চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

বিতর্কিত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামকে সরিয়ে দিল ওয়াসা

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ১৬:৫০:৪৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৬ ১৬:৫০:৪৫

মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
স্পেশাল করসপেডেন্ট

তিনি চেয়েছিলেন পদ আকড়ে থাকতে, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা (১) তৌহিদুল ইসলামের একাধিক অনিয়ম, ব্যাপক ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলার একাধিক তথ্য সবোচ্চ মহলের দৃষ্টিগোচর হলে গতকাল বুধবার টনক নড়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। এরই প্রেক্ষিতে রাজস্ব বিভাগের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ (১) থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলে সিটিজি টাইমসকে নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সিটিজি টাইমস। রাজস্ব বিভাগের একাধিক অনিয়ম সন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে রাজস্ব কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের নানা অনিয়মের ঘটনা। ওয়াসার সাফল্যেকে বির্তকিত করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনে সিটিজি টাইমস। ফলশ্রুতিতে তড়িৎ পদক্ষেপ নেন ওয়াসা। তবে বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত যার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে সেই কর্মকর্তা নিজেই একাধিক দূনীতির দায়ে দুনীতি দমন কমিশনের (দুদুক) আসামী হওযায় তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘টাঙ্গাইলের তৌহিদুল ইসলাম ওয়াসাতে চাকুরী নিয়ে আসেন মাত্র কয়েক বছর আগে। নিজেকে জ্ঞানী, সবজান্তা হিসেবে সব সময় জাহির করতে চেষ্টা করতেন তিনি। তার এক ভাই মন্ত্রণালয়ে পিয়নের চাকরী করে। ভাইয়ের পদবী ব্যবহার না করে মন্ত্রণালয়ে ভাইয়ের কথা বলে অনেকের কাছে নিজেকে ক্ষমতাশালী দেখার চেষ্টা করতেন। তার ভাব গম্ভীর ব্যবহারের কারণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও অনেকটা ¯েœহের চোখে দেখতো।’

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের সরলতাকেই পূঁজি করে তৌািহদুল ইসলাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দিনের পর দিন বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুনজরে থাকায় তৌহিদুল ইসলামের উর্ধতন ও নি¤œ পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা অনিয়মের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ মহলে জানাতে ভয় পেতেন।’

অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা (১) তৌহিদুল ইসলামের ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্বোচ্চ মহল কি ভাবছে জানতে চাইলে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য খোকন সিটিজি টাইমসকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েই তৌহিদুল ইসলামের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রথমেই রাজস্ব বিভাগের অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব কর্মকর্তা (১) পদ থেকে গতকালই (বুধবার) তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’ মূলত তার অদক্ষতা, কর্মে গাফেলতি ও গ্রাহকদের প্রতি দূরব্যবহারের কারণেই প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) আরো বলেন, ‘ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তৌহিদুল ইসলামের নানা অনিয়মের ব্যাপারে ওয়াসার সবোচ্চ মহল কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাই এই সব অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত করে অতি কম সময়ের মধ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সি এম) ড. পীযুষ দত্তকে। সিএমের তদন্ত রির্পোটের উপর ভিত্তি করেই তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আরও কি কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে।’

ওয়াসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যোষ্ঠ এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে সিটিজি টাইমসকে বলেন, এখন দেখার বিষয় ড. পীযুষ দত্ত তৌহিদুল ইসলামের ব্যাপারটি আগামীতে কিভাবে নিচ্ছেন। কারণ পীযুষ দত্ত নিজেই রাজস্ব বিভাগের বড় কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, বতর্মান ওয়াসার বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক ড. পীযুষ দত্ত ওয়াসাতে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন কার্যক্রমে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দেয়ালে পোষ্টার সাটানো হয়েছিল। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তিনি নিজেই যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত, সেখানে রাজস্ব কর্মকর্তা (১) তৌহিদুল ইসলামের দুর্নীতি সুষ্ঠু তদন্ত ড. পীযুষ দত্ত কিভাবে করবেন সেই প্রশ্ন রাখেন চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার এই কর্মকর্তা।