চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন ৪ বাতিঘর, ৭ রেডিও স্টেশন

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৭ ০৯:৫১:০১ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৭ ০৯:৫১:০১

দেশের উপকূলীয় এলাকার সাতটি সিগন্যাল রেডিও স্টেশন ও নতুন করে আরও চারটি বাতিঘর স্থাপন করা হবে। এগুলো স্থাপন করা হলে গভীর সমুদ্রে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এই লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক ও বাংলাদেশ নৌ অধিদপ্তর একটি চুক্তি সই করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে ঢাকা অফিস প্রতিনিধি মিস্টার কিং ইয়াংগু এবং এলজি-সামি কনসোর্টিয়াম লিমিডেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস্টার জিয়ং ওউন ইয়োল স্বাক্ষর করেন।

নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান জানান, ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব জিএমডি এসএস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া, নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর, কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্টাল রেডিও স্টেশন নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর, কুয়াকাটা নতুন বাতিঘর নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া বাতিঘর আধুনিকায়ন করা হবে।

নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৮৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেবে নৌ অধিদপ্তর। বাকি অর্থ দেবে এক্সিম ব্যাংক।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই রেডিও স্টেশন ও নতুন ৪ বাতিঘরের কাজ শেষ হবে।

নৌ পরিবহণ মন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উপকূলে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেভিগেশনাল সহায়তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমুদ্রপথে দেশি-বিদেশি জাহাজগুলোর সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে। আইএমও( ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন) এর আন্তর্জাতিক কনভেনশনের চাহিদা পূরণ, আধুনিক নেভিগেশনাল সহায়তা, ভেসেল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, কুতুবদিয়ায় ১৮৪৬ সালে প্রথম বাতিঘর স্থাপন করা হয়। কক্সবাজারে ও সেন্টমার্টিনে ১৯৭৬ সালে স্থাপন করা হয়। এগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।

তিনি বলেন, নতুন লাইট হাউস ও কোস্টাল রেডিও স্থাপন হলে মেরিটাইম ডিজাস্টার ব্যবস্থাপনা উন্নতি করণ সহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোস্টাল এলাকার সব ধরণের জাহাজ, নৌকা, ট্রলার ইত্যাদি উদ্ধার কার্যক্রম সহজ হবে। পৃথিবীর মহাসমু্রের যেকোন স্থানে জাহাজ বিপদগ্রস্ত হলে অবস্থান নির্ণয় করা যাবে।

শাজাহান খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আইএমও এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন না হলে আইএমওর হোয়াইট লিস্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সমুদ্রপথে আমদানিকৃত প্রায় ৯৩ শতাংশ বাণিজ্য ব্যাহত হওয়াসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।