চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুষমা

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২২ ২৩:০৮:০৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৩ ১১:২৬:০৮

ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ‘মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে, এটা বাংলাদেশের বড় বোঝা’।

রবিবার সন্ধ্যায় গণভবনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দুপুরে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিশেষ বিমানে রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি।

সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে যৌথভাবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক কমিশনের চতুর্থ সভায় সভাপতিত্ব করবেন সুষমা স্বরাজ। দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাথে। সাক্ষাৎ হবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও।

ভারত সরকারের অর্থায়নে ১৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সুষমা স্বরাজ। সফরে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সেখানে সুষমা স্বরাজ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্র প্রতীকী হিসেবে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করবেন। মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। ওই সময়ে প্রায় ১৭০০ ভারতীয় সৈন্য আত্মাহুতি দেন। তাদের ব্যবহার করা সমরাস্ত্রের একটি প্রদর্শনী সুষমা স্বরাজের সফরকালে সোনারগাঁও হোটেলের হলরুমে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনের নিজস্ব কর্মসূচিতে যোগ দেবেন সুষমা স্বরাজ। সকাল সাড়ে ৯টায় ভারতীয় হাইকমিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর উপস্থিতিতে নতুন চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন সুষমা স্বরাজ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে ১৫টি উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সেখানে তিনি অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আলাদা বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের একটি বৈঠক হবে। তবে বৈঠকটি কখন, কোথায় হবে তা এখনো চূড়ান্ত করে বলা যাবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে সুষমা স্বরাজের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি অনেক আগেই বাংলাদেশ সফরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে উভয় দিকে ব্যস্ততার কারণে তার সফর অনেকটা বিলম্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটা চতুর্থ জেসিসি বৈঠক। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় জেসিসি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বিকালে চতুর্থ জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অপরদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টিতে অধিক গুরুত্বারোপ করা হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা সাম্প্রতিকালে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় ওই নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব হতাশা ব্যক্ত করেছিল।

মানবিক কারণেই সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানবিক বিপর্যয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের দায়িত্ব। রোহিঙ্গাদের বিপর্যয়ের সময় আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াতাম তবে তা অমানবিক হতো।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক এর সদস্য ৩১টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ত্রাণ তহবিলের চেক গ্রহণকালে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাসোসিয়েশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবিক কল্যাণে সবসময় এগিয়ে আসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস। সম্প্রতি বন্যার সময় তারা জনগণের পাশে ছিল। এখন মায়ানমার থেকে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশে আসা লোকদের সাহায্যেও এগিয়ে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন অত্যাচার করেছিল, এরাও একই রকমের অত্যাচারের শিকার। একাত্তরে তিন কোটি বাঙালি গৃহহারা হয়েছিল, আর এক কোটি শরণার্থী হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার এবং তার ছোট বোনের শরণার্থী জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘৬ বছর শরণার্থী হিসেবে থাকার কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের দুঃখ ও যন্ত্রণা বুঝি।’

রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্থাপিত পাঁচ প্রস্তাবের আলোকেই এ সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানেও জঙ্গিবাদী ঘটনা ঘটেছিল। আমরা তা দমন করেছি।

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সর্বশ্রেণির মানুষের এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ মানবতাবোধ সম্পন্ন। তারা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সহায়তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং তার দলের স্বেচ্ছাসেবকরা এসব নিপীড়িত মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে নিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেখানে বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।