চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

‘ব্লু হোয়েল’-এ আসক্ত চবি শিক্ষার্থীর দেওয়া ভয়ংকর তথ্য

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৪ ২১:২৬:৪৩ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৪ ২১:২৬:৪৩

মরণঘাতি “ব্লু হোয়েল” গেইম খেলে রাজধানীর স্কুল শিক্ষার্থী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা আত্মহত্যা নিয়ে ভিন্নমত ও রহস্য থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসক্ত এক শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে হেফাজতে নিয়ে কাউন্সিলিং-এ বেরিয়ে আসে এই ডেথ গেইম খেলে ধাপে ধাপে আত্মহত্যার পথে পা বাড়ানোর নানা ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলত হতাশাগ্রস্ত অল্প বয়সী ছেলে মেয়েদের টার্গেট করা হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি রাজধানীর হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝর্ণা ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার পর ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। তার আত্মহত্যা ‘ব্লু হোয়েল’ গেইমে নাকি অন্য কোন কারণে তা এখনো ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গত ১১ই অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ওই গেইমে আসক্তির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় নতুন করে আবারো আলোচনায় আসে ‘ব্লু হোয়েল’ গেইমটি। তার কাছ থেকে উঠে আসে রাতের আঁধারে ছাদের রেলিং এ হাঁটা ও ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর রক্তাক্ত করার মতো নানা চমকে দেয়া তথ্য।

রাজন ছদ্ম নাম আসক্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসটা ঘুরে রাত ২টার সময় ফটোশুট করে ছবিটা দেওয়া হয়। প্রথম ধাপটা আমি পাঠাই। ২য় ধাপ হলো রেলিং-এর কার্নিশের উপরে উঠে রেলিং-এর কার্নিশে হাটা। এটাতে সাকসেস দেখাতে পারলে ৩য় স্টেপ দেয়। তারপর নিল তিমি আঁকাতে বলে। তো এটিও আমি পাঠিয়ে দেই। তারপর সাকসেস ফুল দেখানোর পর ফেসবুকে গেমটার লিংক আসে। এই লিংক আসার পরে মনের ভিতর আর কোনো সেন্স থাকে না।

এই গেইম নিয়ে ছেলে-মেয়েদের মাঝে আছে নানা কৌতুহল। কেউ জেনে আবার কেউ না জেনে খেলছে এই মরণ খেলা। তবে এই নিয়ে দু:শ্চিন্তার শেষ নেই অভিভাবকদের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিংক ক্লিক করলেই এই গেইমের ফাঁদে আটকে যায় সবাই। পরে প্রতিটি ধাপে এক একজন কিউরেটর নানা ভয়ংকর নির্দেশনা দিতে থাকে। নির্দেশনা না মানলে স্বজনদের মৃত্যুর হুমকিও দেয়া হয়

আইটি বিশেষজ্ঞ রাজিব দাশ বলেন, যারা অতিরিক্ত সাইকোলোজিকাল সমস্যায় ভোগেন তারা ৫০ তম ধাপে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে।

এদিকে মরণনেশা এই গেইম সর্ম্পকে সবাইকে সচেতন হতে বললেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানী এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী।

ফিলিপ বুদেইকিন নামের রাশিয়ার হতাশাগ্রস্ত এক যুবক ২০১৬ সালে এই গেইম তৈরি করেন। পরে অবশ্য পুলিশ তাকে আটক করলে আত্মহত্যার বিষয়টি স্বীকারও করেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে এই পর্যন্ত একশ ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।