চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

জনসংখ্যার ভারে ন্যুয়ে পড়ছে উখিয়া-টেকনাফ : জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২১ ১০:৪৩:১৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-২১ ১০:৪৩:৫১

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

সাড়ে ১৫ লাখ জনসংখ্যার ভারে ন্যূয়ে পড়েছে উখিয়া-টেকনাফ। বিশ্বের সবচেয়ে সর্ববৃহৎ শরনার্থী ক্যাম্প এখন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায়। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় রোহিঙ্গা আগমন এবং আশ্রয়ের প্রেক্ষিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, যাতায়াত ভাড়া, বনজসম্পদ শ্রমবাজার, সড়কসহ তৎসংলগ্ম এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সড়কের পার্শ্বে পাহাড়ে আশ্রয় দেয়ার পর টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক পরিবহণ, যানবাহন ও যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুন বৃর্দ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় সড়কের প্রশস্থতা সংকুচিত হবার কারণে সরকারী ও বেসরকারী যাত্রীরা নিজ গন্থব্য স্থানে পৌঁছতে বিলম্ব হয়।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী, সাগর ও বিস্তীর্ণ পাহাড় বেষ্ঠিত উখিয়া-টেকনাফ এ ২টি উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর। লবণ, চিংড়ী, পান, সুপারী, মৎস্য ও বন-সম্পদ জাতীয় অর্থনীতেতে বেশ অবদান রাখছে। বর্তমান সরকার পর্যটন ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতিপূর্বে সরকার টেকনাফের সাবরাং কাটাবনিয়া ও নাফ নদীর বুকে জেগে উঠা জালিয়ারদ্বীপকে অর্থনৈতিক জোন হিসাবে ঘোষানা দিয়েছে। এতে জুলন্ত ব্রীজসহ পর্যটন বান্দব অত্যাধুনিক বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া স্মরনকালের এ ২টি উপজেলার সমূদ্র উপকূল দিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইব সড়ক সংযুক্ত হবার পর এ অঞ্চলের চেহারা পাল্টে গেছে। দেশী ও বিদেশী পর্যটক এখন সাগর পাড়ে এক দীর্ঘ মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। সরকার এ ২টি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামো এবং পর্যটন ব্যবস্থার অগ্রাধিকার দিকে শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যাহা শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে। এদিকে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়া নাফ নদীর তীরে ২৩ কোটি টাকা ব্যায়ে বাংলাদেশ মিয়ানমার (৫৫০ মিটার) ট্রানজিট নির্মিত হয়েছে। শিগ্রি এ জেটি শুভ উদ্বোধন হবে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জানায়।

অপরদিকে ২০১৭ সালে ১৯ অক্টোবর শাহপরীরদ্বীপের বিধ্বস্থ বেড়ীবাঁধ নির্মাণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্ধের প্রকল্পের কাজের ফলক উম্মোচন করেছেন উখিয়া টেকনাফ থেকে নির্বাচিত সাংসদ আব্দুর রহমান বদি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না করতেই ফের মিয়ানমার থেকে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় আশ্রয় নেয়। এ দুই উপজেলার জনসংখ্যা ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গা ১০ লাখ সহ মোট ১৫ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার ভারে ন্যুয়ে পড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে সর্ববৃহৎ শরনার্থী ক্যাম্প বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা। রোহিঙ্গা আগমন এবং আশ্রয়ের প্রেক্ষিতে বেশীরভাগ যেসব সমস্যা বিরাজ করছে, তার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, যাতায়াত ভাড়া, বনজসম্পদ শ্রমবাজার, সড়কসহ তৎ সংলগ্ম এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। রোহিঙ্গাদের সড়কের পার্শ্বে পাহাড়ে আশ্রয় দেয়ার পর টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক পরিবহণ, জানবাহন ও যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুন বৃর্দ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় সড়কের প্রশস্থতা সংকুচিত হবার কারণে সরকারী ও বেসরকারী যাত্রীরা নিজ গন্থব্য স্থানে পৌছতে বিলম্ব হয়। উখিয়া-টেকনাফের সচেতন জন সাধারণ দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, উখিয়া-টেকনাফ দিয়ে যাওয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ থেকে বাঁচতে উখিয়া-টেকনাফের সর্বস্থরের জনগণ যোগাযোগ মন্ত্রীর প্রতি জোর দাবী জানান। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার প্রবেশধার উঠনী নামক টেক্ বা বাঁকা সড়কটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময় এ সড়কে সড়ক দুর্গঘটনা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পূণ্য নিয়ে পরিবহণ মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। ফলে এ সড়কে বিভিন্ন যানবাহ ও পরিবহন জনজাট সৃষ্টি হয়। সচেতন যাত্রী সকলের মতে উঠনী নামক সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। টেকনাফ স্থল বন্দর থেকে দৈনিক ২০/২৫ টি আমদানি পণ্য বোঝাই পরিবহন চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে থাকে। টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের লিংক রোড পর্যন্ত ৮৬ কিঃ মিটারের মধ্যে প্রধান সড়কের পাশে বাজার, সামাজিক ক্লাব, দোকান নির্মিত হওয়ায়, উভয়মূখী দিয়ে আসা একটি যাত্রীবাহীবাস ও অপর একটি বাসকে সহজে সাইট দিতে পারেনা। ফলে প্রায় সময় ঝানজাট সৃষ্টি হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ থেকে বাঁচতে উখিয়া-টেকনাফের সর্বস্থরের জনগণ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানান সচেতনমহল।