চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে যৌনবৃত্তি: রয়টার্স

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৫ ১১:০৫:০১ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৫ ১৪:৪৬:১৭

মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্রমেই যৌনবৃত্তি বাড়ছে বলে দাবি করেছে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন। তাদের মতে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা নারী আছেন, যারা যৌনবৃত্তিতে যুক্ত। এ সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

গত ২ মাসে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের বেশির ভাগই উঠেছেন কক্সবাজারে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে। কক্সবাজারের আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গার বাস, যাদের মধ্যে অনেকেই বেঁচে থাকার তাগিদে যৌনবৃত্তির পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে নতুন করে আসা অনেক রোহিঙ্গা নারী এ পথে পা বাড়াবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌনবৃত্তিতে যুক্ত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে দালাল হিসেবে কাজ করেন, এমন এক নারী থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, ‘কুতুপালংয়ে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা নারী যৌনবৃত্তিতে যুক্ত। যারা তাদের এ পথে এনেছেন, তাদের দৃষ্টি এখন নতুন আসা রোহিঙ্গা নারীদের দিকে। ’

জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা—ইউএনএফপিএ’র বিশেষজ্ঞ সাবা জারিফ বলেন, ‘ক্যাম্পের কতজন যৌনবৃত্তিতে যুক্ত, সেই হিসাব আমরা এখনও করিনি। আর এটা করাও খুব কঠিন। ’

এই পেশায় আসা বেশির ভাগেরই বয়স কম। এদেরই একজন রিনা (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি এই আশ্রয় শিবিরে। এখন আমার বয়স ১৮। ২ বছর আগে এক মাদকাসক্তের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। প্রথম সন্তানের পর ভরণপোষণের ভয়ে স্বামী পালিয়ে গেছে। ওই সময় আমি যৌনবৃত্তির সিদ্ধান্ত নেই। কারণ, আমার আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না।’

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন জানায়, দরিদ্রতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং টাকা পয়সার অভাব—মূলত এসব দুর্বলতার কারণে একজন রোহিঙ্গা নারীকে যৌনবৃত্তিতে আনার কাজটি সহজ করে দেয়। সূত্র: রয়টার্স।