চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩১ ১৫:০৩:৫২ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ১৫:১৮:৩১

টেকনাফে প্রতিদিন পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গা

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

এবার নির্যাতন নয়, ক্ষুধার জ্বালায় রাখাইন ছাড়ছে রোহিঙ্গারা। প্রতিদিন পালিয়ে আসছে শতশত রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এরা রাতের আঁধারে এপারে ঢুকছে। বেশীরভাগ রোহিঙ্গারা শাহপরীরদ্বীপের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় প্রশাসনের কড়া নজরদারীর ফলে পশ্চিম সাগর উপকূল দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে পৃথক নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

এঘটনায় ৫ শিশুসহ ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কতজন নিখোঁজ রয়েছে তা জানা যায়নি। সোমবার দিবাগত রাতে মহেশখালীয়া পাড়া ও বুধবার সকালে শামলাপুর উপকূল পয়েন্টে নৌকা ডুবির এঘটনা ঘটে।

টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান মিয়া জানান, রাতে একটি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ২ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা এবং আরো ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানান।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমার সীমান্তের ধংখালী থেকে রাতের বেলায় এক নৌকার ৩০-৩৫ জনের নারী-পুরুষ ও শিশু এপারে আসতে পাড়ি দেয়। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা ইঞ্চিন চালিত নৌকায় চড়ে রাত ১১ টার দিকে টেকনাফ উপকূলে পৌঁছে। মহেশখালীয়া পাড়ার সৈকত পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে কূলে ভিড়ার সময় বড় ঢেউয়ের কবলে পড়লে নৌকা ডুবির এঘটনা ঘটে। এসময় নৌকায় থাকা রোহিঙ্গারা সাঁতরিয়ে কূলে উঠলেও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে এবং এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় কয়েকজন শিশুর অবস্থা বেগতিক হলে টেকনাফ হাসাপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুছিডংয়ের রহিমা নামে এক রোহিঙ্গা নারী জানান, মিয়ানমারের সীমান্তের ধংখালীর বালুচরে নৌকার জন্য অপেক্ষায় থেকে এক মাস একদিন পর এপারে আসতে পেরেছে। সেখানে আরো শত শত রোহিঙ্গারা থাবু গেড়ে নৌকার অপেক্ষায় রয়েছে। সে আরো জানান, খাদ্যের অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় এপারে আসছে। তার স্বামীও তাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেছে জানেনা। আত্মীয় স্বজনদের সাথে ২ ছেলেকে নিয়ে তাদের পিছু নিয়ে দেশ ত্যাগ করেছে। এপারে এসে কূলে ভিড়ার সময় ঢেউর কবলে পড়ে নৌকা থেকে ছিটকে তাহার এক ভাইপোর ছেলের মৃত্যু হয়েছে ও তাহার এক ছেলেকে মূমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে শামলাপুর পয়েন্টে অপর একটি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ২ শিশু ও ১ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে ব্র্যাকের কর্মীরা। এরা হলেন মিয়ানমারের বুচিডং ইয়ংচং এলাকার মোঃ ইসলামের পুত্র এনামুল হাসান (৪), আলী জোহারের মেয়ে মিনারা বেগম (৫), আবুল হাশেমের স্ত্রী জুহুরা বেগম (৬০)।

বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ আমানুল্লাহ জানান, ‘ব্র্যাকের কর্মীরা নৌকা ডুবির ৫ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরমধ্যে ৩ জন মৃত ও অপর ২ জনকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে রেফার করা হয়েছে। তাছাড়া উখিয়া উপজেলার জালিয়াপাড়া পয়েন্ট দিকে ১২ বছরের এক ছেলে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১টারদিকে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাটি বাংলাদেশের দিকে রওয়ানা দিয়েছিল। সকালে এপারের শামলাপুর পয়েন্টের পৌঁছলে নৌকাটি ডুবির ঘটনা ঘটে।

বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আজিজ উদ্দিন বলেন ‘রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি বাহারছড়ার উপকুল দিয়ে অনুপ্রবেশকালে কোস্টগার্ড বাধা প্রদান করেন। কোস্ট গার্ডের ধাওয়া খেয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি ইনানীর দিকে চলে যায়’। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন শামলাপুর পয়েন্ট থেকে ৩ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধারের সতত্য নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা। প্রতিদিন বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কয়েক শত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। বেশীর ভাগ রোহিঙ্গা শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে আসছে।

শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, ঘোলাচরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু এ পারে প্রবেশ করেছেন। ওই পয়েন্টগুলোতে প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে পশ্চিম সাগর উপকূল দিয়ে প্রবেশের সময় রাতে ও সকালে দুইটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারে নির্যাতন এখনো কমেনি। তারা নির্যাতনের ধরণ ও কৌশল পাল্টিয়েছে মাত্র। পালিয়ে আসা বেশীর ভাগ রোহিঙ্গা রাখাইনের বুছিডং ও রাছিডং থানার বাসিন্দা। সোমবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নিউ গার্ডেনের সামনে প্রায় ৩ শতাধিক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। এসব রোহিঙ্গাদের সেনা বাহিনীর জওয়ানরা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন করে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে।