চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামের তারুণ্যদীপ্ত তরুণ উদ্যোক্তা নিয়াজ মোরশেদ এলিট

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৩ ১৯:২৯:১৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৩ ১৯:২৯:১৫

এম মাঈন উদ্দিন

স্বপ্নচারী ও বাস্তববাদী এক তরুণের নাম নিয়াজ মোরশেদ এলিট। যিনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেও জানেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তাদের মডেলে পরিনত হয়েছেন তিনি। অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতায় সাফল্যকে হাতের মুঠোয় এনে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। প্রতিষ্ঠান আর সংগঠন যেখানেই হাত দিয়েছেন সাফল্য এসে ধরা দিয়েছে তার কাছে। যে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন সেটিকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।

১৯৮৩ সালের ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামে মনিরুল ইসলাম ইউসুফ এবং লুৎফুর নাহারের ঘরে জন্ম এলিটের। ২০০০ সালে চট্টগ্রাম সরকারী স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০২ সালে ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি ও ২০০৬ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করেন তিনি। তার দুই বোনের মধ্যে রেজা লতিফা রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি, এলএলএম পাশ করেছেন। আরেক বোন রেজা দিলরুবা রহমান বিবিএ, এমবিএ পাশ করেছেন। ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল স্থপতি তাসমিনা আহমেদ শ্রাবণী’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এলিট । তার নুহা নিয়াজ সাড়ে ৩ বছর ও নাউফা নিয়াজ ১ বছর বয়সের দুটি ফুটফুটে কন্যা রয়েছে। পিতা বড়তাকিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান। পিতার প্রতিষ্ঠিত গ্রুপের খ্যাতি দেশময় ছড়িয়ে দিতে নিরন্তর কাজ করছেন নিয়াজ মোরশেদ এলিট। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই চিন্তা ছিল, দেশের জন্য ভাল কিছু করবেন। ছাত্রবস্থায় মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সংগঠনের দায়িত্ব নিতে শুরু করেন এলিট। ঢাকাস্থ ব্রাদার্স ইউনিয়নের পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। কাজ করতে থাকেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। তামিম ইকবাল, আফতাব আহমেদসহ নামকরা অনেক খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে। এতে নিয়াজ মোরশেদ এলিটের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিলো।

সেই থেকে শুরু। আস্তে আস্তে জড়াতে থাকেন আরও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে।

নিয়াজ মোরশেদ এলিট বলেন, প্রতিটি মানুষের এই সমাজ দেশের প্রতি কিছু দায়িত্ববোধ আছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকে আমি সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার কথা চিন্তা করতাম। আর সংঠনের মাধ্যমে সম্ভব ইতিবাচক কিছু করা। আমি মনে করি সাংগঠনিক শক্তি অনেক দুরহ কাজকে সহজ করে তুলে। সেজন্য আমি যা কিছু করতে চেয়েছি সাংগঠনিক ভাবে করেছি।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এলিট। বর্তমানে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের ছায়াতলে চট্টগ্রামের তরুণ শিল্পপতিরা মিলিত হয়ে কাজ করছেন দেশের উন্নয়নে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের পাশে থাকার প্রত্যয়ে ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করছেন বেশ কিছু কর্মসূচী। আর সবকিছুতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

নিয়াজ মোরশেদ এলিটের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের অভিজাত ক্লাব চিটাগাং খুলশী ক্লাব লিমিটেড। চিটাগাং ক্লাব আর সিনিয়রস ক্লাবের বাইরে গিয়ে এমন একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠার কথা স্বপ্নেও ভাবেননি চট্টগ্রামের অগ্রসর নাগরিকরা। স্বপ্নেরও অধিক বিষয়টিকে বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন এলিট।

খুলশী ক্লাবে এখন আটশ’রও বেশি সদস্য আছেন। পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির প্রত্যয়ে কাজ করছে এই সংগঠন।

মানবাধিকার রক্ষায়ও কাজ করে চলেছেন তরুণ এই শিল্পদ্যেক্তা। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহ নানা উপকরন বিতরণ কর্মসূচী পালন করেছেন নিজ উদ্যোগে। তিনি সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহনের পর পুরো চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় সংগঠনে প্রানের সঞ্চার হয়েছে।

এলিট বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কল্যানে কাজ করে তাহলে আমাদের এই দেশ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে।

সংগঠন আর শিল্প তথা ব্যবসায়িক প্রসারে নিয়াজ মোরশেদ এলিটের খ্যাতি সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ছে দেশময়। তার আদর্শিকতা তরুন প্রজন্মের জন্য মডেল। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে তরুন প্রজন্ম। তাদের সুযোগ করে দিলে এদেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দেবে তরুনরা।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়নের পরিচালক হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন তিনি । প্রায় একই সময়ে অর্থাৎ ২০০৭ সালেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। তখনকার ব্রাদার্স ইউনিয়নের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য মিটিংয়ে আমাকে ‘অল্পবয়সী’ বলে তিরস্কার করেন। ক্রীড়া সংগঠকরাও বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেননি। অথচ তিনি ছিলেন নির্বাচিত পরিচালক।

সেই তিরস্কার দারুণভাবে মনে দাগ কাটে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের। তখন থেকেই তরুণদের সক্ষমতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন সমাপ্ত করা এলিটকে পেয়ে বসে জেদ, সক্ষমতা প্রমাণের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় এবং শুরু হয় অভীষ্ট লক্ষ্যে ছুটে চলা।

এলিট বলেন, ‘আমার জীবনের সব অর্জনই কোনো না কোনো জেদ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে হয়েছে। চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালেই চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম ক্রিকেট কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হই।

বর্তমানে তিনি সেই ব্রাদার্স ইউনিয়ন ঢাকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, দাবা ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা। ক্রীড়া সংগঠনের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি চলতে থাকে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার চেষ্টা।

এলিট বলেন, ‘২০০৭ সালে যে চ্যালেঞ্জ আমি ছুড়ে দিয়েছিলাম সেটি প্রমাণ করতে আমাকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০১২ সালে তরুণদের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) প্রতিষ্ঠা করি। এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি ছিল আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্নপূরণ। ’ তিনি বলেন, ‘তরুণদের দিয়ে বড় কিছু করা সম্ভব, তা প্রথমবার বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। জেসিআই হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের আশার আলো, ইউনাইটেড ভয়েস বা সম্মিলিত শক্তি। ’

সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরুর আগে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড়তাকিয়া গ্রুপে ২০০১ সালে হাতেখড়ি হয় নিয়াজ মোর্শেদের। ২০ বছর বয়সী এলিট তখন ছিলেন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ। বড়তাকিয়া গ্রুপ তখন দেশে থ্রি হুইলারের একচেটিয়া ব্যবসা করছে। চাকরির সেই ছোট অভিজ্ঞতার সুবাদে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রাণশক্তি পান তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয় ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। দুই অভিজ্ঞতা ও তাঁর উদ্যমী ভাব দেখে বাবা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ছেলেকে নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বসাতে সামান্য কুণ্ঠাবোধ করেননি।

বাবার নির্বাচন যে সঠিক ছিল তিনি এরই মধ্যে তার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে বড়তাকিয়া গ্রুপের কর্মপরিধি বহুগুণ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার কর্মী সরাসরি কর্মরত আছে। বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি টাকার মতো। আর প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৮৯ সালে টাটা ট্রাক বিক্রির ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি নিয়াজ মোর্শেদ। ২০০০ সালে ভলভো-আইশার ট্রাক ডিস্ট্রিবিউটর, পিয়াজিও ব্র্যান্ডের টেম্পোর একচেটিয়া ব্যবসাও তাঁরা করেছেন। টুকটুক ব্র্যান্ডের সবুজ টেম্পো দেশে প্রথম তৈরি ও বাজারজাত করে ব্যাপক সাড়া পায় প্রতিষ্ঠানটি। এখন পিয়াজিও ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেশে সংযোজন শুরু করেছি আমরা। গাড়ি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন দেশে সংযোজন কারখানার দিকে মনোযোগ দিয়েছি আমরা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর পর পর ব্যবসার ট্রেন্ড বা ধরন পরিবর্তিত হয়। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসার বহুমাত্রিকতা আনতে হয়। এ জন্য আমরা চীনের বিনিয়োগে বড় ধরনের সংযোজন কারখানা করছি। ’

ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বড়তাকিয়া গ্রুপ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে যোগ দিয়েছে। বন্দরে জেটি মেরামত, যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ অনেক কাজ বেশ দক্ষভাবে পরিচালনা করছে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্মাণকাজও করছে ইদানীং।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও সরকারি-বেসরকারি প্রধান অফিসগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক, যেকোনো কিছুর জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হচ্ছে। সেটা ছেলের স্কুল বলেন, আর ব্যবসার উদ্যোগ বলেন। এই নীতি পাল্টাতে হবে। চট্টগ্রামে প্রচুর তরুণ ব্যতিক্রমী আইডিয়া দিয়ে সক্ষমতার প্রমাণ রাখছে কিন্তু আনুষঙ্গিক সুবিধা না থাকায় তারাও ঢাকামুখী হচ্ছে।

এ থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে জেসিআই বাংলাদেশের নির্বাহী সহসভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করে ১৮ থেকে ৪০ বয়সী তরুণদের নীতিমালা তৈরি করা, স্টার্টআপ বা শুরু ব্যবসা সহজ শর্তে অর্থাৎ এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেওয়া এবং নারী উদ্যোক্তাদের মতো বড় তহবিল গঠন করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির সুযোগ দিয়ে তাদের অর্থনীতির মূল ¯্রােতে নেওয়াটাই হচ্ছে সমাধান। এতে প্রত্যেক উদ্যোক্তা নিজ এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে, চাকরি দেবে, সেই এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে।

তরুণদের হাতেই এগিয়ে যাবে দেশ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও যারা একাডেমিক্যালি ভাল ফল করে তাদেরকে বিনা সুদে লোন দেওয়া হয়। এভাবে তারা উদ্যোক্তা তৈরী করে। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। উদ্যোক্তা তৈরী করার জন্য নীতিমালা তৈরী করতে হবে। নীতি নির্ধারকদের মানসিকতার পরিবর্তন চাই। অভিজ্ঞতা ছাড়া লোন পাওয়া যায় না। করপোরেট হাউস সম্পর্কে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, করপোরেট হাউসগুলো আত্মীয়তার কোটারি থেকে বের হতে পারেনি।

রাজনীতি নিয়ে বিশেষ কোন চিন্তা ভাবনা নেই তার। তবে রাজনীতি দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে হওয়া উচিৎ। যেটা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। বর্তমানে রাজনীতিতে আসল জিনিস নেই। তরুণ শিক্ষিতরা রাজনীতিতে না আসলে সবকিছুই অযোগ্যদের দখলে চলে যাবে। তাই তরুণদের ভালভাবে শিক্ষিত হয়েই রাজনীতিতে আসা দরকার।দেশের উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি প্রাইভেট সেক্টর সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ না হওয়ার কারণ হচ্ছে গ্যাস নেই, ইলেট্রিসিটি নেই। এসব নেই যদি আছেতে রূপান্তরিত হয় তাহলেই দেশের অগ্রগতি।

এলিটের বক্তব্য হচ্ছে তরুণদের সাথে নিয়ে তাকে অনেকদূর যেতে হবে। সুতরাং মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আত্মতৃপ্তির জায়গা খোঁজার অবকাশ নেই। সেভাবে চিন্তাও করিনি। চিন্তায় আছে অনেকদূর যেতে হবে। তবে উত্তরসূরীরা ভাল করলে খুশী হই। আনন্দ লাগে। আত্মতুষ্টির জায়গা খুঁজে পাই। ভবিষ্যতের জন্য একই ধরনের ম্যাসেজ থাকল তরুণদের জন্য। বড় পরিসরে কর্মজীবনের ব্যাপ্তি মাত্র ৯ বছর হল এলিটের। বিভিন্ন ফোরামে গেলে দেখা যায় তরুণ নেতৃত্বের জন্য কিছু জায়গা খালি থাকে। তখন খুবই ভাল লাগে। চট্টগ্রামে আগে ব্যবসার কথা বলার জন্য চার পাচঁজনের বেশী ছিল না। এখন অসংখ্য হয়েছে যারা ব্যবসা ভাল বুঝেন এবং ভাল বলেন।

মা, বোন, পিতা ও এলিট সবাই বড়তাকিয়া গ্রুপের বিভিন্ন দায়িত্বে আছে। এলিটের ছোট বোন অষ্ট্রেলিয়াতে পড়ালেখা করছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট বোনও হয়ত ব্যবসায় আসবে। এ গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজের এলাকা মিরসরাইসহ বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, এতিমখানা, স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করেছে এ গ্রুপ। যার সুফল পাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

এছাড়া এলিটের হাতে গড়া জুনিয়র চেম্বার থেকে ফ্রি মেডিকেল, ৭০জন এতিমের জন্য ভবন করে দেয়াসহ নানা জনসেবামূলক কাজ ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এসব কাজকে আমরা প্রজেক্ট বলি। সামাজিক পরিবর্তন করতে চাই এসব ঠেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে।

এলিটের আইডল কে? এ প্রশ্ন মুখ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই এলিটের উত্তর ‘আমার আইডল হচ্ছেন মা’। তিনি আমার কাজের প্রেরণা। সহধর্মিনীর প্রেরণাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে চাই বলে দুই সন্তানের জনক এ তরুণ উদ্যোক্তা। স্ত্রীর নাম তাসমিনা আহমেদ।

তরুণদের হাতেই এগিয়ে যাবে দেশ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও যারা একাডেমিক্যালি ভাল ফল করে তাদেরকে বিনা সুদে লোন দেওয়া হয়। এভাবে তারা উদ্যোক্তা তৈরী করে। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। উদ্যোক্তা তৈরী করার জন্য নীতিমালা তৈরী করতে হবে। নীতি নির্ধারকদের মানসিকতার পরিবর্তন চাই। অভিজ্ঞতা ছাড়া লোন পাওয়া যায় না। করপোরেট হাউস সম্পর্কে বলেন, করপোরেট হাউসগুলো আত্মীয়তার কোটারি থেকে বের হতে পারেনি। যোগ্যতা না থাকলেও এমডি, ডিএমডি করতে হবে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদেরকে। অথচ প্রথম প্রজেক্টে লাভ করার পরই আমাকে এমডির দায়িত্ব দেন বাবা।

যে সকল দায়িত্বে রয়েছেন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বড়তাকিয়া গ্রুপ অব কোম্পানীজ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চিটাগাং খুলশি ক্লাব লিমিটেড, সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, সভাপতি বর্ষ বরণ পরিষদ চট্টগ্রাম, প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম কসমোপলিটন, যুগ্ম সমন্বয়ক সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগ, নির্বাহী সহ সভাপতি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, পরিচালক ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড ঢাকা, ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের সদস্য, শাহীন গলফ এন্ড কান্টি ক্লাবের আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।