চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হবে

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৩ ২২:১৫:২২ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ২২:২৪:০২

বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদেই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে ২৯তম কঠিন চীবর দান এবং শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ বাংলাদেশ এবং শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার পরিচালনা কমিটি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ ছিল। আপনারা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন কিনা? কারণ গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জনস্রোত নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে আছড়ে পড়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা জনস্রোত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আঘাত হানতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল দাবি করেন কাদের। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সময়মতো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোথাও কোনো অঘটন ঘটেনি। আমরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ। কোনো অবস্থাতেই রামুর বৌদ্ধ মন্দিরের সেই দুঃস্বপ্নের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এ ব্যাপারে সরকার সজাগ এবং সচেষ্ট আছে।

আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, পরিবেশ ক্ষুণ্ন হবে না। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। এর কারণ, সব মানুষ সমান নয়। আওয়ামী লীগ করে বলে পরিচয় দেয়, তারা কি সবাই ভাল মানুষ? এটা আমি মনে করি না। আবার যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে তাদের কোনো দল নেই। রামুর ট্র্যাজেডি ঘটিয়েছে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা। তাদের কোনো দল নেই।

শেখ হাসিনার সরকার এই দুর্বৃত্তদের যেকোনো মূল্যে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে সতর্ক আছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সংবিধানে কি লেখা আছে, মুসলমানদের অধিকার বেশি, বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টানদের কম? আপনারা কি প্রথম শ্রেণির নাগরিক নন? আপনারা কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক? তাহলে প্রথম শ্রেণির নাগরিক হয়ে ভয় পান কাকে? মাথা উঁচু করে থাকবেন, মাথা নত করবেন না। মাথা নত করলেই ওই সন্ত্রাসী-দুর্বৃত্তরা দুর্বলের ওপর আঘাত হানার সুযোগ পায়। নিজেদের বুকে বল রাখবেন। মনে রাখবেন, এই দেশ শুধু মুসলমানের নয়, এই দেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব মানুষের।

তিনি আরো বলেন, আমার চেয়েও আপনাদের বেশি ভালবাসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আপনারা কখনো নিজেদের একা ভাববেন না। আর কেউ না থাক, শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে। তিনি আগেও ছিলেন, আজও আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বলি না শান্তি চুক্তির সব বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। এখনো ভূমির মতো জটিলতা আছে। কিন্তু সরকার খুবই আন্তরিক এই ভূমি সমস্যার জটিলতা অবসান ঘটাতে। এটুকু বলতে পারি, এই সরকারের বাকি মেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার তথা শান্তি চুক্তির শতকরা ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হবে। আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে পারি।

তার আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা (অব.) মিয়ামনমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা কোনোভাবেই এটা মানতে পারি না। বৌদ্ধ হিসেবে লজ্জিত ও বিব্রত। আমরা এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ভয় হয়, রোহিঙ্গা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাকেও কেউ কেউ ধর্মীয়করণ করবে। তবে আমরা অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ প্রগতিশীল, তাদের কারণে রোহিঙ্গা সমস্যাটি ধর্মীয়করণ হবে না।

পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সভাপতি ও শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা-১৫ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মুজমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং প্রমুখ।