চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ১৮:২১:৫১ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৬ ১৮:২১:৫১

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বুদরুজ জামান (৯৭)। বুছিডংয়ের ইয়ংছং গ্রাম হইতে ১১ দিন পর বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য পৌঁছে। বয়সের ভারে হাড্ডিসার ও অচল হয়ে পড়েছে বুদরুজ জামান। তার ছেলে মোহাম্মদ কাশেম একটি বড় গামলায় করে মা বুদরুজ জামানকে কাঁধে নিয়ে ৫ দিন ধরে হেঁটে মিয়ানমারের ধংখালী সীমান্তে পৌঁছেন। এপারে আসার জন্য ১১ দিন অর্ধাহারে অনাহারে বালুচরে থাকতে হয়েছে। সংগে রয়েছে পরিবারের স্ত্রীসহ আরো ৬ জন ছেলে মেয়ে।

সাবরাংয়ের হারিয়াখালীর সেনা বাহিনীর ত্রান কেন্দ্রে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কাশেম জানায়- মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীর কিনারায় ১০ দিন ধরে নৌকার অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে ১১ দিনের দিন বুধবার ভোর রাতে ২ লাখ কিয়াতের বিনিময়ে এপারে আসতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জানান, ধংখালী বালুচর এলাকায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এপার থেকে নৌকা বা বোট না যাওয়ায় অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। কোন কোন পরিবার ২০ দিন, ১৫ দিন, ১০ দিন পর্যন্ত সীমান্তের বালুচরে অপেক্ষায় রয়েছে। সকলে বুচিডং থানা বিভিন্ন গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলিম। তারা না পারছে এদেশে আসতে না পারছে ফিরে যেতে। খাদ্য ও পানি সংকটে প্রায় রোহিঙ্গা শিশু ও বৃদ্ধারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সে আরো জানায়, মগ সেনারা এখন শারিরীক অত্যাচার, নির্যাতন না করলেও মানসিক ও খাদ্য সংকটে মারছে। ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। কোন কাজ কর্ম নেই। তাই বাধ্য হয়ে এপারে চলে আসি।

এদিকে বুচিডং জেইডং গ্রাম থেকে আসা মৃত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী লায়লা বেগম (২৭) এর সাথে এপ্রতিবেদকের কথা হলে সে জানায়, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা শুরু হলে পরের দিন মিলিটারির গুলিতে মারা যায় স্বামী জিয়াউর রহমান। এরপর থেকে তিন ছেলে মোঃ জুনাইদ (১২), যমজ সন্তান মোঃ জুনাইদ (৭) ও মোঃ ইয়াছের (৭) কে নিয়ে আত্মীয় স্বজনের এবাড়ি ও বাড়ি গিয়ে আশ্রয়ে থেকেছে। কিন্তু চারদিকে খাদ্যের জন্য হাহাকার। পুরুষদেরও সারাদিন বাড়ী থেকে বের হতে দেয়না সেনারা। বাড়ীতে খাদ্য নেই। এ অবস্থায় অর্ধহারে অনাহারে অনেকদিন মানবেতর দিন কাটিয়েছে।

শুনেছি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদেরকে রিলিফ দিচ্ছে। তাই প্রাণ বাঁচাতে তিন ছেলেদের নিয়ে এদেশে এসেছি।

সে আরো জানায়, ২০ দিন যাবৎ ধংখালী বালুচরে নৌকার অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কয়েকটি নৌকা পৌঁছলে এলাকার আরো ৭ টি পরিবারের সাথে সেও তিন ছেলেকে নিয়ে একটি নৌকায় ঠাঁই হয়েছে। আরো হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশু ওই বালুচরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকদিন ধরে অভুক্ত রয়েছে ওইসব রোহিঙ্গারা।

অপরদিকে ত্রান কেন্দ্রে দেখা যায়, সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ৯০ পরিবারকে ত্রান সহায়তা দিয়েছে। যাদের প্রত্যেক পরিবারে ৬ থেকে ১০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে। এছাড়াও আরো এক হাজার মতো রোহিঙ্গা ত্রানের জন্য অপেক্ষায় ছিল।

ত্রান কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় দেড় হাজার মতো রোহিঙ্গা নতুন করে ঢুকেছে এপারে।

এসময় ওই ত্রান কেন্দ্রে সেনাদের অনুমতিক্রমে অনেক দানশীল ব্যক্তিরা খাদ্য দিয়ে আগত রোহিঙ্গাদের সাহায্য করছে। বিভিন্ন সংস্থা বিস্কুট, পানি সরবরাহ করছে। অভুক্ত শিশুরা খাদ্য পেয়ে অমনি খেতে শুরু করেছে।

অসুস্থদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীসহ কয়েকটি মেডিকেল টীম।

এছাড়া ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোর রাতেও প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এক শ্রেনীর দালাল ও নৌকার মাঝিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে তাদের এপারে নিয়ে আসছে।