চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা ইস্যুতে একই মেরুতে হাসিনা-খালেদা

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩১ ০১:৫২:২২ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ১১:০৬:২৯

রাজনৈতিক কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে একজন আরেকজনের ছায়াও মাড়ান না। এমনকি জাতীয় কোনো ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছেন দু’জনই। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিভিন্ন সময় দুই নেত্রীর অবস্থান ভিন্ন হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া এক মেরুতে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দেশের বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একই বক্তব্য- রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত কয়েক বছরে দু-একবার দুই নেত্রীর একসঙ্গে বসার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের আর একসঙ্গে বসা হয়ে উঠেনি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। উত্তপ্ত ফোনালাপে ওই দিন সংলাপের প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও হরতাল প্রত্যাহারসহ নানা শর্তের মুখে নেশভোজে যোগ দেননি খালেদা জিয়া।

এছাড়া ২০১২ সালে সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশের দুই শীর্ষ নেত্রী। কিন্তু ওইদিনও তাদের মধ্যে সরাসরি দেখা কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় হয়নি।

তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একই অবস্থান নিয়েছেন দুই নেত্রী। রাজনীতিকরা বলছেন, জাতীয় স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকটে দুজনের মনোভাব এক মেরুতে। ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে হলেও দুজনই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট সবাইকে একসঙ্গে মিলেই মোকাবিলা করার কথা বলেছেন দুজন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সোমবার ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এসময় তিনি রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এক পর্যায়ে চার মাসের শিশু মোবারককে কোলে নিয়ে আদর করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক রোহিঙ্গা শিশুর কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বুকে জড়িয়ে নেন, সান্ত্বনা দেন। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের সবধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই নেত্রীর মানবিকতা বোধকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাজনীতিকরা। তারা মনে করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবাই এক মেরুতে যদিও যার মত করে নিজস্ব প্লাটফর্ম থেকে কথা বলছেন। এই ইস্যুতে কার্যকর কিছু করতে হলে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোবাবিলায় দেশের মানুষ সবাই মেরুতে। এক মেরু হলেও এখনো ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে কাজ করছেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে না পারলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান  বলেন, ‘এটা অত্যন্ত ভালো দিক। এই বিষয়টিকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। মানবতার প্রশ্নে এটা শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক সমস্যাও। তাই সবাইকে মিলেই এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।’