চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার, রোহিঙ্গা নারী আটক

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৯ ১৮:২৭:৪৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৯ ১৮:২৭:৪৭

বন্ধ হচ্ছেনা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ হচ্ছেনা। শাহপরীরদ্বীপের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট থেকে এসব রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। রবিবার ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫ শতের বেশী রোহিঙ্গা এপারে ঢুকেছে। গতকাল শনিবারেও শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, ঘোলাচরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু এ পারে প্রবেশ করেছেন।

টেকনাফ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রমেন মজুমদার বলেন, রাত থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু এসেছেন। তিনি আরো বলেন, সদ্য অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা তাঁর খাতায় তালিভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মানবিক সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থানীয়রা জানান, বড়ইতলী, জালিয়াপড়া, দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া পয়েন্ট দিয়ে প্রায় ১ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারে নির্যাতন এখনো কমেনি। তারা নির্যাতনের ধরণ ও কৌশল পাল্টিয়েছে মাত্র। তবে শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় সাতশত রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এদেশে পালিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে।

বুচিডং চিন্ডিপ্রাং মৃত ফয়েজুর রহমানের ছেলে হোছন আহমদ জানান, সহিংসতার শুরুতে পরিবারের অধিকাংশদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তিন ছেলেসহ এত দিন ওপারে ছিলেন। তাঁর থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ধানচাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত খামার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলাকায় ছিলেন। কিন্তু ধান ঘরে তোলাসহ ক্ষেত খামারে যাতায়াতে বাঁধা দেয় পাশাপাশি নানাবিধ নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। ফলে সবকিছু পেলে এপারে আসতে বাধ্য হয়েছি।

এদিকে শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট ছাড়াও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রাতের আধাঁরে রোহিঙ্গা এপারে পালিয়ে আসছে। রবিবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নিউ গার্ডেনের সামনে প্রায় ৩ শতাধিক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। এসব রোহিঙ্গাদের সেনা বাহিনীর জওয়ানরা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন করে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

অপরদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এক বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৯ অক্টোবর দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং ফাঁড়ী পুলিশের ইনচার্জ এসআই সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ওই এলাকার মিজানের বাড়ি হতে তল্লাশি চালিয়ে ওই অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। তবে মিজান পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। সোহেল মিযা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন চিহ্নিত ডাকাত। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো, মাইন উদ্দিন খান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিজানকে পলাতক করে মামলা রুজু হচ্ছে।

এছাড়া উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ইয়াবা বিক্রয়কালে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। জানা যায়, গেল রাতে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে কিছু সংখ্যক মাদক ব্যাবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মেজর মোঃ রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। এতে ৯৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রোহিঙ্গা নারী মোছাঃ ফাতেমা খাতুন (৪০) আটক করা হয়। সে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির,উখিয়া, কক্সবাজার, স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম-পানিরছড়া, থানা-মংডু,জেলা-আকিয়াব জেলার মোঃ রুহুল আমিনের স্ত্রী।