চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

রামগড়ের মাদ্রাসা ছাত্র ফেনীতে অপহৃত

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৭ ১১:০৭:১১ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৭ ১১:০৭:১১

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

জেলার রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের থানাচন্দ্রপাড়া এলাকার মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ জিহাদুল ইসলাম (১৫) গত দুই দিন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবী তাঁদের ছেলে কোন প্রতারক চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। নিখোঁজ জিহাদ রামগড়ের থানাচন্দ্রপাড়ার গ্রাম ডাক্তার মোঃ ইসমাইলের বড় ছেলে। সে ফেনীর লালপুল সোলতানিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেনির ছাত্র। এ ব্যাপারে গত ১৬ অক্টোবর ছেলে অধহৃত উল্লেখ করে তাঁর বাবা ফেনী মডেল থানায় ৮৭৮ নম্বরে একটি জিডি করেছেন এবং ফেনী র‌্যাব ৭ এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অপহৃতর বাবা মোঃ ইসমাইল জানান, আমার দুই ছেলে ফেনীর লালপুল সোলতানিয়া মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে পাড়ালেখা করে। বড় ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (১৫) সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে জাবির ২য় শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন। গত ১৫ অক্টোবর রবিবার সকাল ০৮টার সময় ফেনীর লালপুল বাসস্ট্রান্ড থেকে বারইয়ারহাট গামী সুপার বাস গাড়িতে ছোট ছেলে জাবির হোসেনকে বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়িতে তুলে দিয়ে বড় ছেলে পুনরায় মাদ্রাসায় ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও বড় ছেলে আর মাদ্রাসায় ফিরে যায়নি। এদিকে বিকেল ৫ টার সময় আমার স্ত্রীর মোবাইলে (০১৭৭০৬৮৩১৩৮) এই নম্বর থেকে ফোন করে আমার ছেলে ট্রেন দুর্গটনায় আহত হয়েছেন ছেলে বর্তমানে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে জরুরী রক্ত ও চিকিৎসার প্রয়োজন পাঠাতে বলা হলে ঢাকাস্থ আমার ছোট ভাই মোঃ ইউসুফ বিকাশের মাধ্যমে নম্বরটিতে (০১৭৬৩৬৩৪৩১১) তিনধাপে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা পাঠান এর পরপরই টাকা পাঠানো বিকাশ নাম্বরটি ও মোবাইলে কল আসা নাম্বার দুটোই বন্ধ রয়েছে।

অপহৃতের চাচা মোঃ ইউসুফ জানান, ভাতিজা দুর্ঘটনার খবর জানাতে পেরে প্রতারক চক্রের কথামত তিনধাপে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করি। এর পরপরই নাম্বরটি বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিকাশে টাকা পাঠানো মোবাইল নাম্বারটিতে হৃদয় নামে ইমো চালু রয়েছে এবং ইমোতে ব্যবহৃত একটি প্রোপাইল ছবিও পাওয়া গেছে। এই ছবি ও নাম্বারটির সূত্র ধরে কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।

মাদ্রাসা শিক্ষক ক্বারী বেলাল জানান, জিহাদ ছোট ভাইকে বাড়িতে পাঠাতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। জিাহাদের সাথে আরো একটি ছেলে নিখোঁজ রয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁরা দুইজন একসাথে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যান।

রামগড় থানা উপ-পরিদর্শক মোবারক হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি ফেনী হওয়াতে ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা দেয়া হবে ।