চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

ম্যাঙ্গো ড্রিংকে আসল আম মাত্র পাঁচ ভাগ!

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৮ ২১:১১:৫৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৯ ১৬:০৯:৩১

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে দেশে তৈরি চারটি ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ড্রিংক পরীক্ষা করে বিডিএস মানের (বাংলাদেশের পণ্য সংশ্লিষ্ট মান) চেয়ে নিম্ন মাত্রায় ম্যাঙ্গো পাল্প পাওয়া গেছে। এই চারটি ড্রিংক হচ্ছে-ম্যাঙ্গো কিং, ফ্রুটিক্স, সেজান ম্যাঙ্গো জুস ও আফি ড্রিংক। ম্যাঙ্গো পাল্পে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ আসল ফলের রস থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাজারে থাকা এসব ড্রিংকে আসল ফলের রসের অস্তিত্ব চার থেকে ছয় শতাংশের বেশি পাওয়া যায়নি। এ কারণে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিয়মানুযায়ী, জুসের ক্ষেত্রে বোতলে ৮০-১০০ শতাংশ পাল্প বা আসল ফলের রস থাকতে হবে। ড্রিংক হলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ আসল ফলের রস থাকতে হবে। উল্লিখিত ড্রিংকগুলোর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে,সংশ্লিষ্ট চার প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নির্ধারিত ন্যূনতম মান অনুসরণ করছে না।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আজম স্বাক্ষরিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, চারটি ড্রিংকসের মধ্যে সবচেয়ে কম পাল্প রয়েছে এএসটি লিমিটেডের ‘ম্যাঙ্গো কিং’ ড্রিংকে। এর ড্রিংকে পাল্পের পরিমাণ মাত্র শতকরা ৪ দশমিক ৪ ভাগ। এরপর প্রাণ কোম্পানির ‘ফ্রুটিক্স’-এ পাল্প আছে শতকরা ৪ দশমিক ৮ ভাগ, সজীব গ্রুপের ‘সেজান’-এ আছে শতকরা ৫ দশমিক ৪ ভাগ এবং আকিজের ‘আফি ড্রিংক’ এ পাল্প আছে শতকরা ৬ দশমিক ২ ভাগ।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) মো. মাহবুব কবীর বলেন,‘পরীক্ষা করা চারটি পণ্য ড্রিংক ক্যাটাগরিতে পড়ে। এবং এক্ষেত্রে অন্তত ১০ ভাগ পাল্প (আসল ফলের রস) থাকার কথা থাকলেও তারা কেউই এই নির্ধারিত মানটি মেনে চলেনি। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ।’

তবে এই পরীক্ষার ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রাণ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এরকম কোনও পরীক্ষার বিষয়ে আমরা অবহিত নই। পৃথিবীর যেকোনও তৃতীয় একটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখুন, এধরনের কোনও ফল আসতেই পারে না।’

এদিকে, সজীব গ্রুপের রেগুলারেটরি অপারেশন্স এর ম্যানেজার আবু সুফিয়ান জুয়েল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিএসটিআই-এর মান মেনে চলি। এরকম কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

‘আফি ড্রিংক’ এর বিষয়ে জানতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আকিজ-এর সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। আর ‘ম্যাঙ্গো কিং’ এর উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এএসটি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।- বাংলা ট্রিবিউন