চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন এমডি ফয়জুল্লাহ

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩১ ১৫:০৮:৩৮ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ২১:২৩:১১

অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারো চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পূর্ণ নিয়োগ পেলেন প্রকৌশলী এ, কে, এম ফজলুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার চুক্তি ভিত্তিক আগামী ৩ বছরের জন্য এই আদেশ জারি করে সরকারের জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়।

ওয়াসা সুত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী এ.কে,এম ফজলুল্লাহ দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম ওয়াসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে অবসারে যাবার পরে ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে তাঁকে পূর্ণ নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রকৌশল বিভাগ সুত্রে জানা যায়, গতবারের এমডি পদে প্রকৌশলী এ.কে,এম ফজলুল্লাহ দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রাম ওয়াসায় ২ হাজার কোটি টাকার ৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া ও আরো সাডে ৭ হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ানাধীন রয়েছে।

সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের মধ্যে অণ্যতম হচ্ছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয় বাংলাদেশের একক বৃহত্তর পানি শোধনাগার প্রকল্প শেখ হাসিনা পানি সরবরাহ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এসে এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন চলতি বছরের প্রর্থমার্ধে। এছাড়া কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ছিল পানি ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে বিভিন্ন সুবিধাদি নির্মান।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ মনে করে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প নির্মাণ চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল । কারন যখনি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয় তখনি স্থানীয় ও প্রশাসনিক নানা বাধার কারণে নির্মান কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এর পর পরই শুরু হয়েছিল বিরোধীদলের সরকার পতনের আন্দোলন ও টানা ৩ মাসের অবরোধ। এর পরে আবার সংগঠিত হয়েছিল গুলশানের হলি আটিজান হত্যাকান্ড।

ওয়াসার এই দুসময়ে তৎকালীন ওয়াসার এমডি ফজলুল্লাহ অগ্রভাগে থেকে প্রকল্প নির্মানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রাণের ভয়ে প্রকল্পের কাজ ফেলে পালিয়ে ছিলেন বিদেশী প্রকৌশলীরা। এছাড়া ও স্থানীয়ভাবে নানা বাধা ছিল প্রকল্প নির্মানে। অবশেষে নানা বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আলোর মুখ দেখে কর্নফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প। এতে করে চট্টগ্রাম নগরবাসীর ৭০ শতাংশ পানির সমস্যা লাঘব হয়। এর আগে নগরবাসী পানি পেতো ৪০ শতাংশ।

এছাড়া ও আগামী মাসে চালু হবে আরেকটি বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্প মদুনাঘাপ প্রকল্পটি। ১৮ শত ৯০ কোটি টাকা ব্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ৭০শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৬ শতাংতে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

একই সাথে চলমান রয়েছে আরেকটি বৃহৎ প্রকল্প কর্ণফুলী ফেস-২। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি আগামী ২০২১ সাল নাগাদ নির্মান কাজ সম্পন্নœ হলে নগরীর শতভাগ পানির চাহিদা মেঠানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ নিয়োগ পাওযায় মন্তব্য জানতে চাইলে প্রকৌশলী এ, কে, এম ফজলুল্লাজ দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন, ‘‘ চট্টগ্রামে পানি সমস্যা সমাধানে আমাকে আবারো দায়িত্ব দেয়ার জন্য ধণ্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আমি নিদিধায় বলতে চাই, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকিব।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘ আগামীতে চট্টগ্রামের সুয়ারেজের কাজগুলো সম্পন্নের পাশাপাশি আরো যে সমস্ত ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়াধীন রয়েছে সেই সব শেষ করার চেষ্টা করবো। এইসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোন পানির সমস্যা থাকবে না।’’

জানা যায়, এই প্রকল্পকে জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন প্রকৌশলী এ. কে, এম ফজলুল্লাহ। তিনি এক সাক্ষাতকারে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, প্রকল্প নির্মান কালে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন প্রকৌশলী এ, কে, এম ফজলুল্লাহর স্ত্রী। এই সময় তিনি সুদুর আমেরিকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারনে তিনি দেশ ছেড়ে অসুস্থ্য স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেন নি। প্রকৌশলী ফজলুল্লাহ মনে করেছিলেন, সরকার তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন , তা ছেড়ে যদি আমেরিকায় অসুস্থ্য স্ত্রীর পাশে থাকেন’ তখন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় সংকট সৃষ্টি হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন নাও হতে পারে প্রকল্পের নির্মান কাজ। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে প্রকৌশলী এ,কে, এম ফজলুল্লাহ অসুস্থ্য স্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতে পারেন নি। পরবর্তীতে তিনি আর কখনো শুনতে পান নি জীবন সঙ্গীর না বলা কতো কথা, পারি নি দর্শন করতে এতো দিনের সঙ্গীর সেই চেহারাটা। তিনি আজীবনের জন্য বঞ্চিত হয়েছিলেন জীবন সায়ান্নে স্ত্রীর হাত দুটো ধরতে। পারেন নি জীবিতকালে প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুসজ্জায় তিনি থাকতে পারেন নি।