চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফটিকছড়ি পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩০ ১৯:০৭:২১ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩০ ২১:২১:৫৯

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. ঈসমাইল হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে মোট ১২ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঈসমাইল হোসেনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং কর্মকর্তা মুনির হোসেন খান।

এদিকে ঈসমাইলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৪৮ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহমেদ (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ১৪৫ ভোট।

এর আগে নানা শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় ফটিকছড়ি পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বিকেল ৪টায় শেষ হয় ভোট। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সরেজরিন ঘুরে জানা গেছে।

তবে ভোট চলাকলীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীই দাবি করেন- নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। প্রতি দুটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট, স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবি, র‌্যাব তৎপর ভূমিকায় রয়েছে।

সকাল ১০টায় ধুরুং কে এম টেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটারের দীর্ঘ সারি। এ কেন্দ্রের ভোটার আছমা আকতার বলেন, ‘সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। নিরাপত্তাও ভালো। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদের তিন প্রার্থী আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।’

সকাল ১১টায় ফটিকছড়ি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে সেখানে নারী ভোটারদের জটলা দু-একজন জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. হাসানুল কবির বলেন, ‘কোন জাল ভোট হচ্ছে না, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া হচ্ছে। সব পক্ষের পোলিং এজেন্টরা সেখানে রয়েছেন। সকাল ১১টার মধ্যে ৯০০ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬০০।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে এগারটার দিকে লেলাং-রাঙ্গামাটিয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুই নারীকে আটক করে। পরে ভোট শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, বাইরে থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের চ্যালেঞ্জ করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া ভোট সুষ্ঠুভাবে চলছে।

বেলা আড়াইটার দিকে ধুরুং জুবলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের সমর্থিত লোকজন ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আজিমেল কদর বলেন, ‘কেন্দ্র্রের বাইরে কিছু লোক গোলযোগ করার চেষ্টা করেছেন। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনির সদস্যদের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বুথের ভেতরে কোনও সমস্যা হয়নি। এসব আমাদের ধর্তব্য নয়।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শামশুল হক ফৌজদার বলেন, ‘কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনও অভিযোগও পাইনি। শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। এটাই আমরা চেয়েছি। ফটিকছড়ির জন্য নির্বাচন ইতিহাস হয়ে থাকবে। এটি সবার সহযোগিতায় হয়েছে।’

এ দিকে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করছি। আমরা এ ধরনের নির্বাচনই চেয়েছিলাম।’

আওয়ামী লীগ নেতা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেন, ‘নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।’