চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

সু চির নির্বিকার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা জাতিসংঘ দূতের

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৭ ১৮:৫৮:০৩ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৭ ১৮:৫৮:০৩

রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নির্বিকার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইয়াংহি লি। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়াংহি লি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির কোনও অবস্থান না নেয়াটা সবাইকে বিমূঢ় করেছে। রোহিঙ্গা নামে যে কিছু লোক আছেন, তাও স্বীকার করছেন না তিনি যা হতাশাজনক। সু চির এ নিঃস্পৃহ ভূমিকা হতাশার।’

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন লি। ইয়াংহি লি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ঘৃণার মাত্রা এতটাই তীব্র যে হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোও নিশ্চুপ ভূমিকা পালনে বাধ্য হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রাখাইনে কোনও ধরনের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার জায়গা নেই। সেখানে দশকের পর দশক ধরে চলছে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন। এ অবস্থায় সু চির নির্লিপ্ত আচরণে আমি আশাহত। তার বক্তব্যে মনে হয়, রোহিঙ্গা নামের কোনও জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বই নেই।’

সু চি নিজের জনপ্রিয়তা আর মানবিকতা বোধ কাজে লাগিয়ে এই বর্বরতা থামাতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘের দূত।

রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা। এ বিষয়ে শুরু থেকেই নিশ্চুপ থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে রয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইয়াংহি লি এবার সুচির নিঃস্পৃহ ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইংকে টেলিফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। সেইসঙ্গে তিনি সহিংসতা বন্ধ করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার তাগিদ দেন।

অন্যদিকে, মিয়ানমারকে অস্ত্র না দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল ইহুদি ধর্মযাজক। নিউইয়র্কভিত্তিক একটি সংগঠনের আহ্বানে কমপক্ষে ৩০০ ধর্মযাজক এ সংক্রান্ত একটি আবেদনে সই করেন।