চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

‘আবাসন সমস্যা সমাধানে পরিত্যক্ত খাস জমি ব্যবহারে সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন’

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৭ ১৪:৫০:৩৩ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৭ ১৫:০৩:২০

সিটিজি টাইমসের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তানভীর শাহরিয়ার রিমন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিগত ১২ বছর যাবত লাইফ স্টাইল অ্যাপার্টমেন্ট এবং নিরাপদ বাসস্থান নিয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছে দেশের অন্যতম শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠান এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেড। সর্বোচ্চ মান এবং কারিগরী দক্ষতা নিয়ে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা প্রেট্রোলিয়াম এর সাথে আইকনিক ১৯ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের চুক্তি করেছে এএনজেড প্রোপ্রার্টিস লি. । দেশের শীর্ষ ১৩ টি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সংঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই কাজের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয় প্রতিষ্ঠানটি । আর এই সফলতার পেছনে যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি প্রতিষ্ঠানটির চীফ অপারেটিং অফিসার তানভীর শাহরিয়ার রিমন

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসির মোড়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে সিটিজি টাইমস ডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে চট্টগ্রাম মহানগরীর আবাসন শিল্পের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি। আর একান্ত এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সিটিজ টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক এম আই খলিল

সিটিজি টাইমস ডটকম : চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসস্থান সংকট নিরসনে আপনাদের পরিকল্পনা কি ?
তানভির শাহরিয়ার রিমন : চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসস্থান সঙ্কট নিরসনে অনেক পরিকল্পণা রয়েছে। কিন্তু এসব পরিকল্পণা বাস্তবায়নে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের সংস্থাগুলো যেভাবে প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিচ্ছে তাতে গুটি কয়েক মানুষ উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হলে তিন চতুর্থাংশ নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কথাও ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমি দখলে-বেদখলে এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব জমি দখলমুক্ত ও ব্যবহারের উপযোগী করে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ডেভলপারদের কে দিয়ে বাসস্থানের ব্যবস্থা করলে বাসস্থান সংকট থাকার কথা নয়। এখন অনেকটাই আনপ্রডাকটিভ খাতে এই জমি গুলো পড়ে আছে ।অধিক ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশে আনপ্রডাকটিভ জমি ফেলে রাখা সম্পদের অপচয় ছাড়া কিছু নয় ।

তিনি আরও বলেন দেশে আমরা ২০ শতাংশ মানুষের আবাসনের চাহিদাও পুরণ করতে পারিনি । ছোট ছোট প্লট এ ছোট ছোট ভবন নির্মান না করে একসাথে অনেকগুলো জমি নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে বড় এবং সুউচ্চ ভবন নির্মান করতে হবে । স্যাটেলাইট টাউনশীপ হতে পারে একটা সঠিক পদক্ষেপ । কিন্তু এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন । ওয়ান স্টপ এক্ট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে ভবন নির্মাণের অনেক দীর্ঘসূত্রিতা কমে আসবে এবং আবাসন খাত অনেক গতি পাবে বলে তিনি মনে করেন ।

সিটিজি টাইমস ডটকম : চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসস্থান সংকটে এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেডের অবদান কি রকম ?
তানভীর শাহরিয়ার রিমন : আমরা যখন চট্রগ্রামে কাজ শুরু করি তখন আবাসন ব্যবসার সময় ছিল পয়মন্ত । আমরা সেই পয়মন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে সবসময় এক ধাপ অগ্রগামী থাকতে চেয়েছি । কেবলমাত্র মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তাকে ছাপিয়ে জীবন ধারার সম্পূর্ন নতুন ধারা চালু করতে সাহসী ভূমিকা রেখেছি । নাসিরাবাদ হাউসিং এ আমরা প্রথম মার্বেল ফিনিস্ড প্রডাক্ট ডিজাইন করি । এবং ইকো ফ্রেন্ডলী আবাসনের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের ৫০% এলাকা ছেডে দেই ল্যান্ডস্কেপিং এর জন্য । ইট দেয়ালের ঠাস বুনোটের ফাঁক গলে যারা আকাশ দেখতে পেতেন না তাদের জন্য খোলা টেরেসে নামিয়ে আনি এক ফালি আকাশ ।’এভার গ্রিন স্প্রেল্নডরা’ নামক এই বিশেষ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে ।ডিসেম্বরে হস্তান্তর শেষে এই প্রকল্প হবে আবাসিক স্থাপনার অন্যতম সেরা এক ল্যান্ডমার্ক ।

সিটিজি টাইমস ডটকম : নগরীর বাসস্থান সংকটে এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেড কতটুকু সফল ?
তানভীর শাহরিয়ার রিমন : বাসস্থান খাতে কাজ করতে গিয়ে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞ গবেষনার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান হোঁচট খেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও ধুঁকছে। সেক্ষেত্রে এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেড ব্যতিক্রম । বিগত ১২ বছরে আমরা ২০টি প্রকল্পের আওতায় অর্ধ সহস্র অ্যাপার্টমেন্ট সফল ভাবে হস্তান্তর করেছি ,নির্মান করেছি প্রায় ১০ লাখ বর্গফুট আবাসিক স্থাপনা । বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মান কাজ চলছে যার আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট ।

সিটিজি টাইমস ডটকম : চট্টগ্রামের ভবিষ্যত উন্নয়ন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?
তানভির শাহরিয়ার রিমন :  ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে চট্টগ্রাম সবসময় একটি উর্বর জায়গা। দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রামে। যা শুধু দেশের নয় পৃথিবীর প্রাচীনতম বন্দর । প্রায় ২৩০০ বছরের ঐতিহ্য এই বন্দরের । এই ন্যাচারাল পোর্ট আমাদের জন্য একটা আশির্বাদ । এখন এই পোর্টের যত্ন নেয়া হচ্ছে । পোর্ট সম্প্রসারিত হচ্ছে । বে-টার্মিনাল হচ্ছে । আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ হয় চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে। ফলে চট্টগ্রামের ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে বলার তেমন অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া ঢাকার সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়ন কাজ করছে। মিরসরাইয়ে ত্রিশ হাজার একর জায়গায় এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। আনোয়ারায় হচ্ছে চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারে নির্মিত হবে দুটো পর্যটন ভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল । ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে । ঢাকা চিটাগাং হাইওয়ে, ঢাকা-চট্টগ্রাম বিশেষ রেল লাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন যার অন্যতম । তাছাড়া আমরা চিনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে যুক্ত হচ্ছি যা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুনধুম-মায়ানমার-কুনমিং পর্যন্ত বিস্তৃত হবে । তাছাড়া চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে কর্ণফুলী টানেল ।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম শহরের পরিধি বাড়বে। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণাঞ্চলে আনোয়ারা-পটিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় শিল্পকারখানার প্রসার ঘটবে। তাতে বাসস্থানের চাহিদাও বাড়বে। শিল্পকারখানার সাথে এসব এলাকায় আবাসিক এলাকা গড়ে উঠবে। বড় বড় উচু-উচু ভবন হবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এবং চট্টগ্রাম কে নতুন সাংগহাই হিসাবে পরিচিত করবে ।