চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশে পেপ্যালের ‘জুম সার্ভিস’ চালু

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৯ ১২:৩৭:১৪ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৯ ১৭:৪৪:৫০

সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে অর্থ স্থানান্তরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পেপাল বাংলাদেশে চালু হলো পেপালের জুম সেবা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন সকালে এই সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় বলেন, ‘এতো দিন প্রবাসীরা বিভিন্ন চ্যানেলে তাদের কষ্টাজিত অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে যেমন পয়সা খরচ বেশি হচ্ছে তেমনি করে বিরম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। পেপালের জুম সেবা চালুর মাধ্যমে এখন থেকে তারা সহজেই পেপালের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশে ৪০ মিনিট থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে টাকা পাঠাতে পারবেন।

জয় আরও বলেন, ‘শুরুতে পেপালের জুম সেবার মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা দেশে পাঠানো যাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে পেপালের এই সেবা চালু করার অঙ্গীকার করেছিলাম। আজ সেবার উদ্বোধন হলো। যদিও এই সেবা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘শুরুতে এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিদেশ থেকে পাঠাতে খরচ হবে ৪.৯৯ ডলার। কিন্তু এক হাজারের বেশি ডলার বাংলাদেশে প্রেরণ করলে কোনো খরচ দিতে হবে না।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা তাদের পেপাল অ্যাকাউন্ট থেকে সোনালী ব্যাংকের আটটি শাখার মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এটা আমাদের সফলতার প্রথম ধাপ।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, ‘আজ দেশে পেপালের জুম সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা কম খরচে দ্রুত সময়ে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন। একইসঙ্গে ফ্রিল্যান্সাররাও তাদের অর্জিত অর্থ দেশে আনতে পারবেন।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সারদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেপাল। আজ পেপালের জুম সেবা চালু হলো। এতে করে দেশে রেমিটেন্স আরো বাড়বে।’

আসিটি সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প থেকে ১৩ হাজার তরুণকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার তরুণ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে। এই ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ সহজে দেশে আনার জন্য পেপালের জুম সেবা চালু করা হলো।’

পেপাল কি?

মার্কিন কোম্পানি পেপাল হোল্ডিংস বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। এটি অনলাইন অর্থ স্থানান্তর ও প্রচলিত কাগুজে পদ্ধতির পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ইন্টারনেট পেমেন্ট কোম্পানি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সারদের কাছে জনপ্রিয় মাধ্যম।