চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

দেশি চালের তেজীভাব, খুচরাতে নেই প্রভাব

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৮ ১৪:০০:০৯ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৮ ১৪:০০:০৯

এম আই খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইম্‌স

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে চট্টগ্রামে চালের মূল্য কিছুটা কমেছে বটে। তাও আমদানি করা চালে। দেশী চালের তেজীভাব রয়ে গেছে এখনো। পাইকারি বাজারে চালের মূল্য যে হারে কমেছে তার সমহারে প্রভাব নেই খুচরা বাজারেও।

ফলে চালের মূল্যের আগুনে পুড়েই চলেছে চট্টগ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বাজারে চাল কিনতে গিয়ে যাদের হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে।

নগরীর বহদ্দারহাটের খুচরা বাজারে চাল কেনার সময় চান্দগাঁও ফরিদের পাড়ার বাসিন্দা আরিফুর রহমান (৩৪) হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৩৫০ টাকা কমে চাল বিক্রয় হচ্ছে। সে হিসেবে কেজিপ্রতি ৭ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কমেছে ২-৩ টাকা।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা চাল আগেও বস্তাপ্রতি ২৩৫০ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। তখন খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি বিক্রয় হয়েছে ৪৮ টাকা। এখন এ চাল বস্তাপ্রতি ১৯৫০ টাকায় বিক্রয় হলেও খুচরায় কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ৪৬ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা বেতি চাল বিক্রয় করা হতো কেজি ৪৩ টাকা। এখন বিক্রয় হচ্ছে ৪২ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে এ চাল বস্তপ্রতি ২১৫০ টাকা থেকে কমে ১৮০০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে।

নগরীর চকবাজার, কাজীর দেউরি, কালামিয়া বাজার, কর্ণফুলী বাজার, ঝাউতলা, দেওয়ান হাট বাজরসহ সবকটি বাজারে একই মূল্যে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাল বিক্রয় হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা। আলাপকালে কয়েকজন ক্রেতা জানান, আমদানি করা চালের মূল্য খুচরা বাজারে ২-৩ টাকা কমলেও একদম কমেনি দেশি চালের মূল্য।

দেশি চালের তেজীভাবের কথা স্বীকার করে ঝাউতলা এ রহমান এন্ড সন্সের মালিক আব্দুর রহমান জানান, দেশী চালের মধ্যে জিরাশাইল, আশুগঞ্জ বেতি এবং মিনিকেট আতপ ও মিনিকেট সেদ্ধ চালের দাম খুচরা বাজারে এক টাকাও কমেনি। কেজি প্রতি এসব চাল এখনো আগের মতোই ৬৩-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দেশী জাতের চালের মূল্য পাইকারি বাজারে কমেছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। যার কোন প্রভাব খুচরা বাজারে নেই। বিক্রেতারা জানান, জিরাশাইল বস্তাপ্রতি ৩১০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা, মিনিকেট সেদ্ধ ২৭০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা, আশুগঞ্জ বেতি ২৬০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে।

নগরীর কাজীর দেউরি বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা শওকত এন্ড সন্স এর মালিক আবু রেজা বলেন, হাওড়ে বন্যার পর দেশী চালের সঙ্কট দেখা দেয়। আমদানি করা চালের চেয়ে দেশী জাতের চালের মান উন্নত। তাই এ চালের চাহিদাও বেশি। কিন্তু দেশি চাল উৎপাদিত না হওয়ায় সঙ্কট রয়েই গেছে। ফলে এ চালের দাম কমেনি। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের মুখে আমদানি করা চালের সরবরাহ বাড়ায় দাম কেজি প্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

খুচরা পর্যায়ে চালের দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাল সঙ্কটের কারনে আমদানিকারক থেকে পাইকারি এমনকি খুচরা পর্যায়ের চাল ব্যবসায়িরাও কিছু না কিছু চাল মজুদ করেছে। অভিযানের মুখে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়িরা মজুদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও খুচরা পর্যায়ে এখনো রয়ে গেছে। ফলে চালের দাম কমার পর খুচরা ব্যবসায়িরা খুব কমই চাল কিনেছে।

এ ব্যাপারে চকবাজার খুচরা চাল ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, চড়ামুল্যে কেনা চাল এখনো বিক্রী শেষ হয়নি ব্যবসায়িদের। তাই এসব চাল বিক্রয় পর্যন্ত পাইকারি বাজারের সমহারে কম মূল্যে চাল বিক্রী সম্ভব নয়। তবুও অভিযানের ভয়ে ২ টাকা কমিয়ে চাল বিক্রী করছে খুচরা ব্যবসায়িরা। পাইকারি পর্যায়ের সমহারে মূল্য কমিয়ে চাল বিক্রী করতে আরও সময় লাগতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের ফলে পাইকারি বাজারে চালের মূল্য কেজি প্রতি ৬-৭টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে চালের মূল্য তেমন একটা কমেনি। এ ব্যাপারে খুচরা পর্যায়ে চাল ব্যবসায়িদের সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত চালের মূল্য না কমালে তাদের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

প্রসঙ্গত, চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে চট্টগ্রামে অভিযান শুরু করে। ওইদিন নগরীর চাক্তাইয়ে বদিউর রহমান অ্যান্ড সন্সে অবৈধ চালের মজুদ গড়ে তোলায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার ও এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ওইদিন চাল ব্যবসায়িদের হামলার সম্মুখীন হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর নগরীর পাহাড়তলির একটি গুদাম থেকে অবৈধ মজুদ ৮০ হাজার বস্তা চাল জব্দ করা হয়।