্গি আবদুল্লাহসহ সাতজন নিহত হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান বোমা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য।