চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ-তৎপরতা নেই’

প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩০ ১৩:৫৯:৫৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-৩০ ১৬:২৩:৩৫

খালেদা জিয়া বলেছেন, মায়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে মায়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলকে আরো চাপ সৃষ্টি করতে হবে

সোমবার উখিয়ার ময়নারগোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার প্রথমে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চায়নি। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আমি আগেই সরকারকে অনুরোধ করেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে পাঠাতে সরকারের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

মায়ানমার বাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে সরকার সঠিকভাবে সেবা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের যেভাবে সেবা দেয়ার দরকার ছিল, সরকার সেভাবে সেবা দিতে পারেনি।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ ছোট ও দরিদ্র দেশ।আমাদের হৃদয় আছে বলে আমার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। দেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলো তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে তাদের স্থায়ী ভাবে আমাদের পক্ষে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি প্রধান।

সোমবার বেলা পৌনে ১ টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি। এর আগে পৌনে ১১ টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে উখিয়ার পথে রওনা হন তিনি।

এর আগে রবিবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ গাড়িবহর নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও জনতার বিশাল ভিড় পার হয়ে টানা আট ঘণ্টায় কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি।

উখিয়ার কুতুপালং, শফিউল্লাহ কাটা ও বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন। এ ছাড়াও তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পরিচালিত একটি চিকিৎসা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবেন।

চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে ৪৫ ট্রাক নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সরাসরি রোহিঙ্গাদের হাতে ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় ত্রাণের ট্রাকগুলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস সোমবার সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়েরুল কবীর খান।

তিনি জানান, এই ত্রাণের একটি অংশ বেগম জিয়া উখিয়ার ময়নাগর এলাকা থেকে শুরু করে চারটি স্পটে সকাল ১০টা থেকে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেবেন।

এছাড়াও বেগম জিয়া পাঁচ হাজার শিশু খাদ্য ও প্রসূতি সামগ্রী বিতরণের জন্য ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের হাতে তুলে দেবেন বলে জানান শায়রুল।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তার গাড়িবহরটি ফেনীতে প্রবেশের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদরের ফতেহপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

খালেদা জিয়া বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছান। যাত্রাবিরতি শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি ফেনী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

রাত পৌনে ৮টার দিকে মিরসরাই এলাকায় ফের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। মিরসরাই এলাকায় পৌঁছালে ইট ছুড়ে এনটিভি’র গাড়ির দু’দিকের গ্লাস ভেঙে দেওয়া হয়। এতে তিনজন আহত হন।